kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৩০ নভেম্বর ২০২১। ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৩

মির্জাপুরে নদী ভাঙন : স্কুল মাঠ ও ভবন রক্ষায় স্থাপিত ব্লকে ধস

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি   

৪ নভেম্বর, ২০২১ ১৭:০৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মির্জাপুরে নদী ভাঙন : স্কুল মাঠ ও ভবন রক্ষায় স্থাপিত ব্লকে ধস

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের হাট ফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয় রক্ষা বাঁধে ধস দেখা দিয়েছে। বিদ্যালয়টি রক্ষায় মাঠের দক্ষিণ পাশে বংশাই নীর পাড়ে পানি উন্নয়ন বার্ডের বসানো ব্লকের প্রায় ১০০ ফুট জায়গা ধসে পড়েছে। নদী ভঙনের কবল থেকে বিদ্যালয়টি রক্ষায় কয়েক ফায় স্থানান্তর করাও হয়েছে। নতুন করে ব্লক নীগর্ভে ধসে যাওয়ায় বিদ্যালয়টির মাঠ ও ভবন বংশাই নদীর ভাঙনের কবলে পড়তে পারে বলে শিক্ষক শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নে বংশাই নদীর তীরবর্তী স্থানে ১৯৭১ সালে হাট ফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর ফতেপুর ইউনিয়নের ফতেপুর, পারদিঘী, থলপাড়া, সুতানরি, গোবিন্দপুর, মটেশ্বর, বহনতলী ও মহেড়া ইউনিয়নের টেঘুরি, গোড়াকী ও আদাবাড়িসহ ১০/১২ গ্রামের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া করার সুযোগ সৃষ্টি হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ৮৪৩ জন শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিদ্যালয়টি কয়েক দফায় বংশাই নীর ভাঙনের কবলে পড়ে। এতে বিদ্যালয়ের মূল অংশ নদী গর্ভে চলে যায়। সর্বশেষ ১৯৯৩ সালে বর্তমান জায়গায় বিদ্যালয়টি স্থানান্তর করা হয়। সেখানেও বিদ্যালয় মাঠ ও ভবন নদী ভাঙনের কবলে পড়ে। তখন স্থানীয় সাংসদ মো. একাব্বর হোসেনের সুপারিশে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড বিদ্যালয় রক্ষায় মাঠের দক্ষিণাংশে ব্লক স্থাপন করে। এতে বিদ্যালয়টি ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পায়। ব্লক স্থাপনের ৭ বছর পর গত শনিবার (৩০ অক্টোবর) ভোরে হঠাৎ করে স্থাপন করা ব্লকের কিছু অংশ ধসে পড়ে।

স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করেন, বর্ষা মৌসুমে ইঞ্চিন চালিত ২০/২৫টি নৌকা প্রতিদিন ব্লকের ওই স্থানে ভিড়ে। নৌকাগুলো পারে আটকে রাখার জন্য নৌকার শ্রমিকরা বড় বড় লোহা ব্লকের মাঝে দেবে রাখে। এতে ব্লকের মাঝে ছিদ্র হয়। ছিদ্র দিয়ে পানির স্রোত প্রবেশ করে ব্লকের নিচ থেকে মাটি সরিয়ে দেয়। পরে এই ধসের সূত্রপাত হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

হাট ফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরী ইয়াছিন আলী জানান, ভোরে তিনি হঠাৎ বিকট শব্দ শুনতে পেয়ে নদীর পাড়ে এগিয়ে গিয়ে দেখেন মাঠের ক্ষিণপাশে ব্লক লাগানো অংশের মাঝামাঝি এলাকায় ধসে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি ভয় পেয়ে ওই স্থান থেকে নিরাপ দূরত্বে চলে আসেন এবং প্রধান শিক্ষককে মুঠোফোন বিষয়টি অবহিত করেন।

এসএসসি পরীক্ষার্থী শুভ মিয়া, আবু সাইদ ও রিজন মিয়া জানান, প্রতিদিন বিকেলে সহপাঠীদের সাথে স্কুল মাঠে ফুটবল খেলি। ব্লক ধসে ভাঙন শুরু হওয়ায় আমরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি।

বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র ও মির্জাপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আবুল কাশেম খান জানান, হাট ফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয় ইতিপূর্বেও কয়েক ফায় নী ভাঙনের কবলে পড়ে স্থানান্তরিত হয়েছে। এবার নদীগর্ভে চলে গেলে স্থান পরিবর্তন করা ছাড়া উপায় থাকবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক প্রল্লাথ চন্দ্র সরকার, সহকারী শিক্ষক রাসেল খান ও কম্পিউটার অপারেটর রেজাউল করিম জানান, ব্লক ধসে প্রায় ৬/৭ বছর পর বিদ্যালয়টিতে আবার ভাঙন আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফরিদ হোসেন সাংবাদিকদের জানান, বিদ্যলয়ে গিয়ে ব্লক ধসের বিষয়টি দেখেন। পরে তিনি বিষয়টি টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীকে জানিয়েছেন বলে জানান।

ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠ ও ভবন রক্ষায় ধসে পড়া অংশ দ্রুত মেরামতের দাবি জানিয়েছেন।

মির্জাপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. হারুন অর রশিদ বলেন, বিদ্যালয়টি বংশাই নদী ভাঙনের ঝুঁকিতে ছিল। মাঠের দক্ষিণাংশে ব্লক স্থাপন করার পর ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পেলেও হঠাৎ ধসের খবরে তিনি উদ্বিগ্ন। যেকোনো সময় ভবনসহ মাঠ ভাঙনের কবলে পড়ে নী গর্ভে চলে যেতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করেছেন।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম জানান, ব্লক ধসের বিষয়টি জেনেছি। শুস্ক মৌসুম হওয়ায় স্থায়ী মেরামতের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে মেরামত করা হবে বলে তিনি জানান।



সাতদিনের সেরা