kalerkantho

বুধবার । ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৮ ডিসেম্বর ২০২১। ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

ফেরি উল্টে পদ্মায় ডুবল ঋণে কেনা ট্রাক, চুরমার হলো স্বপ্ন

মারুফ হোসেন, আঞ্চলিক প্রতিনিধি, মানিকগঞ্জ    

২৮ অক্টোবর, ২০২১ ১৪:৫৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফেরি উল্টে পদ্মায় ডুবল ঋণে কেনা ট্রাক, চুরমার হলো স্বপ্ন

দুই ট্রাকমালিক সাইদুজ্জামান (টি-শার্ট পরিহিত) ও শোয়েব (শার্ট পরিহিত)

সাইদুজ্জামানের বাড়ি মাগুরা জেলার সীমাখালী এলাকায়। খুব কষ্ট করেই চলত তার জীবন-জীবিকা। পরে পরিবার ও  আত্মীয়-স্বজনদের সহয়োগিতায় একটু আর্থিকভাবে সচ্ছলতার জন্য পাড়ি জমান মালেশিয়ায়। টাকা উপার্জনের জন্য দশ বছর পরিবারছাড়া পরবাসী ছিলেন। কয়েক বছর আগে দেশে আসেন তিনি। নিজের জমানো টাকা আর ব্যাংকঋণ নিয়ে কেনেন একটি ট্রাক। প্রতি মাসে ঋণের কিস্তি জমা দিয়েও ভালোই চলছিল তার সংসার। প্রতিদিনের মতো ট্রাকে দেশের বিভিন্ন জায়গায় মাল নিয়ে যেতেন তার ড্রাইভার। গতকাল বুধবার বেনাপোল থেকে সুতা লোড দিয়ে ঢাকায় আসছিলেন তার গাড়িচালক শহিদুল। হঠাৎ শহিদুল সকাল ১০টার দিকে ফোন করে তাকে জানান, পদ্মা পাড়ি দেওয়ার সময় পাটুরিয়া ঘাটে ট্রাক বহনকারী আমানত শাহ ফেরি ডুবে গেছে। ফেরির সঙ্গে তার গাড়িটিও পদ্মায় তলিয়ে গেছে। খবর পেয়েই সাইদুজ্জামানের সব স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যায়।

সাইদুজ্জামানের সঙ্গে কালের কণ্ঠ'র এই প্রতিবেদকের কথা হয় পাটুরিয়া পাঁচ নম্বর ফেরিঘাটে। তিনি বিমর্ষ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছেন ডুবে যাওয়া ফেরির দিকে। আর অপেক্ষায় রয়েছেন কখন তার ট্রাকটি ওপরে তুলে আনবেন উদ্ধারকর্মীরা। আক্ষেপের সুরে বলতে থাকেন, এ পর্যন্ত ছয়টি ট্রাক উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু আমার ট্রাকটি কোথায় আছে তা-ও জানতে পারিনি। ট্রাকের আয় দিয়েই সংসার আর ব্যাংক লোন দিতাম। এখন কী করব, কোথায় যাব! আমার আর কিছুই রইল না। যদি ট্রাকটি উদ্ধার করা হয়ও তাহলেও অনেক টাকা ডেমারেজ লাগবে। 

অভিযোগের সুরে তিনি আরো বলেন, দুই দিন ধরে ফেরি ডুবলেও উদ্ধারকর্মীরা তার ট্রাকটি কোথায় আছে তা শনাক্ত করতে পারেননি। যে ট্রাকগুলো উদ্ধার করা হয়েছে তা আবার নদীর পাড়ে নদীর পানির মধ্যে রাখা হচ্ছে। এতে ক্ষতি আরো বাড়বে বলেও তিনি জানান। সরকারের কাছে সহায়তা প্রার্থনা করেন তিনি।

ট্রাকচালক শহিদুল ইসলাম বলেন, তাদের গাড়িটি ঢাকা (মেট্রো-ট-২২৩০৮৮) নম্বর ছিল। ফেরি ডুবে গাড়িটি তলিয়ে যাওয়ায় তার মালিকের সঙ্গে সঙ্গে নিজের পরিবার নিয়ে কিভাবে চলবেন তা নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। 

সাইদুজ্জামানের মতো কথা হয় আরেক ট্রাক মালিক শোয়েবের সঙ্গে। তিনিও জমি মর্টগেজ রেখে ঋণ করে একটি ট্রাক কিনেছিলেন। তারও এখন পথে বসা ছাড়া উপায় নেই। শোয়েব বলেন, যারা অনেক গাড়ির মালিক, তারা হয়তো ঘুরে দাঁড়াবেন। কিন্তু আমারা যারা ঋণ করে গাড়ি কিনেছি, তাদের অবস্থা কী হবে? তাই সরকার যেন আমাদের সহায়তা করে, পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে। 

গতকাল বুধবার সকালে যানবাহন বোঝাই আমানত শাহ নামের একটি রো রো ফেরি পাটুরিয়া পাঁচ নম্বর ঘাটের কাছে উল্টে যায়। ফেরিতে থাকা যানবাহন ডুবে যায় পানিতে। এখন পর্য়ন্ত ৮টি ট্রাক উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা।



সাতদিনের সেরা