kalerkantho

বুধবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ১ ডিসেম্বর ২০২১। ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

মহেশখালী পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে ডাকাতির মামলা, সপরিবারে এলাকাছাড়া মুক্তিযোদ্ধা

আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধী ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা একটি মানবতাবিরোধী মামলার এক নম্বর আসামি মহেশখালী দ্বীপের বাসিন্দা মৌলানা জাকারিয়া পরিবারের সন্তান মেয়র মকসুদ মিয়া এখন জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং পৌর মেয়র

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার   

২৯ অক্টোবর, ২০২১ ১১:৩০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মহেশখালী পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে ডাকাতির মামলা, সপরিবারে এলাকাছাড়া মুক্তিযোদ্ধা

কক্সবাজারের মহেশখালী পৌর মেয়র ও কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ সদস্যের বিরুদ্ধে চিংড়িঘের   দখল, ডাকাতি ও লুটপাটের মামলা করায় এক মুক্তিযোদ্ধা ও তার পুরো পরিবারকে ঘরছাড়া করার   অভিযোগ করেছেন কক্সবাজারের জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কর্মকর্তারা। বর্তমানে ওই মুক্তিযোদ্ধা পরিবার পালিয়ে কক্সবাজার শহরে আশ্রয় নিয়েছেন।   

আওয়ামী লীগ নেতা ও মহেশখালী পৌর মেয়র মকসুদ মিয়ার বিরুদ্ধে এই মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের   মালিকানাধীন চিংড়িঘের দখলের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেন। এই অভিযোগ করেন কক্সবাজারের মুক্তিযোদ্ধারা। 

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে কক্সবাজার প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১৯ অক্টোবর রাতে মহেশখালী পৌর মেয়র মকসুদ মিয়ার নির্দেশে ৩০/৩৫ জনের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী মহেশখালী উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নে অবস্থিত উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আমজাদ হোসেন ও তার পরিবারের ৬৭ একর বিশিষ্ট একটি চিংড়িঘের দখল করে নেন।   

এসময় সন্ত্রাসীরা চিংড়িঘেরের পরিচালক এবং কর্মচারিদের কুপিয়ে ও গুলি চালিয়ে গুরুতর আহত করেন। পরে তারা চিংড়িঘেরের কয়েক লাখ টাকার চিংড়ি মাছ লবণ ও মালামাল লুট করে নিয়ে যান। এ ব্যাপারে   আদালতে মেয়র মকসুদ মিয়াসহ তার লোকজনদের বিরুদ্ধে ডাকাতি মামলা দায়ের করলে আদালতের নির্দেশে মহেশখালী থানার পুলিশ গত ২৫ অক্টোবর মামলাটি নথিভুক্ত করে। 

সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযোদ্ধা আমজাদ হোসেন কেঁদে কেঁদে অভিযোগ করেন, মামলা গ্রহণের পর থেকে মেয়র মকসুদ মিয়া ও তার লোকজনের হুমকিতে মুক্তিযোদ্ধা আমজাদ হোসেন ও তার পরিবার নিরাপত্তার অভাবে মহেশখালী দ্বীপের বাড়িঘর ছেড়ে কক্সবাজার শহরে এসে আশ্রয় নিয়েছেন। 

এ বিষয়ে মেয়র মকসুদ মিয়ার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। গতকাল রাতে মেয়রের সাথে কয়েকবার মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি মোবাইল রিসিভ করেননি। 

সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধী ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা একটি মানবতাবিরোধী মামলার এক নম্বর আসামি মহেশখালী দ্বীপের বাসিন্দা মৌলানা জাকারিয়া পরিবারের সন্তান মেয়র মকসুদ মিয়া এখন জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং পৌর মেয়র।   

যুদ্ধাপরাধী হিসাবে মামলায় অভিযুক্ত ওই মৌলানা জাকারিয়া বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। মুক্তিযোদ্ধা আমজাদ হচ্ছেন ওই মামলার একজন স্বাক্ষী। প্রভাবশালী পরিবার হওয়ায় মুক্তিযোদ্ধা আমজাদ হোসেন ও তার পরিবারকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ভুক্তভোগী মহেশখালী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আমজাদ হোসেন, কক্সবাজার জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সহকারী কমান্ডার মোহাম্মদ মাসুদ কুতুবী, মুক্তিযোদ্ধা হাজি বশিরুল আলম মুক্তিযোদ্ধা নুরুল হক ও আবুল কাশেম।



সাতদিনের সেরা