kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৯ ডিসেম্বর ২০২১। ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

ব্যক্তিগত বিরোধে নবনির্বাচিত ইউপি সদস্যকে হত্যা

পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি   

১৪ নভেম্বর, ২০২১ ২০:২৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ব্যক্তিগত বিরোধে নবনির্বাচিত ইউপি সদস্যকে হত্যা

ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে গাইবান্ধার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নবনির্বাচিত সদস্য আব্দুর রউফ মিয়াকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নন (র‌্যাব)-১৩-এর অধিনায়ক রেজা আহমেদ ফেরদৌস।

গ্রেপ্তার আসামি আরিফ মিয়ার উদ্ধৃতি দিয়ে রেজা আহমেদ ফেরদৌস বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইউপি সদস্য হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন আরিফ। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, আসামি আরিফ মিয়ার দুজন স্ত্রী ছিলেন। যারা তাকে ছেড়ে চলে যান। এর পেছনে ইউপি সদস্য আব্দুর রউফের হস্তক্ষেপ ছিল। আসামি আরিফ মিয়ার দাবি অনুযায়ী এই বিরোধের কারণে হত্যার ঘটনাটি ঘটিয়েছেন। তবে এর পেছনে আর অন্য কোনো মোটিভ রয়েছে কি না, তা তদন্ত সাপেক্ষে বলা যেতে পারে।

রবিবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) রংপুর সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান রেজা আহমেদ ফেরদৌস।

গ্রেপ্তার আরিফ মিয়া গাইবান্ধা সদর উপজেলার হাট লক্ষ্মীপুর গ্রামের ছাইপার রহমানের ছেলে। তিনি খাদ্য বিভাগের নৈশপ্রহরী। উচ্ছৃঙ্খল আচরণের কারণে সম্প্রতি তাকে গাইবান্ধা থেকে দিনাজপুরে বদলি করা হয়েছে। কিন্তু সেখানে তাকে যোগদান করতে দেননি অন্য কর্মচারীরা। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও রয়েছে।

রেজা আহমেদ ফেরদৌস জানান, শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার নবনির্বাচিত ইউপি সদস্য আব্দুর রউফ তার বন্ধুর সাথে মোটরসাইকেল যোগে হাটলক্ষ্মীপুর বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে মোটরসাইকেল থেকে নেমে হেঁটে ব্রিজে উঠার মুহূর্তে আগে থেকে ওঁৎ পেতে আরিফ মিয়াসহ দুর্বৃত্তরা আব্দুর রউফের পথরোধ করেন। পরে তাদের হাতে থাকা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে অতর্কিতভাবে আব্দুর রউফেরর ওপর হামলা করেন। এতে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে উপর্যুপরি আঘাত করা হয়।

এ সময় আব্দুর রউফের চিৎকারে তার বন্ধুসহ আশপাশের লোকজন ছুটে এলে আরিফসহ হামলাকারীরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আব্দুর রউফকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

এ ঘটনায় শনিবার নিহতের বড় বোন মমতাজ বেগম বাদী হয়ে আরিফ মিয়াকে প্রধান এবং অজ্ঞাত পরিচয়ের আরও ৬-৭ জনকে আসামি করে গাইবান্ধা সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকে পলাতক ছিলেন আরিফ মিয়া।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আলোচিত নবনির্বাচিত ইউপি সদস্য আব্দুর রউফ হত্যার ঘটনায় ছায়াতদন্ত শুরু করে র‌্যাব-১৩। এক পর্যায়ে শনিবার রাতে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা থেকে আরিফকে গ্রেপ্তার করা হয়। রবিবার বিকেলে তাকে গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদেরও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলন থেকে জানানো হয়।



সাতদিনের সেরা