kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৯ ডিসেম্বর ২০২১। ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আধিপত্য বিস্তার

লোহাগড়ায় যুবলীগকর্মীকে কুপিয়ে হত্যা, প্রতিবাদে বিক্ষোভ

নড়াইল প্রতিনিধি    

২৬ অক্টোবর, ২০২১ ১৭:৪৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লোহাগড়ায় যুবলীগকর্মীকে কুপিয়ে হত্যা, প্রতিবাদে বিক্ষোভ

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার মল্লিকপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পলাশ শেখ নামে এক যুবলীগকর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ মঙ্গলবার সকালে বিক্ষোভ করেছে উপজেলা যুবলীগ। এ ঘটনায় বিকেল ৫টা পর্যন্ত মামলা হয়নি, কাউকে আটকও করেনি পুলিশ।  গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে চর মল্লিকপুর গ্রামে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার দুপুরে নড়াইল সদর হাসপাতাল মর্গে নিহতের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

নিহত যুবলীগকর্মী পলাশ শেখ (৩০) উপজেলার চরমল্লিকপুর গ্রামের খোকন শেখের ছেলে এবং তিনি লোহাগড়া উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের কর্মী।  পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার রাত ৮টার দিকে পলাশ শেখ বন্ধু রুবেলের নিমন্ত্রণে সহকর্মী সুরবান, আলিমুল, ইনামুল, সাঈদীকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে চর মল্লিকপুর গ্রামের ইমরানের বাড়িতে দাওয়াত খেতে যান। 

খাওয়াদাওয়া চলার  সময় ১০-১৫ জন দুর্বৃত্ত  ওই বাড়ি ঘিরে ফেলে পলাশের ওপর হামলা চালায়। এ সময় পলাশ দৌড়ে রাস্তার পাশে ইমরানের মুদি দোকানের সামনে পড়ে গেলে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মুখ, ঘাড়, পাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়। পরে এলাকাবাসী পলাশকে উদ্ধার করে লোহাগড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হত্যাকাণ্ডের পর নড়াইলের পুলিশ সুপার প্রবীর কুমার রায়সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। 

স্থানীয়রা জানান, আসন্ন মল্লিকপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান সাহিদুর রহমান সমর্থিত লোকজনের সঙ্গে চর মল্লিকপুর গ্রামের চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী ফরিদ শেখ সমর্থিত লোকজনের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত চলে আসছিল। নিহত পলাশ শেখ চেয়ারম্যান প্রার্থী ফরিদ শেখের পক্ষে এলাকায় কাজ করছিলেন। এর জের ধরে পলাশ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে এলাকাবাসীর ধারণা। মল্লিকপুর ইউপি নির্বাচনের তফসিল এখনো ঘোষণা করা হয়নি।

নিহত পলাশ শেখের বাবা খোকন শেখ বলেন, কয়েক দিন আগে সাইদুরের ভাই শরীফুল আমাকে ফোনে হুমকি দিয়েছিল,পলাশ যদি তাদের পক্ষে না যায় তাহলে আমাকে চিরতরে বাবা ডাক শোনা বন্ধ করে দেবে। নিহত পলাশের মা পলি আক্তার বলেন, সাইদুরের ভাই শরীফুল আমার পলাশকে দাওয়াত খাওয়ানোর কথা বলে কুপিয়ে মেরেছে। আমি ওদের ফাঁসি চাই।

এদিকে যুবলীগকর্মী পলাশ মাহমুদ হত্যার প্রতিবাদ, হত্যাকারীদের আটক ও ফাঁসির দাবিতে লোহাগড়া উপজেলা যুবলীগের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল থানা মোড় থেকে বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

নড়াইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (লোহাগড়া সার্কেল) তানজিলা সিদ্দিকা বলেন, এটি একটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করার জোর চেষ্টা চলছে, এখনো মামলা হয়নি। এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। 



সাতদিনের সেরা