kalerkantho

শনিবার । ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৪ ডিসেম্বর ২০২১। ২৮ রবিউস সানি ১৪৪৩

মিরসরাইয়ে আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর কার্যালয়ে হামলা-লুটপাটের অভিযোগ

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

২৭ অক্টোবর, ২০২১ ১২:৪৫ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



মিরসরাইয়ে আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর কার্যালয়ে হামলা-লুটপাটের অভিযোগ

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এম সাইফুল্লাহর অফিসে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। প্রার্থীর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, হামলা-লুটপাটের পাশাপাশি অফিসের দেয়ালে থাকা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ছুঁড়ে ফেলে দেয়া হয়। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে উপজেলার মিরসরাই সদর ইউনিয়নের মিঠাছরা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে, দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মিরসরাইয়ে ১৬টির মধ্যে ১৪টিতে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিজয়ের পথে। অভিযোগ রয়েছে, বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের উপজেলা আওয়ামী লীগের তরফ থেকে মনোয়ন প্রত্যাহার করতে বলা হয়। পরবর্তীতে জোর প্রয়োগ করা হয়।

অবশ্য এ বিষয়টি মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, জোরপূর্বক দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করানোর বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
 
আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক এম সাইফুল্লাহর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাতে মিরসরাই সদর ইউনিয়নে তার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক অফিসের তালা ভেঙে ব্যাপক ভাঙর চালায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শামসুল আলম দিদারের লোকজন। মনোনীত প্রার্থীর ভাই দুলাল ও তার সহযোগীরা অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী সাইফুল্লাহর অফিসে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এসময় জাতির জনক ও প্রধানন্ত্রীর ছবি ভাঙচুর করা হয়।

বিদ্রোহী প্রার্থীর কয়েকজন সমর্থক জানান, এ বিষয়ে গতকাল মঙ্গলবার (২৬  অক্টোবর) সন্ধ্যায় মিরসরাই সদর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এম সাইফুল্লাহর ছোট ভাই স্থানীয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও স্থানীয় আওয়ামী যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. নবী উল্যাহ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও মিরসরাই থানা অফিসার ইনচার্জ মজিবুর রহমানের কাছে অভিযোগ দিতে যান। কিন্তু নির্বাচন কর্মকর্তার অফিসের ভেতর থেকে সন্ত্রাসীরা তাকে তুলে নিয়ে যায়। অবশ্য পরে তিনি নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে থানা পুলিশের কাছে যেতে পারেননি। ঘটনার এক ঘণ্টা পর রাত ১০টার দিকে অবশ্য তাকে সন্ত্রাসীরা ছেড়ে দেয়। পরে প্রার্থী নিজে অনলাইনের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ফারুক হোছাইনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।

প্রার্থী এম সাইফুল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, মঙ্গলবার দিনভর আমাকে আমার দলের পক্ষ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাহারের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। তবে আমি যাকে ঘিরে রাজনীতি করি, আমার নেতা মিরসরাইয়ের সংসদ সদস্য চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের অভিভাবক ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন আমাকে চাপ দেননি। বরং তিনি আমাকে শান্ত থাকাতে বলেছেন। মঙ্গলবার বিকাল ৫টার পর মনোয়নপত্র প্রত্যাহার না করলে রাতে আমার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক কার্যালয় ও ব্যবসায়ী কার্যালয়ে হামলা চালায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শামসুল আলম দিদারের ছোট ভাই দুলাল ও কতিপয় সন্ত্রাসী। তারা আমার অফিসে থাকা আমার আদর্শ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, আমার নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং আমার অভিভাবক ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের ছবি ভাঙচুর করে। 

অবশ্য এ অভিযোগের বিষয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শামসুল দিদাদের বক্তব্য নিতে তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের চাপ প্রয়োগের বিষয়ে মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী বলেন, কাউকে চাপ প্রয়োগ করা হয়নি। দলের প্রতি আনুগত্য পোষণ করে সকলেই নিজ নিজ দায়িত্বে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। তিনি জানান, মিরসরাই সদর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শামসুল আলম দিদারের বিপক্ষে  চ্যালেঞ্জ জানানো উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম সাইফুল্লাহকে মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ক্ষমতাসীন দলের এ নেতা বলেন, দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক দলের মনোনয়নবঞ্চিত বিদ্রোহী প্রার্থী সাইফুল্লাহকে দলের যুগ্ম সম্পাদক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সাইফুল্লাহ দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত কর্মী কি না- এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ এ নেতা ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (বহিষ্কৃত) এম সাইফুল্লাহ দিদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ১৯৯২ সালে আমি স্কুল ছাত্রলীগের সভাপতি এবং পরবর্তিতে স্থানীয় রাসেল স্মৃতি সংসদের দুইবার সাধারণ সম্পাদক, একবার সভাপতি এবং পরবর্তীতে মিরসরাই কলেজ ছাত্রলীগ, নিজামপুর কলেজ ছাত্রলীগ ও পরবর্তীতে উপজেলা ছাত্রলীগ, বর্তমানে উপজেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্ব পালন করছি। দল থেকে আমাকে বহিষ্কার করা হলে এ দেশে ছাত্রলীগ, যুবলীগ আওয়ামী লীগ বলতে আর কিছু থাকবে না। আমার নেতা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এবং আমার নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে বহিষ্কার করলে আমি আর দল করবো না, অন্য দলেও যাবো না। 



সাতদিনের সেরা