kalerkantho

শনিবার । ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৪ ডিসেম্বর ২০২১। ২৮ রবিউস সানি ১৪৪৩

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক

দু'দিন বাদেই উন্মুক্ত হচ্ছে স্বপ্নের ‘মাতামুহুরী সেতু’

এক্সপ্রেসওয়ের ডিজাইনে ৬ লেনের মধ্যে সেতুর ৩ লেনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন, আগামী বৃহস্পতিবারই যানবাহন চলাচলে খুলে দেয়া হচ্ছে

ছোটন কান্তি নাথ, চকরিয়া (কক্সবাজার)   

২৬ অক্টোবর, ২০২১ ১২:৩৬ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



দু'দিন বাদেই উন্মুক্ত হচ্ছে স্বপ্নের ‘মাতামুহুরী সেতু’

ব্যস্ততম চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়ার চিরিঙ্গায় মাতামুহুরী নদীর ওপর নির্মিত ছয় লেনের মধ্যে তিন লেনের দৃষ্টিনন্দন সেতু। চলতি মাসেই উম্মুক্ত হয়ে যাবে যানবাহন চলাচলে। এর পর বাকি তিন লেনের কাজ শুরু করতে ভেঙে ফেলা হবে দুই লেনের পুরনো সেতুটি।

ব্যস্ততম চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়ার চিরিঙ্গায় ৩২১ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১৫ দশমিক এক মিটার প্রস্থের ছয় লেনের মাতামুহুরী সেতুর মধ্যে তিন লেনের নির্মাণকাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হয়েছে। সেতুটির দু'দিকে ২৭৫ মিটার করে অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণের কাজও শেষ হয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আর মাত্র দুদিন পরই (২৮ অক্টোবর) তিন লেন সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল উম্মুক্ত করে দেওয়া হবে। এজন্য বাকি কাজও দ্রুততার সাথে এগোচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে এক্সপ্রেসওয়ের ডিজাইনে নির্মিত স্বপ্নের মাতামুহুরী সেতুর ওপর দিয়ে যানবাহন উড়াল দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। এতে চকরিয়া পৌরশহরের বাণিজ্যিক কেন্দ্র চিরিঙ্গায় যানজটের চাপ অনেকাংশে কমে আসবে।
 
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কটি ছয় লেনের এক্সপ্রেসওয়ে হবে। সেই ডিজাইনের সাথে সঙ্গতি রেখেই মহাসড়কটিতে নির্মিত হচ্ছে ছয় লেনের চারটি সেতু। সেগুলো হলো- পটিয়ার ইন্দ্রপুল সেতু, চন্দনাইশের বরগুনি সেতু, দোহাজারির সাঙ্গু সেতু ও চকরিয়ার মাতামুহুরী সেতু। এই চার সেতুর নির্মাণকাজে অর্থায়ন করেছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)। তন্মধ্যে বেশ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মাতামুহুরী সেতুর ছয় লেনের মূল নির্মাণকাজ শুরু করা হয় ২০১৮ সালের বন্যার পর। সেতুর মূল নির্মাণকাজের সরাসরি তদারকি করেছে জাইকার নিজস্ব টিম। সড়ক ও জনপথ বিভাগের ‘ক্রস বর্ডার রোড ইমপ্রুভমেন্ট নেটওয়ার্ক’ এর আওতায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে ছয় লেনের ওই চার সেতুর মধ্যে প্রথমবারের মতো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মাতামুহুরী সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। 
  
এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগের ‘ক্রস বর্ডার রোড ইমপ্রুভমেন্ট নেটওয়ার্ক’ এর নির্বাহী প্রকৌশলী এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপক জুলফিকার আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চারটি সেতুর মধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ছয় লেনের মাতামুহুরী সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে সেতুটির তিন লেন এবং দু'দিকের অ্যাপ্রোচ সড়কের কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হয়েছে। বাকি তিন লেনের কাজ শুরু করতে বিদ্যমান পুরোনো সেতুটি ভেঙে সেখানে নতুন করে ফাইলিংয়ের কাজ শুরু করা হবে। এজন্য পুরোপুরি সম্পন্ন হওয়া তিন লেনের ওপর দিয়ে আগামী ২৮ অক্টোবর যানবাহন চলাচল উম্মুক্ত করে দেওয়ার জোর তৎপরতা চলছে।
 
নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার আহমেদ জানান, আগামী নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে তিন লেনের কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হবে মহাসড়কের দোহাজারির সাঙ্গু সেতুর। তখন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাতামুহুরী সেতু ও সাঙ্গু সেতুর আনুষ্ঠানিকভাবে শুভ উদ্বোধন করবেন। তবে যানবাহন চলাচলের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে মাতামুহুরী সেতুর তিন লেন উম্মুক্ত করে দেওয়া হবে। এজন্য প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বেশ তোড়জোড় চালাচ্ছেন। 
 
জাইকার প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, মাতামুহুরী সেতুটির ছয় লেন পুরোপুরি নির্মিত হয়ে গেলে তা খুবই দৃষ্টিনন্দন হবে। ডিজাইন অনুযায়ী ছয় লেনের সেতুর মধ্যে বিদ্যমান পুরোনো দুই লেনের সেতুর দক্ষিণাংশে প্রথমে তিন লেনের নতুন সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি তিন লেনের নির্মাণকাজ শুরু করতে বিদ্যমান পুরাতন সেতু ভেঙে ফেলা হবে।
 
সড়ক ও জনপথ বিভাগ ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান স্পেক্ট্রা ইন্টারন্যাশনালের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ছয় লেনের এই সেতুর মধ্যে মাঝখানের চার লেনে চলাচল করবে দূরপাল্লার এবং দ্রুতগতির যানবাহন। আর বাকি দুই লেন দিয়ে চলাচল করবে ধীরগতির তথা স্থানীয় যানবাহন। এছাড়াও এই দুই লেনে (উভয়পাশে) এক মিটার করে উম্মুক্ত থাকবে ফুটপাত হিসেবে ব্যবহারের জন্য। 
 
তিনি আরো জানান, ডিজাইন অনুযায়ী ছয় লেনের এই মাতামুহুরী সেতুর দৈর্ঘ্য ৩২১ মিটার। পূর্বপ্রান্তে মহাসড়কের জিদ্দাবাজার পর্যন্ত (স্থানীয়ভাবে কাকারা রাস্তার মাথা নামে পরিচিত) এবং পশ্চিমপ্রান্তে সড়ক ও জনপথ বিভাগ কার্যালয় পর্যন্ত এই সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। ছয় লেনের মূল সেতুর প্রস্থ রয়েছে ৩০ দশমিক ২ মিটার। সেতুটির তিন লেনের ১৫ দশমিক এক মিটারে ধীরগতির স্থানীয় যানবাহনের জন্য ৩ দশমিক ৬ মিটার এবং ফুটপাত থাকবে এক মিটার। বাকি অংশে নির্ধারিত রয়েছে দ্রুতগতির দুই লেন।  
 
এক্সপ্রেসওয়ের ডিজাইনে স্বপ্নের মাতামুহুরী সেতুর তিন লেনের কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য ও চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ জাফর আলম। 
 
সংসদ সদস্য জাফর আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, পর্যটন নগরী কক্সবাজারের প্রবেশদ্বার চকরিয়ার মাতামুহুরী নদীর ওপর নতুন সেতু নির্মাণের দাবিটি ছিল দীর্ঘদিনের। সেই দাবি পূরণ হয়েছে সেতুটির তিন লেনের কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হওয়ায়। যানবাহন চলাচলে উম্মুক্ত করে দেওয়ার মধ্য দিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আরেকটি নতুন উপহার হিসেবে এটাকে আমরা পেতে যাচ্ছি। এতে সড়ক যোগাযোগব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন সাধিত হয়ে যাবে।
 
প্রায় দশ বছর ধরে মাতামুহুরী সেতুর ওপর দিয়ে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন হাজারো যানবাহন চলাচল করছে। মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটির নিচে প্রথমে বালির বস্তার এবং ওপরে পাটাতন বসিয়ে জোড়াতালির মাধ্যমে যানবাহন চলাচল সচল রাখা হয়। তার ওপর অতিরিক্ত ওজনের যানবাহন চলাচলের কারণে সেতুর মাঝখানে বসানো পাটাতন মাঝেমধ্যে দেবে যাওয়ার ঘটনা ঘটে আসছিল। সর্বশেষ বর্তমান সেতুর মাঝখানে বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে আরসিসি ঢালাই দিয়ে যানবাহন চলাচল সচল রাখা হয়। অবশেষে সব সমস্যার অবসান ঘটছে এই কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে।


সাতদিনের সেরা