kalerkantho

শনিবার । ১৫ মাঘ ১৪২৮। ২৯ জানুয়ারি ২০২২। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

আড়াই লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে পেলেন ছেলেকে

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি   

১০ নভেম্বর, ২০২১ ০১:১৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আড়াই লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে পেলেন ছেলেকে

যশোরের অভয়নগরে অপহরণের ১১ ঘণ্টা পর আড়াই লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে একমাত্র ছেলে ইব্রাহিমকে (৪) ফিরে পেয়েছেন বাবা-মা। সোমবার (৮ নভেম্বর) সকালে উপজেলার শ্রীধরপুর ইউনিয়নের বর্ণী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অপহৃত ইব্রাহিম বর্ণী গ্রামের ইসলাম মোল্যার ছেলে।

ইসলাম মোল্যা কালের কণ্ঠকে বলেন, নওয়াপাড়া বাজারে আমার একটি চায়ের দোকান রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সেই দোকানের ওপর নির্ভর করে আমার সংসার চলে। সোমবার ঘটনার দিন সকালে আমি দোকানে ছিলাম। বেলা আনুমানিক ৩টার দিকে মোবাইল ফোনে জানতে পারি, আমার একমাত্র ছেলে ইব্রাহিমকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। দ্রুত বাড়ি ফিরে গেলে আমাকে একটি চিঠি দেখানো হয়। চিঠিতে আমার ছেলেকে অপহরণ করা হয়েছে এবং মুক্তিপণ হিসেবে তিন লাখ টাকা নিয়ে মাওয়া ঘাটে আসতে বলা হয়েছে। ঘটনাটি পুলিশকে জানালে ছেলেকে হত্যা করা হবে বলে চিঠিতে লেখা রয়েছে। একমাত্র ছেলের মৃত্যুর ভয়ে আমি পুলিশকে না জানিয়ে ধারদেনা করে আড়াই লাখ টাকা জোগাড় করি। সন্ধ্যায় আমার স্ত্রী ও ছেলের মামা আবু সুফিয়ানকে চিঠির নির্দেশনা মোতাবেক আড়াই লাখ টাকা দিয়ে মাওয়া ঘাটে পাঠিয়ে দিই।

ইব্রাহিমের মামা আবু সুফিয়ার বলেন, একমাত্র ভাগ্নেকে হারানোর ভয়ে পুলিশকে না জানিয়ে বোনকে সঙ্গে নিয়ে মাওয়া ঘাটে চলে যাই। রাত আনুমানিক ১০টার সময় মাওয়া ঘাট সংলগ্ন একটি সড়কে আমাদেরকে আসতে বলা হয়। সেখানে পৌঁছলে একটি প্রাইভেটকার থেকে মাথায় হেলমেট পরা দুই ব্যক্তি আমাদের কাছে আসে এবং মুক্তিপণের তিন লাখ টাকা দিতে বলে। অনেক কষ্টে আড়াই লাখ টাকা জোগাড় করা হয়েছে এমনটি জানালে তারা ওই টাকা নিয়ে প্রাইভেটকার থেকে ইব্রাহিমকে নামিয়ে দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।

শিশু ইব্রাহিমের মা বিউটি বেগম কালের কণ্ঠকে জানান, সোমবার ঘটনার দিন আনুমানিক বেলা ১১টার সময় বাড়ির উঠানে বসে আইসক্রিম খাচ্ছিল ইব্রাহিম। কিছুক্ষণ পর ইব্রাহিমকে উঠানে না পেয়ে প্রতিবেশীদের বাড়িতে খোঁজাখুঁজি শুরু করি। এরপর উঠানে একটি সাদা কাগজে লেখা চিঠি পাই। চিঠি পড়ার পর আমার জ্ঞান হারিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে স্থানীয় পাথালিয়া পুলিশ ক্যাম্পের আইসি এসআই শামছুর রহমান জানান, শিশু ইব্রাহিম অপহরণের বিষয়ে তেমন কিছু বলতে পারব না। ওই পরিবারের পক্ষ থেকে মৌখিক বা লিখিতভাবে কোনো অভিযোগ করা হয়নি। সোমবার বিকেলে ইসলাম মোল্যার বাড়িতে অনেক লোকজনের উপস্থিতির খবর পেয়ে সেখানে গিয়েছিলাম। বেনামে লেখা একটি চিঠি দেখালেও ইব্রাহিম অপহরণের বিষয়ে পরিষ্কার করে কেউ কিছু বলেনি বা অভিযোগ করেনি। তার পরও বিষয়টি অভয়নগর থানা ও বিভিন্ন ক্যাম্পে ফোন করে জানিয়ে নিজেই খোঁজাখুঁজি শুরু করি। রাতে জানতে পারি, শিশু ইব্রাহিমকে তার পরিবার ফিরে পেয়েছে।



সাতদিনের সেরা