kalerkantho

শনিবার । ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৪ ডিসেম্বর ২০২১। ২৮ রবিউস সানি ১৪৪৩

৮ পৃষ্ঠার চিরকুট লিখে স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা

বরিশালে গৃহকর্মীকে নির্যাতন

বরিশাল অফিস ও কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৪ নভেম্বর, ২০২১ ০৯:২৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



৮ পৃষ্ঠার চিরকুট লিখে স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে চুরির অপবাদ সইতে না পেরে আট পৃষ্ঠার চিরকুট লিখে সুবর্ণা আক্তার (১৬) নামের এক স্কুলছাত্রী ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার সাহেদল ইউনিয়নের দক্ষিণ সাহেদল গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত স্কুলছাত্রী সুবর্ণা একই গ্রামের আকবর হোসেনের মেয়ে। সে গলাচিপা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। খবর পেয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

সুর্বণার মা হালিমা খাতুন জানান, একই গ্রামের খসরু মিয়ার নাতির গলা থেকে একটি চেইন চুরি হয় গত ৫ অক্টোবর। এ চুরির ঘটনায় তাঁর মেয়েকে সন্দেহ করা হয়। বিষয়টি নিয়ে তিনি সুবর্ণাকে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। কিন্তু সে বারবার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। শিশুটিও তাকে শনাক্ত করতে পারেনি। তার পরও চেইনটি ফিরিয়ে দিতে চাপ দেওয়া হচ্ছিল। এ কারণে তাঁর স্বামীকেও খসরু মিয়া ও তাঁর লোকজন মারধর করেছেন। এই ঘটনায় স্কুলে যাওয়া-আসার পথে তাঁর মেয়েকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছিল এলাকার বখাটে ছেলেরা। এসব নিয়ে এলাকায় সম্প্রতি একটি সালিসও হয়। সেখানে ২০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে খসরু মিয়া। কিন্তু এ দাবি অগ্রাহ্য করেন তাঁরা। এসব ঘটনা সইতে না পেরে লোকলজ্জায় সুবর্ণা ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে।’ এ সময় ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন হালিমা খাতুন।

সুবর্ণার বড় বোন সাবিনা ইয়াসমিন জানান, চিরকুটে চুরির অভিযোগ অস্বীকারের পাশাপাশি সুবর্ণাকে হেনস্তার বিবরণ রয়েছে। একই সঙ্গে তার আত্মহত্যার জন্য দায়ী লোকজনের নামও উল্লেখ করে বিচার চেয়েছে। পুলিশ চিরকুটটি নিয়ে গেছে।

হোসেনপুর থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, লাশ এখনো মর্গে থাকায় পরিবারের লোকজন মামলা দিতে থানায় আসেননি। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে বরিশাল নগরীতে স্বর্ণালংকার ও টাকা চুরির অভিযোগ তুলে ১৪ বছরের শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শুক্রবার রাত ১১টার দিকে নগরীর আমতলাসংলগ্ন বাংলাবাজার সড়ক এলাকার হাজিবাড়ি গলিতে এই ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নিয়ে গেছে পুলিশ। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার রাতে বাড়ির পাশের হাজিবাড়ি গলিতে প্রকাশ্যে ওই গৃহকর্মীকে মারধর করছিলেন স্থানীয় শিক্ষক হুমায়ুন কবিরের স্ত্রী। এ সময় হুমায়ুন কবিরও সেখানে দাঁড়িয়ে গৃহকর্মীকে বকাঝকা করছিলেন। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি কোতোয়ালি মডেল থানাকে অবহিত করলে পুলিশ এসে শিশুটিকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

হুমায়ুন কবির জানান, মেয়েটি না বলে বারবার ঘর থেকে বেরিয়ে যাচ্ছিল। এভাবে হয়রানি করার জন্য তাকে কয়েকটি চড়-থাপ্পড় দেওয়া হয়েছে। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার আলী আশরাফ ভুঁঞা বলেন, ‘আমরা শিশুটির মা-বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তাঁদের আসতে বলা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ দিলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



সাতদিনের সেরা