kalerkantho

বুধবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ১ ডিসেম্বর ২০২১। ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর করল আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থীর সমর্থকরা

বারহাট্টা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি   

২৭ অক্টোবর, ২০২১ ২১:১৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর করল আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থীর সমর্থকরা

নেত্রকোনা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ২০ ব্যক্তি আহত হয়েছে। বুধবার বিকেলে বিশিউড়া বাজারে এই সংঘর্ষ হয়।

এ সময় আওয়ামী লীগের নির্বাচনী অফিসে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল কালাম (৫৫), মনিষ (৩৫), মোস্তাক আহমেদ (৪৫), আবু নাসের (৩৭), শফিকুল ইসলাম মাসুম (৩২), মুখলেছ (৪৩), জিন্নাতুল (৩৭), সাইফুল (৩৮) ও সাইফুলসহ অন্তত ২০ ব্যক্তি আহত হন। চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু বকর সিদ্দিক অসুস্থতাজনিত কারণে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধিন আছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবু বকর সিদ্দিকের সমর্থক নেত্রকোণা উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মো. বাচ্চু মিয়া জানান, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দিক। ওই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী হয়ে দলীয় প্রার্থীর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন একই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম।

বুধবার সদর উপজেলা নির্বাচন অফিস থেকে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করা হয়। এর মধ্যে দলীয় প্রতীক নৌকা পান আবু বক্কর সিদ্দিক। অন্যদিকে বিদ্রোহী প্রার্থী আবুল কালাম পান মোটরসাইকেল। প্রতীক বরাদ্দের পর নৌকার কর্মী-সমর্থকরা সমর্থকরা বুধবার বিকেলে বিশিউড়া বাজারে নির্বাচনী মিছিল বের করে। এক পর্যায়ে দুই পক্ষ মুখোমুখি হলে উত্তেজনা দেখা দেয় এবং আবুল কালামের লোকজন নৌকার লোকজনের উপর হামলা চালায়। তারা নৌকার নির্বাচনী অফিসেও হামলা চালায় ও তছনছ করে। হামলাকারীরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ছবিও ভাঙচুর করেছে। তাদের হামলায় আমাদের ১৫ জন লোক আহত হয়।

এদিকে চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল কালাম বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমরাই জিতব। ভরাডুবির আশংকায় আবু বকর সিদ্দিকের লোকজন নাটক সাজিয়েছে। তারা অপকর্ম করে আমাদের লোকজনদের দোষারুপ করছে। তারা আমার উপর আক্রমণ করেছে। তাদের আক্রমণে আমাদের আরো ৫ জন লোক আহত হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়। সংঘর্ষের সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ অফিসের চেয়ার টেবিল, আসবাবপত্র, বেশ কয়েকটি দোকান ও মোটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।

নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. সোহেল রানা বলেন, দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছিল। হাতাহাতি ও কিছু ভাঙচুরের ঘচনা ঘটেছে। এলাকার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। 



সাতদিনের সেরা