kalerkantho

সোমবার । ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৬ ডিসেম্বর ২০২১। ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

এমপি মোকতাদিরের আহ্বান

'আসেন আমরা নতুন করে প্রেম-ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হই'

প্রায় তিন বছর আগে এই গ্রামে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছিলেন তিনি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

৯ নভেম্বর, ২০২১ ১১:৪৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'আসেন আমরা নতুন করে প্রেম-ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হই'

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নাটাই উত্তর ইউনিয়নের রাজঘর গ্রামে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছিলেন সংসদ সদস্য র. আ. ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদের ভোটের দিন কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ আক্রমণের শিকার হন। ভোটকেন্দ্রের কক্ষে আটকে পড়া সংসদ সদস্যকে পুলিশ ও দলের নেতাকর্মীরা কোনো রকমে রক্ষা করেন। ভোটগ্রহণ বন্ধ করে দেওয়া হয় ওই কেন্দ্রে। এ সময় মো. ইসরাইল নামে স্থানীয় একজন গুলিতে নিহত হন। 

সেই ঘটনার প্রায় তিন বছর পর গতকাল সোমবার সকালে নিজ সংসদীয় এলাকার ওই গ্রামে গেলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য মোকতাদির চৌধুরী। রাজঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নামে যে কেন্দ্রে তিনি হামলার শিকার হয়েছিলেন, সেটির নতুন দ্বিতল ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন সংসদ সদস্য। 

এ সময় নিজে সব ভুলে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, আমার কোনো রাগ-ক্ষোভ নাই। আমার সঙ্গে কী হয়েছে তা পরদিনই ভুলে গেছি। আসেন আমরা নতুন করে প্রেম-ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হই। সংসদ সদস্যের বক্তব্যকে সবাই করতালির মাধ্যমে স্বাগত জানান। 

এ সময় সংসদ সদস্য আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, তফসিল ঘোষণা হলে নিয়ম অনুসারে ইউনিয়ন পর্যায়ে আসা যাবে না বিধায় আগেই সবার প্রতি এ আহ্বান রইল।

এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজঘর গ্রামের বাসিন্দা ও নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ খসরু।  এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আল-মামুন সরকার, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ইয়ামিন হোসেন, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম ভূইয়া, সাধারণ সম্পাদক এম. এ. এইচ মাহবুব আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মোকতাদির চৌধুরীর রাজঘর এলাকার সব ধরনের উন্নয়নের আশ্বাস দেন। এলাকার বিভিন্ন রাস্তাঘাট, কমিউনিটি ক্লিনিকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নে নিজের ইচ্ছার কথা পোষণ করেন। পূর্ববর্তী ঘটনা ও দীর্ঘদিন পর সংসদ সদস্য এলাকায় আসার কারণে অনুষ্ঠানটি লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে। দ্বিতল ভবনটির নির্মাণ ব্যয় ৭৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা। 

এ সময় মোকতাদির চৌধুরী আরো বলেন, রাজঘর গ্রাম যেন হয় সত্যিকারের রাজঘর। রাজঘর যেন দেখতে হয় সত্যিকারের রাজবাড়ির মতো। আমার পক্ষ থেকেই সেই চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। আমি কথার ফুলঝুড়ি পাঠাব না। আমি যা বলি তা করি। এখানে সব ধরনের উন্নয়নকাজ করা হবে। আমার পক্ষ থেকে উন্নয়নচেষ্টার কোনো ত্রুটি হবে না।

সংসদ সদস্য সেদিনের ঘটনার কথা উল্লেখ করে আরো বলেন, আমি এ বিষয়ে কোনো অ্যাকশনে যাইনি। যে মামলাটা হয়েছে সেটা সরকার বাদী মামলা। সেটা আমাদের জানার বাইরে। তবে এ মামলায় কাউকে হয়রানি করা হয়নি। মামলার বিষয়ে জেনে আর যেন কোনো সমস্যা না হয় সে বিষয়টিও দেখব।



সাতদিনের সেরা