kalerkantho

শনিবার । ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৭ নভেম্বর ২০২১। ২১ রবিউস সানি ১৪৪৩

নির্বাচনী সহিংসতা

অবশেষে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে পুলিশ

অনলাইন ডেস্ক   

১৫ নভেম্বর, ২০২১ ০৮:৪৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অবশেষে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে পুলিশ

প্রতীকী ছবি

নির্বাচনী সংঘাতে আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার ও প্রাণহানি কমাতে অবশেষে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে নেমেছে পুলিশ। সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে সহিংসতা এড়াতে গত শুক্র ও শনিবার বিশেষ অভিযান চালানো হয়েছে। এই অভিযানে পুলিশ একটি বন্দুক, একটি দেশি পাইপগান উদ্ধার এবং দুজনকে আটক করেছে। এ ছাড়া কক্সবাজারেও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে সাঁড়াশি অভিযানে নামার সিদ্ধান্ত হয়েছে। গতকাল রবিবার জেলা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির মাসিক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নির্বাচনী সংঘাত ও একের পর এক প্রাণহানির ঘটনায় কালের কণ্ঠে গত শনিবার ‘আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার বাড়ছে’ শিরোনামে প্রধান সংবাদ এবং ‘একটি অস্ত্রও উদ্ধার হয়নি কক্সবাজারে’ শিরোনামে আরেকটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ সংবাদের পর কক্সবাজারের প্রতিটি থানায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের জরুরি নির্দেশনা পাঠিয়েছেন জেলার পুলিশ সুপার।

কালের কণ্ঠের হিসাব অনুযায়ী, চলমান ইউপি নির্বাচনে গতকাল পর্যন্ত নির্বাচনী সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছে ৪৩ জন। তাদের মধ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে ২০ জনকে। এই নির্বাচনে আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার বেশি হয়েছে নরসিংদী ও কক্সবাজার জেলায়। অন্যান্য এলাকায়ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

জগন্নাথপুরে অভিযান সম্পর্কে থানার ওসি ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী সহিংসতা রোধে অস্ত্র অভিযান শুরু হয়েছে।

থানা পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত শনিবার রাতে উপজেলার সৈয়দপুর-শাহারপাড়া ইউনিয়নের আটঘর গ্রামে অভিযান চালিয়ে আরশ আলী (৪৩) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের একটি দল। ওই সময় তাঁর দেওয়া তথ্যে একটি একনলা বন্দুক উদ্ধার করা হয়। গতকাল আদালতের মাধ্যমে আরশ আলীকে সুনামগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার বিকেলে উপজেলার চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের বেতাউকা গ্রাম থেকে বকুল মিয়া (৩০) নামের এক যুবককে দেশে তৈরি পাইপগানসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এদিকে কক্সবাজারে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির সভায় উপস্থিত সবাই জেলাজুড়ে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার অভিযান শুরুর বিষযে গুরুত্বারোপ করেন। কালের কণ্ঠসহ গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার কথা তুলে ধরে সভায় জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ নিজেই অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে সাঁড়াশি অভিযানে নেমে পড়ার ওপর জোর দেন।

সভায় উপস্থিত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ও জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা বলেন, ‘সমগ্র জেলাব্যাপী বেআইনি অস্ত্রের ঝনঝনানিতে মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত দুই ধাপের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে কক্সবাজারে খুন হয়েছে পাঁচজন মানুষ।’ তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান যতই বিলম্ব হবে ততই খুনখারাবি বাড়তে পারে।

সভায় জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, জেলা জাসদ সভাপতি নঈমুল হক চৌধুরী টুটুলসহ প্রায় সবাই অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য দেন। তৃতীয় ধাপে ২৮ নভেম্বরের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যাতে কোনো ধরনের সহিংস ঘটনা না ঘটে সে জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে কঠোর হওয়ার পরামর্শ দেন তাঁরা।

সভায় উপস্থিত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম তখন বলেন, ‘আমরা অস্ত্র উদ্ধারের প্রস্তুতি নিয়েছি। প্রতিটি থানায় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. হাসানুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পুলিশের কাজই হচ্ছে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করাসহ সমাজবিরোধীদের আটক করে আইনে সোপর্দ করা। কিন্তু নির্বাচনীসহ অন্যান্য কাজে পুলিশকে এত বেশি সময় দিতে হয়েছে যে তাতে নিয়মমাফিক অভিযানও কিছুটা ব্যাহত হয়েছে।’

ভোটের তিন মাসে কক্সবাজারে পাঁচজন খুন এবং ২০টি অস্ত্র ব্যবহার হওয়ার পরও কোনো অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এজাহারে বাদী অনেক সময় একটু-আধটু বাড়িয়ে তথ্য উল্লেখ করেন। হয়তো বা তদন্তকালে দেখা যাবে, হত্যা মামলাগুলোতে এত বিপুলসংখ্যক অস্ত্র ব্যবহার হয়নি।’

তবে তিনি জানান, কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর গত শনিবারই জেলার সব (আটটি) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছে জরুরিভাবে লিখিত নির্দেশনা দিয়েছেন বেআইনি অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে।



সাতদিনের সেরা