kalerkantho

শনিবার । ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৪ ডিসেম্বর ২০২১। ২৮ রবিউস সানি ১৪৪৩

পাটগ্রামে বেশি দামে সার বিক্রি, দিশেহারা কৃষক

পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি    

২৭ অক্টোবর, ২০২১ ১৩:০৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পাটগ্রামে বেশি দামে সার বিক্রি, দিশেহারা কৃষক

লালমনিরহাটের পাটগ্রামে সারের কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে সরকার র্নিধারিত মূল্যের চেয়ে চড়া দামে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। কৃষকদের অভিযোগ, ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাত দেখিয়ে এমন চড়া দাম আদায় করছেন। এমন সংকটে রবি মৌসুমে আলু, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মূলা, বিভিন্ন প্রকার শাক-সবজিসহ আগাম শীতকালীন ফসল নিয়ে বিপাকে পড়েছেন এলাকার কৃষক। পাশাপাশি ভুট্টা আবাদের এ সময়ে সার সংকট চরম বিপাকে ফেলবে কৃষকদের।

বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখা গেছে কৃষকদের কাছ থেকে ইউরিয়া, তিউনিশিয়া টিএসপি, এমওপি, ডিএপিসহ বিভিন্ন প্রকার সারের দাম বেশি নেওয়া হলেও ডিলার ও সার ব্যবসায়ীরা কোনো পাকা রসিদ (ভাউচার) দিচ্ছেন না। এতে বেশি দামে সার বিক্রির বিষয়ে  প্রমাণসহ কারো কাছে অভিযোগও দিতে পারছেন না কৃষকরা।

এসময় দেখা গেছে, ইউরিয়ার প্রতি ৫০ কেজি বস্তার সরকার নির্ধারিত মূল্য ৮০০ টাকা হলেও বিক্রি হচ্ছে ৮৬০ টাকা দরে। একইভাবে এমওপি ৭৫০ টাকার স্থলে ৯০০ থেকে ৯২০ টাকা, তিউনিশিয়া টিএসপি ১ হাজার ১০০ টাকার স্থলে প্রকারভেদে ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৯০০ টাকা, ডিএপি ৮০০ টাকার স্থলে প্রকারভেদে ৮৫০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

বাউরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আফতাব মোড় গ্রামের কৃষক সোহেল রানা (৩০) বলেন, সার ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সারের দাম বাড়িয়েছেন। এখনো পুরোদমে ভুট্টার চাষ শুরু হয়নি, তাতেই বেশি দাম ছাড়া সার পাওয়া যাচ্ছে না। বিএডিসির টিউনেশিয়া টিএসপি সারের জন্য প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে সারের দোকানে ঘুরেও সার পাচ্ছি না। ৩০ বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করবো, দুঃচিন্তায় আছি।

জোংড়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক বুলবুল আহমেদ বলেন, সারের দোকানে গেলে অতিরিক্ত মূল্য ছাড়া সার পাওয়া যায় না। সারের দোকানে কয়েকদিন ধরে ঘুরে বিএডিসির তিউনিশিয়া টিএসপি ও এমওপি সার পাচ্ছি না।

নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক একজন খুচরা সার ব্যবসায়ী জানান, সারের ডিলাররা সরকারি বরাদ্দের সার বেশি দামে অন্য জেলায় বিক্রি করে। ফলে সার সংকট দেখা দিয়েছে। বর্তমানে বেশি দামেও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসির) টিউনেশিয়া টিএসপি বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না। এ ছাড়া বিএডিসির মরক্কো টিএসপি সার বাজারে সল্পতা রয়েছে।

একইভাবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন পাইকারী সার ব্যবসায়ী বলে, আমরা যশোরের নওয়াপাড়ায় এবং পাবনার নগরবাড়ীর মোকামে বেশি দামে সার কিনছি। তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

পাটগ্রাম উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় মোট ফসলি জমির পরিমাণ ২১ হাজার ২৬০ হেক্টর। এ বছর লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে রবি মৌসুমে ভুট্টা ১২ হাজার ৪৭০ হেক্টর ও খরিপ মৌসুমে ১ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে চাষ করা হবে। বোরো ধান ধানের লক্ষ্যমাত্র ৪ হাজার ৬১০ হেক্টর জমি।
 
পাটগ্রাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল গাফ্ফার বলেন, সরকারের নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রির জন্য সম্প্রতি আমরা সারের ডিলারদের সঙ্গে মিটিং করেছি। আলোচনায় সরকারের নির্ধারিত মূল্যে  কৃষকের দোরগোড়ায় সার পৌঁছানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সারের অতিরিক্ত বরাদ্দের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়াও আমাদের বাজার মনিটরিং অব্যাহত রয়েছে।

এ বিষয়ে পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুর রহমান বলেন, পাটগ্রামে সারের কোনো সংকট নেই। সরকারের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির প্রশ্নই আসে না। সরকারের নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রির জন্য আমরা ১০-১৫ দিন আগে ডিলারদের সাথে আলোচনা করেছি। দাম বেশি নেওয়ার সুযোগ নেই।  যদি কেউ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সারের দাম বেশি নেয় তাহলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।



সাতদিনের সেরা