kalerkantho

সোমবার । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৯ নভেম্বর ২০২১। ২৩ রবিউস সানি ১৪৪৩

আশুলিয়ায় চাঞ্চল্যকর ইলিম হত্যাকাণ্ড

শুধু বন্ধুত্বের খাতিরে কিলিং মিশনে অংশ নেন ইউসুফ!

এ নিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হলো

সাভার সংবাদদাতা    

২৮ অক্টোবর, ২০২১ ১৪:৪০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শুধু বন্ধুত্বের খাতিরে কিলিং মিশনে অংশ নেন ইউসুফ!

গ্রেপ্তার হয়েছেন পল্লীবিদ্যুতের ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম ওরফে ইউসুফ

আশুলিয়ায় ডিশ ব্যবসায়ী ইলিম সরকার (৪২) হত্যাকাণ্ডে জড়িত আরো এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার (২৭ অক্টোবর) দিবাগত রাতে রাজধানীর উত্তরা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ইলিম সরকারের স্ত্রী ও তার পরকীয়া প্রেমিককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। আজ বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেন ঢাকা জেলা পিবিআইর উপপরিদর্শক (এসআই) সালেহ ইমরান। 

গ্রেপ্তারকৃত সাইফুল ইসলাম ওরফে ইউসুফ (৩১) আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের ইয়ারপুর গ্রামের আব্দুল হকের ছেলে। তিনি হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী ও প্রধান আসামির বন্ধু বলে জানায় পুলিশ। এ নিয়ে জড়িত ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো।

পিবিআইর তথ্য মতে, নাটোর জেলার গুরুদাসপুর থানার তেলটুপি গ্রামের আ. সামাদের ছেলে মো.  রবিউল করিম পিন্টু (৩৫) আশুলিয়া এলাকায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে লাইনম্যান হিসেবে চাকরি করতেন। চাকরির সুবাদে ইলিম সরকারের বাসায় বিদ্যুতের মিটার লাগানোর কাজ করতে গিয়ে তার স্ত্রী কেমিলির সঙ্গে ২০১৯ সালে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে পিন্টুর। এদিকে সাইফুল ইসলাম ওরফে ইউসুফ একজন পল্লীবিদ্যুতের ঠিকাদার ব্যবসায়ী। কাজের সুবাদে পিন্টু ও ইউসুফের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বন্ধু পিন্টুর কথায় তাকে সহায়তা করতেই হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয় ইউসুফ। শুধু বন্ধুত্ব রক্ষা করতেই বন্ধুর কাজে সহায়তা করেন ইউসুফ। এই কাজের বিনিময়ে তাদের মধ্যে কোনো আর্থিক লেনদেন হয়নি।

পিবিআই আরো জানায়, পরকীয়ার বিষয়টি স্ত্রী কেমিলির স্বামী টের পেয়ে গেলে স্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের ডেকে তা প্রকাশ করে দেবেন বলে জানান। এ ঘটনা নিয়ে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহের সৃষ্টি হয়। পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়টি যাতে অন্য কেউ জানতে না পারে তার জন্য ঘটনার এক সপ্তাহ আগে কেমিলি এবং তার পরকীয়া প্রেমিক পিন্টু মিলে ইলিম সরকারকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ইলিম সরকারের বাসায় দু'জন ভাড়াটে খুনিকে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকার ব্যবস্থা করে দেন পিন্টু। তারা কাজটি পরিকল্পনামাফিক সফল না করতে পারায় পিন্টু নিজেই হত্যার পরিকল্পনা করেন৷ সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন ২৮ মার্চ সকাল ৯টার দিকে কেমিলির পরামর্শে পিন্টু তার এক বন্ধুকে নিয়ে বাসায় প্রবেশ করেন। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কেমিলি রাতের বেলা দইয়ের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে ইলিম সরকারকে খাইয়ে দেন। ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে ইলিম সরকার নিস্তেজ হয়ে গেলে সকালে পিন্টু তার বন্ধু ইউসুফকে নিয়ে বাসায় এসে চাকু দিয়ে কুপিয়ে ইলিম সরকারকে হত্যা করে পালিয়ে যান। পালিয়ে যাওয়ার আগে ইলিম সরকারের বাসার সিসিটিভি ফুটেজের ডিভিআর মেশিন খুলে নিয়ে যান তারা।

ইলিম সরকারের গলার নিচে ১টি, পেটে ১১টি ও পিঠে ধারালো অস্ত্রের ১টি জখমের দাগ পেয়েছে পুলিশ। বন্ধুকে সহায়তা করতে গিয়েই এমন ভয়ানক কিলিং মিশনে অংশ নেন ইউসুফ। 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সালেহ ইমরান জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামি সাইফুল ইসলামকে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে গত ২১ জুলাই মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করেন। এর আগে (২৫ আগস্ট) গ্রেপ্তারকৃত আসামি পিন্টু এবং ক্যামিলি হত্যাকাণ্ডে তাদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। 

বিষয়টি ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করতে ক্যামিলি ডিশ ব্যবসার বিরোধকে কেন্দ্র করে উক্ত ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে প্রচার করতে থাকেন। এমনকি স্বামীর হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলনও করেন তিনি।



সাতদিনের সেরা