kalerkantho

রবিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৮ নভেম্বর ২০২১। ২২ রবিউস সানি ১৪৪৩

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের হুমকি!

অনলাইন ডেস্ক   

১৫ নভেম্বর, ২০২১ ০৮:২৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের হুমকি!

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার আটটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আটজন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। আগামী ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় ভোটগ্রহণকে সামনে রেখে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে নির্বাচনী মাঠ থেকে সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার জামপুর, সাদিপুর, নোয়াগাঁও, বারদি, সনমান্দী, পিরোজপুর, শম্ভুপুরা ও কাচঁপুর ইউনিয়নে আগামী ২৮ নভেম্বর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে উপজেলার সনমান্দি, বারদি, পিরোজপুর ও কাচঁপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত চারজন চেয়ারম্যান প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এ চারটি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আর নির্বাচন হচ্ছে না। চেয়ারম্যান ছাড়াও দুটি সাধারণ ওয়ার্ড এবং দুটি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে নির্বাচন হবে না। এ চারটি ওয়ার্ডে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চারজন সদস্য ইতোমধ্যে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা অভিযোগ করেছেন, ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের চাপে ও ভয়ভীতির কারণে তাঁরা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছেন।

গত শনিবার (১৩ নভেম্বর) উপজেলার বারদি ইউনিয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান বাবুলের বাসায় ওই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী লিটন মিয়াকে একটি কক্ষে আটকে রেখে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঘটনা তদন্তের পর সত্যতা পাওয়ায় রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ওই ওয়ার্ডের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আব্দুল আউয়ালকে আগামী তিন দিনের মধ্যে পুরো ঘটনার ব্যাখ্যা দেওয়ার কথা বলে চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে নির্বাচনী আইন লঙ্ঘন করার অভিযোগ এনে তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার  কথা উল্লেখ করা হয়।

সোনারগাঁ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে স্বীকার করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম।

বারদি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী লিটন মিয়া বলেন, 'শনিবার (১৩ নভেম্বর) রাতে চেয়ারম্যান সাহেবের বাসায় আমাদের ডেকে নিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর চাপ প্রয়োগ করা হয়। এ সময় আমার ভাই চাপ সহ্য করতে না পেরে চেয়ারম্যানের বাড়িতে স্ট্রোক করলে রাত ১টার দিকে আমরা ভাইকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসি। বর্তমানে তিনি একটি চিকিৎসা কেন্দ্রের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন। তাঁরা আমাকে ও আমার কর্মী-সমর্থকদের নানাভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। এ অবস্থায় আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।'

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতিকুল ইসলাম গতকাল রবিবার (১৪ নভেম্বর) দুপুরে তাঁর নিজের ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, 'উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে প্রার্থীদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। চেয়ারম্যানের পর এখন বিভিন্ন ওয়ার্ডে সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের বিনা ভোটে নির্বাচিত করার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। উপজেলার বারদি ইউনিয়নের একজন সদ্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত চেয়ারম্যানের বাড়িতে ওই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের একজন সদস্য প্রার্থীকে চাপ দেওয়া হয়েছে।'

বারদী ও শম্ভুপুরা ইউনিয়নের রিটার্নিং কর্মকর্তা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, 'প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য করার চেষ্টা চলছে- এমন অভিযোগের সত্যতা পেয়ে একজনকে আজ (গতকাল) রবিবার চিঠি দেওয়া হয়েছে।' 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতিকুল ইসলাম বলেন, 'উপজেলার আটটি ইউনিয়নে প্রতিদিন যেসব অভিযোগ আসছে তা রীতিমত ভয়ংকর। চেয়ারম্যান পদের পর এখন বিভিন্ন ওয়ার্ড সদস্য প্রার্থীদের চাপ দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য প্রার্থীদের একাধিক অভিযোগের পর আজ রবিবার (গতকাল) আমি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছি মানুষকে সচেতন করার জন্য।'



সাতদিনের সেরা