kalerkantho

শনিবার । ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৭ নভেম্বর ২০২১। ২১ রবিউস সানি ১৪৪৩

ভোলা সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

নিজ পদ ছেড়ে অন্য পদে ২৮ বছর! বার বার চিঠি দিয়েও বিফল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

ভোলা প্রতিনিধি   

৬ নভেম্বর, ২০২১ ১২:৪০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নিজ পদ ছেড়ে অন্য পদে ২৮ বছর! বার বার চিঠি দিয়েও বিফল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

ভোলা সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারী-কাম-হিসাবরক্ষক মো. ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য সহকারী হয়েও বিধি বহির্ভুতভাবে ২৮ বছর ধরে অফিস সহকারী পদে চাকরি করার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর একাধিকবার তাকে স্বপদে ফিরে যেতে চিঠি দিলেও তিনি অফিস সহকারী পদেই কাজ করে যাচ্ছেন। বর্তমানে তিনি সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারী পদে কর্মরত আছেন। এ পদে চাকরিকালীন তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকবার ঘুষ গ্রহণসহ নানা অনিয়মেরও অভিযোগ ওঠে। তিনি এ পদে থেকে চলতি বছরে ভোলা সদর হাসপাতালের জমি নিয়ে হাসপাতালের পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলাও দিয়েছেন। 

জানা গেছে, মো. ওমর ফারুক ১৯৮৮ সালের জুন মাসে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য প্রকল্পের আওতায় স্বাস্থ্য সহকারী পদে চাকরিতে যোগদান করেন। পরে ১৯৯৩ সালে ভোলার তৎকালীন সিভিল সার্জন ১৯৮৫ সালের নিয়োগ বিধি বহির্ভুতভাবে তাকে অফিস সহকারী পদে পদায়ন করেন। বিষয়টি বিধি বহির্ভুত হওয়ায় ২০০১ সালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ওমর ফারুককে স্বপদে ফিরে যেতে একটি আদেশ জারি করে। এরপরও নিজের ইউনিয়ন স্বাস্থ্য সহকারী পদে ফিরে না গিয়ে দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে ভোলা থেকে দৌলতখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অফিস সহকারী পদে বদলি হয়ে যান। সেখানে থাকাকালে ঘুষ গ্রহণের দায়ে অভিযুক্ত হওয়ায় তাকে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি করা হয়। লালমোহনে থেকে অভিযুক্ত হয়ে দৌলতখানের খায়ের হাট ৩০ শয্যা হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে অবৈধ উপায়ে পুনরায় ভোলা সদর হাসপাতালে বদলি হয়ে আসেন। সর্বশেষ তাকে সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি করা হয়। বর্তমানে সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারী পদে কর্মরত রয়েছেন। 

অপরদিকে যে সকল স্বাস্থ্য সহকারীদের অফিস সহকারী, ক্যাশিয়ার, স্টোর কিপারসহ বিভিন্ন অফিসিয়াল পদে পদায়ন করা হয়েছে তাদের আদেশ বাতিল করে পূর্বের পদে ফিরে যেতে ২০১৩ সালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর একটি আদেশ জারি করে। একই আদেশে পূর্বে যারা নিজ পদে ফিরে যাননি, তাদের তথ্য মহাপরিচালক বরাবর প্রেরণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। 

একই বছরে বরিশাল আঞ্চলিক স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কাকে কোন পদে পদায়ন করতে পারবে তার একটি নির্দেশনাও জারি করে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য সহকারী একমাত্র সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ছাড়া অন্য কোনো পদে যেতে পারবেন না।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একাধিক চিঠি ও নির্দেশনা উপেক্ষা করে কীভাবে ওমর ফারুক ২৮ বছর ধরে অবৈধভাবে চাকরি করে আসছেন, সে ব্যাপারে সাধারণ মানুষের মনে ভোলার স্বাস্থ্য বিভাগ নিয়ে নানা নেতিবাচক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এছাড়াও ওমর ফারুক ভোলা সদর হাসপাতালে অফিস সহকারী থাকার সুযোগে হাসপাতালের অধিগ্রহণকৃত জমি নিজের নামসহ মা ও ভগ্নিপতির নামে রেকর্ড করে নেন। পরে ওই জমিতে দোকান নির্মাণ করে ভাড়া দেয়। বিষয়টি নিয়ে গত কিছু দিন আগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বাধা দিলে ওমর ফারুক ও তার পরিবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবসহ ৫ জনকে আসামি করে ভোলার সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলা করেন। 

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মো. ওমর ফারুক বলেন, আমি বিধি মোতাবেক প্রধান সহকারী পদে আছি। আমাকে কর্তৃপক্ষ এ পদে পদায়ন করেছে। আমি একা না, ভোলায় এরকম আরো ২০ জনের মতো আছেন।

হাসপাতালের জমির বিষয়ে ওমর ফারুক বলেন, আবার বাবা স্থানীয়দের কাছ থেকে আমাদের মা ও ভাই-বোনদের নামে জমি ক্রয় করেছেন। আমি হাসপাতালের কোনো জমি দখল করিনি।

ভোলার সিভিল সার্জন ডা. কেএম শফিকুজ্জামান ওমর ফারুকের পদায়নের বিষয়টি বিধি বহির্ভুত উল্লেখ করে বলেন, ওমর ফারুকের ব্যাপারে একটি অভিযোগ এসেছে। অভিযোগের আলোকে আমরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। কমিটি তাদের তদন্ত রিপোর্ট দিয়েছে। রিপোর্টটি পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিভাগীয় পরিচালকের মাধ্যমে মহাপরিচালক বরাবর পাঠানো হয়েছে।  



সাতদিনের সেরা