kalerkantho

বুধবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ১ ডিসেম্বর ২০২১। ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

৯ মাস পর কবর থেকে তোলা হলো পোশাক শ্রমিকের লাশ

বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি   

৪ নভেম্বর, ২০২১ ০২:১৯ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



৯ মাস পর কবর থেকে তোলা হলো পোশাক শ্রমিকের লাশ

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় দাফনের ৯ মাস পর সজিব ভুঁইয়া (২২) নামে এক পোশাক শ্রমিকের লাশ উত্তোলন করেছে পুলিশ।

মামলার বাদির আবেদনের প্রেক্ষিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম ইমাম রাজী ও সিআইডির ওসি আনোয়ার নাসিমের উপস্থিতিতে আলফাডাঙ্গা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মিঠাপুর কবরস্থান থেকে গতকাল বুধবার দুপুরে লাশটি উদ্ধার করা হয়। সজিব ভুঁইয়া ওই গ্রামের কামাল ভুঁইয়ার ছেলে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি সজীব ভুঁইয়া কর্মস্থল গাজীপুর থেকে ছুটি নিয়ে আলফাডাঙ্গার গ্রামের বাড়িতে আসেন। পরের দিন বিকেলে পাওনা টাকা আদায়ের জন্য প্রতিবেশী ইস্রাফিল তালুকদারের বাড়িতে আটকে রেখে কয়েকজন যুবক সজিবকে মারধর করে। এতে সে অজ্ঞান হয়ে পড়লে এই সুযোগে তার মুখে বিষ ঢেলে দেয় মামলায় অভিযুক্তরা। পরে ওইদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অভিযুক্তরা সজীবকে আলফাডাঙ্গা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করে সজিবের পরিবারকে খবর দেয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৯ জানুয়ারি সজিবের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে বোয়ালমারী বাইখীর এলাকায় মাইক্রোবাসে তার মৃত্যু হয়। পরে ৩০ জানুয়ারি ময়নাতদন্ত শেষে সজিবের মরদেহ আলফাডাঙ্গার মিঠাপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এ ঘটনায় সজিবের বাবা কামাল ভুঁইয়া বাদি হয়ে ইস্রাফিল তালুকদারকে প্রধান আসামি করে ১২ জনের বিরুদ্ধে ফরিদপুর আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পুলিশের সিআইডি বিভাগে তদন্তের জন্য হস্তান্তর করা হয়। সিআইডি বিভাগ সজিব ভুঁইয়ার লাশ উত্তোলনের মাধ্যমে পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য আদালতের কাছে আবেদন করলে বিজ্ঞ আদালত লাশ উত্তোলনের অনুমতি দেয়।

নিহতের চাচা মো. মজিবর রহমান জানান, নিহত সজীবের শরীর জুড়ে অনেক আঘাতের চিহ্ন থাকলেও সুরতহাল রিপোর্টে তা উল্লেখ করা হয়নি। তিনি এ ঘটনায় ন্যায়বিচার দাবি করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি)’র উপ-পরিদর্শক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, বাদির আবেদনের প্রেক্ষিতে লাশ উত্তোলনের নির্দেশ দেয় আদালত, আদালতের নির্দেশনানুযায়ী লাশ তুলে ময়না তদন্তের জন্যে মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, এজাহারে উল্লেখিত ১২ আসামির মধ্যে ৬ জনকে এরই মধ্যে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে, বাকিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ জোর চেষ্টা চালাচ্ছে।



সাতদিনের সেরা