kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৯ ডিসেম্বর ২০২১। ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ, প্রতিবাদ

মনোহরদী (নরসিংদী) প্রতিনিধি   

৬ নভেম্বর, ২০২১ ২০:৩৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ, প্রতিবাদ

নরসিংদীর মনোহরদীতে বিদ্যালয়ের মাঠে বহুতল ভবন নির্মাণ করার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, পরিচালনা কমিটির সদস্য ও স্থানীয়রা। আজ শনিবার সকালে উপজেলার ৯৪নং মইশাকান্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আলমগীর হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা সামসুল হক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক ইউপি সদস্য তোতা মিয়া, আব্দুল কাদির, আব্দুর রহমান বাতেন, রেজাউল করিম টিপু, হুমায়ূন কবির প্রমুখ।

জানা যায়, ১৯৪৭ স্থানীয় জমাত আলী নামে এক ব্যক্তি মইশাকান্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে তিন দাগে ৩৮ শতাংশ জমি দান করেন। পূরনো এ বিদ্যালয়ের সামনে মনোরম পরিবেশে সুন্দর একটি খেলার মাঠ রয়েছে। মাঠের দক্ষিণ পাশ দিয়ে এলাকার বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াতের জন্য একটি পাকা সড়কও রয়েছে। বর্তমানে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ দখল করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের জমিদাতার নাতি মাঞ্জারুল হক মনি, হাবিবুল হক হিরন বিরুদ্ধে। এর প্রতিকার চেয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা সামসুল হক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও কোনো প্রতিকার হচ্ছে না। 

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠ দখল করে ভবন নির্মাণ করার ফলে স্কুলের মাঠও বিনষ্ট হচ্ছে। এতে শিশুদের বিনোদনে বিঘ্ন ঘটবে। আমরা এলাকাবাসী খেলার মাঠ দখলের কার্যক্রম থেকে পরিত্রাণ চাই।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আলমগীর হোসেন বলেন, ১৯৪৭ সালে এই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য ৩৮ শতক জমি দান করা হয়েছিল। বিদ্যালয়ের মাঠটি অত্যন্ত ছোট, তারপরেও যদি আবার এখানে পুরো মাঠ দখল করে ভবন তোলা হয় তাহলে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হবে। এলাকার সুশীল সমাজ বিদ্যালয় মাঠে ভবন নির্মাণ বন্ধ করার দাবি করেছেন। তাছাড়া পর্চা সংশোধনের বিষয়ে আদালতে মামলা দায়ের করা হবে।

এ বিষয়ে হাবিবুল হক হিরন বলেন, যেখানে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে ওই জমি আমাদের। বিদ্যালয়ের নামে অন্য জায়গায় জমি রয়েছে। তাছাড়া একজন সচিব এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে এখানে ভবন নির্মাণ শুরু হয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামীম ইকবাল বলেন, মাঠ দখল করে নতুন ভবন নির্মাণ করায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা বন্ধ হয়ে যাবে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন ভূঁইয়া বলেন, যারা ভবন নির্মাণ করছেন তাদের দাবি ওই জমি বিদ্যালয়ের নয়। তবে ভবন নির্মাণ হলে শিক্ষার্থীদের খেলার জায়গা থাকবে না।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এস এম কাসেমের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি মিটিংয়ে আছেন বলে সংযোগ কেটে দেন। 



সাতদিনের সেরা