kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২ ডিসেম্বর ২০২১। ২৬ রবিউস সানি ১৪৪৩

গুজবের বিলে শাপলার সমাহার!

ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

১৩ নভেম্বর, ২০২১ ২২:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গুজবের বিলে শাপলার সমাহার!

পচা পানিতে ডুব দিলে বা পান করলে মনোবাসনা পূর্ণ হয়, প্রতিবন্ধী কিংবা শারীরিক অক্ষম যে কেউ বিলের পানিতে ডুব দিলেই হয়ে যাচ্ছে সুস্থ, অন্ধ ব্যক্তির ও নাকি দৃষ্টি ফিরেছে বিলের পানিতে ডুব দিয়ে, হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন এসে ভিড় জমানো শুরু করে এখান ভিড় মোকাবেলা করতে হিমশিম খেতে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রীতিমত শুরু হয় তোলপাড়।

গত দুই বছর আগে এমন ঘটনা ঘটে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের চেচুয়া বিলে, কে বা কারা এমন গুজব রটিয়েছে তার হদিস জানা ছিল না কারো। কিন্তু কুসংস্কার আচ্ছন্ন হয়ে বিলের পানিতে ডুব দিতে শুরু করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হুজুগে জনগণ। শুধু বিলের পানিতে ডুব দেওয়াই নয়, বিলের ময়লা পানি পান করাও শুরু করে তারা, তাতে অসুস্থ হয়ে উঠে অনেকেই, অত:পর প্রশাসনের পদক্ষেপ নেয় এই কর্মকাণ্ড বন্ধের, নিষিদ্ধ করে এই বিলে প্রবেশের। নিরব পরিবেশ পেয়ে প্রকৃতির অপরূপ রুপে ফুটে উঠেছে লাল শাপলা।

উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটারের পথ হবে এই বিলের দূরত্ব। রামপুর ইউনিয়নের বিশাল বিল এটি। সারাদেশের মানুষ এ বিলকে চিনেছে একটি অলৌকিক ঘটনার গুজবকে কেন্দ্র করে। সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধের কারণেই প্রকৃতির এক অপরূপ রূপ ফুটে উঠেছে গুজবের বিলে। পুরো বিল জুড়েই দেখা মিলছে লাল শাপলার, শাপলার সৌন্দর্যে বিলে এখন চোখ মেললেই কাজ করে প্রশান্তির, প্রতিদিন অনেক দর্শনার্থী ভিড় জমাচ্ছে এখানে, নৌকায় ঘুরছে বিলে, নিজের মতো করে সৌন্দর্য উপভোগ করছে প্রকৃতিপ্রেমীরা। প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই আসছে দর্শনার্থীরা। আগতদের আনন্দ দিতে এলাকার ছোট শিশুরা পানিতে নেমে ফুল তুলে দিচ্ছে তাদের হাতে। কেউ কেউ আবার শাপলা তুলে বিক্রিও করছে পর্যটকদের হাতে।

বিশাল এই বিলের যে অংশে ফোটেছে লাল শাপলা, সেখানে যেতে বিড়ম্বনাও আছে পর্যটকদের। ভালো কোনো যাতায়াত ব্যবস্থা না থাকায় অনেকটা পথ পায়ে হেঁটে যেতে হয় কাঙ্খিত সেই শাপলার দেখা পেতে। মঙ্গলবার ভোরে গিয়ে দেখা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দলবেধে শাপলার সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসেছে। ফুলের অধিক সমাহার কাছ থেকে বা ছুঁয়ে দেখতে নামতে হয় পানিতে, ভিজাতে হয় জামা। তবুও ভ্রমণ পিপাসুদের বিন্দু মাত্র পিছুটান নেই প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে।

ট্যুরিজমে কাজ করা শামীম ইশতিয়াক বলেন, আমরা ট্যুরিস্ট গ্রুপ নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভ্রমণ করে থাকি। সম্প্রতি ফেসবুকে চেচুয়ার বিলে শাপলার সমাহারে মুগ্ধ হয়ে ভ্রমণ পিপাসুদের আগ্রহে আমরা ইতিমধ্যে দুটি গ্রুপ নিয়ে শাপলার সৌন্দর্য উপভোগ করেছি।

স্থানীয় চেয়ারম্যান নাজমুল সরকার বলেন, দুবছর আগে এই বিলের রোগ মুক্তি ও মনোবাসনা পূর্ণের গুজবের কারণে বেশ হিমশিম খেতে হয়েছে। বর্তমানে বিলে লাল শাপলার বাহারে পর্যটকদের মন আকৃষ্ট করেছে। সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত এখানে শত শত প্রকৃতিপ্রেমীরা আনন্দ উপভোগ করে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান বলেন, নতুন যোগদানের পরই শুনেছি চেচুয়া বিলের গুজব কাণ্ডের কথা। তবে এখানে লাল শাপলার সমাহার যেকোনো প্রকৃতিপ্রেমীকে মুগ্ধ করে। চেচুয়ার সৌন্দর্য ধরে রাখতে ও পর্যটকদের নিরবিচ্ছিন্ন প্রকৃতি উপভোগের জন্য সবধরনের সহযোগিতা ও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

সৌন্দর্য রক্ষায় ইতিমধ্যে স্থানীয়ভাবে বিলে ফুল তুলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে, ঘুরতে আসা মানুষকেও সহযোগিতা করছে এলাকাবাসী, দর্শনার্থীদের নিয়মানুবর্তিতায় হয়তো এভাবেই প্রতি বছর বিলটি হয়ে উঠবে একটি সৌন্দর্যপূর্ণ স্থান হিসেবে, যা ত্রিশাল উপজেলার নতুন একটি দর্শনীয় স্থানের সূচনা করবে বলে মনে করছেন ভ্রমণপিপাসু প্রকৃতিপ্রেমীরা।



সাতদিনের সেরা