kalerkantho

রবিবার । ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৫ ডিসেম্বর ২০২১। ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৩

কক্সবাজার

‘মুজিব মেয়রের সঙ্গে লাগছস' বলেই সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকে গুলি

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম    

৪ নভেম্বর, ২০২১ ১০:১৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘মুজিব মেয়রের সঙ্গে লাগছস' বলেই সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকে গুলি

‘মুজিব মেয়রের সঙ্গে লাগছস বলেই পেছন থেকে আমাকে গুলি করা হয়েছে। ওরা তিন-চারজন এসেছিল। পেছন থেকে গুলি করে পালিয়ে যায়। আমি কাউকে চিনতে পারিনি।’ গতকাল বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কথাগুলো বলছিলেন কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মোনাফ সিকদার।

দুর্বৃত্তদের গুলি তাঁর বাঁ পিঠের নিচের অংশ দিয়ে ঢুকে পেটের সামনে দিয়ে বেরিয়ে যায়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এখনো শঙ্কামুক্ত নন গুলিবিদ্ধ মোনাফ। হাসপাতালের শয্যায় যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন ছাত্রলীগের সাবেক এই নেতা। অনেকক্ষণ অপেক্ষা করার পর মুখ দিয়ে কথা বলতে চাইলে হঠাৎ চিৎকার দিয়ে উঠছেন, ‘পারছি না।’ কালের কণ্ঠকে মোনাফ সিকদার বলেন, ‘মেয়র মুজিবুর রহমানের নির্দেশে আমাকে গুলি করা হয়েছে।’ কী কারণে গুলি করা হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি এখন বলতে পারছি না। এটা কক্সবাজারবাসী জানে, কেন আমাকে গুলি করা হয়েছে।’

গুলি করার সময় কতজন ছিল—জানতে চাইলে তিনি হাতের তিনটি আঙুল দেখান। নিচু স্বরে বলেন, ‘তাদের একজন গুলি করেছে।’ চিনতে পেরেছেন কি না—জানতে চাইলে মাথা নেড়ে না-সূচক জবাব দেন। গত ২৭ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে পর্যটন শহর কক্সবাজারের সুগন্ধা পয়েন্টে শুঁটকি মার্কেটের সামনে দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন মোনাফ। ওই গুলি তাঁর পেট দিয়ে বেরিয়ে সামনে থাকা তারেক নামের এক যুবকের পায়ে বিদ্ধ হয়। তারেক কক্সবাজারের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

গুলিবিদ্ধের পর মোনাফকে প্রথমে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে রক্ত দিয়ে কক্সবাজার থেকে ওই দিন রাত সাড়ে ৩টার দিকে ভর্তি করা হয় চমেক হাসপাতালে। এক সপ্তাহ ধরে হাসপাতালের সার্জারি ইউনিট-২ (২৫ নম্বর ওয়ার্ড) ৩৪ নম্বর শয্যায় চিকিৎসাধীন আছেন তিনি।

মোনাফ গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মুজিবুর রহমানকে প্রধান আসামি করে ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে কক্সবাজার সদর থানায় মামলা করেন মোনাফের বড় ভাই শাহজাহান সিকদার। গত রবিবার মোনাফকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে এ মামলা করার পরই ওই দিন মেয়রের অনুসারীরা কক্সবাজারে বিক্ষোভ করে। ওই মামলার প্রতিবাদে সরকারদলীয় সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিক্ষোভের মুখে অনেকটা অচল হয়ে পড়ে কক্সবাজার। 

এদিকে ঘটনার এক সপ্তাহ পার হলেও পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। অস্ত্রটিও উদ্ধার হয়নি। সিসিটিভির বিভিন্ন ফুটেজ এবং ঘটনার পর পর মোনাফ মেয়রকে দায়ী করে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এদিকে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি শেখ মুনীর-উল-গিয়াসের সঙ্গে গতকাল বিকেলে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।



সাতদিনের সেরা