kalerkantho

শনিবার । ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৭ নভেম্বর ২০২১। ২১ রবিউস সানি ১৪৪৩

কমলনগরে ইউপি নির্বাচন

প্রার্থীর ঘোষণা 'জুতাপেটা করলেই পুরস্কার', আরেকজন বলছেন 'লাঠি প্রস্তুত রাখবেন'

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি    

৪ নভেম্বর, ২০২১ ১৩:৩৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রার্থীর ঘোষণা 'জুতাপেটা করলেই পুরস্কার', আরেকজন বলছেন 'লাঠি প্রস্তুত রাখবেন'

ভোটকেন্দ্রে বহিরাগতদের দাপট ও ব্যালট পেপার নিয়ে 'টানাটানি' ঠেকাতে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী ‘যুদ্ধের’ ঘোষণা দিয়েছেন। প্রার্থীদের পাল্টাপাল্টি হুংকারে উত্তপ্ত হচ্ছে চরের এ জনপদ। তবে দ্বিতীয় ধাপের এ নির্বাচনে আজ বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) দুপুর পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। 

পথসভায় প্রার্থীরা পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়ে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বাণিজ্য, নেতাদের রহস্যময় ভূমিকা, ভোটে বহিরাগতদের দাপট ও খুনোখুনির আশঙ্কা করছেন। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন সাধারণ ভোটার ও স্থানীয় লোকজন। ভোটকেন্দ্রে বহিরাগতরা নারীদের ব্যালট পেপার নিয়ে কেউ টানাটানি করলে তাকে জুতাপেটা করা হলে পুরস্কার দেওয়া হবে- এক প্রার্থীর এমন ঘোষণাও এখন আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছে।

নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী আশরাফ উদ্দিন রাজন রাজু (মোটরসাইকেল) ও খালেদ সাইফুল্লাহ (হাতপাখা) রীতিমতো ‘যুদ্ধের’ ঘোষণা দিয়েছেন। তাদের বক্তব্যের ভিডিও ফুটেজ কালের কণ্ঠের সংগ্রহে রয়েছে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ প্রতিদিন প্রচারণার সময় প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী এবং তাদের অনুসারীদের হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন। কয়েকদিন ধরে পথসভায় তার সাফ বক্তব্য- ভোটে বহিরাগত ক্যাডাররা আসলে পা ভেঙে রেখে দেবো। তারা (বহিরাগত) আসার আগে যেন মা-বাবা, স্ত্রী-ছেলে-মেয়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আসে। বক্তব্যে নারীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, কেন্দ্রে ব্যালট পেপার নিয়ে কেউ টানাটানি করলে পায়ের জুতা খুলে দুই গালে ঠাস-ঠাস করে বাড়ি দেবেন। তাহলে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার পাবেন। আর জুতা দিয়ে একটা মারলে আমি ৫ হাজার টাকা দেবো। তার এ বক্তব্য ফেসবুকে স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। 

চরকাদিরার বটতলা বাজারে বুধবার রাতে আশরাফ উদ্দিন রাজন একপথসভা করেন। তিনি সেখানে বক্তব্যে বলেছেন, নির্বাচনে বহিরাগতরা আসলে তাদেরকে বেঁধে রাখবেন। আর সবাই ভোটের দিকে লাঠি প্রস্তুত রাখবেন। যেন বহিরাগতরা কেউ ফেরত যেতে না পারে।

এর আগেও আশরাফ উদ্দিন রাজন বক্তব্যে প্রকাশ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট একেএম নুরুল আমিন রাজুর বিরুদ্ধে মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ এনেছেন। নৌকা দেওয়ার কথা বলে এক ইউনিয়নে একজনের কাছ থেকে নয়, ৩-৪ জনের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। তার কাছ থেকে টাকা নিয়েও নৌকা প্রতীক দেননি । এজন্য টাকা টাকা ফেরত চেয়ে নুরুল আমিন রাজুকে বহিষ্কার করারও দাবি তুলেছেন।

তবে নুরুল আমিন রাজু বলেন, আশরাফ উদ্দিন রাজন উপজেলা নির্বাচনে আমার সঙ্গে বিদ্রোহী নির্বাচন করায় তাকে বহিষ্কার করা হয়। কারো কাছ থেকে কোনো টাকা নেওয়া হয়নি।

জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন বলেন, চরকাদিরার বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেননি। আমিও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নয়। রিটার্নিং অফিসারকে খবর নিতে বলবো।



সাতদিনের সেরা