kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৩০ নভেম্বর ২০২১। ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৩

সাগরকেন্দ্রিক ইলিশ আহরণ

জেলেদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ, অনিশ্চয়তায় ট্রলার মালিকরা

পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি   

২৬ অক্টোবর, ২০২১ ১১:৪৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জেলেদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ, অনিশ্চয়তায় ট্রলার মালিকরা

নদী ও সাগরে ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেরা সবাই এখন মাছ ধরায় ব্যস্ত হচ্ছেন। কিন্তু দুশ্চিন্তার ভাঁজ সবার কপালে। বিনিয়োগকৃত চলতি মূলধনের শতকরা ৩০ ভাগ টাকাও উঠে না আসার আশঙ্কা করছেন ট্রলার মালিকরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রজনন মৌসুমের অবরোধ শেষে প্রথম সপ্তাহেই বোঝা যাবে ইলিশের প্রজননকালীন অবরোধ সঠিক ছিল কি না। শীতেও সাগরে পর্যাপ্ত ইলিশ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, আশা করছেন অনেকে। 

সাগর উপকূলের পাথরঘাটার জেলে, মালিক ও বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সহ-সভাপতি আবুল ফরাজি একজন প্রকৃত জেলে ও সাগরকেন্দ্রিক মৎস্যসম্পদ আহরণে স্বল্প পরিসরে বিনিয়োগকারী। তিনি ৩টি ট্রলার দিয়ে মাছ ধরেন। এ খাতে তার মূলধন বিনিয়োগ ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এর বছরে তিনি জ্যৈষ্ঠ মাস থেকে শুরু ইলিশ মৌসুমে বারবার মাছ শিকারের জন্য সাগরে ট্রলার পাঠিয়েছেন। এতে জ্বালানি, রসদ ও শ্রমিকদের আহার ও নগদ টাকা হিসাব করে প্রতি ট্রলারে খরচ হয় সাড়ে ১৯ লাখ টাকা। মাছ বিক্রি থেকে তিনি পেয়েছেন মাত্র ৬ লাখ টাকা। কমবেশি তার সব ট্রলারের চিত্র একই রকম এবং উপকূলের সব জেলের লাভের হিসাব কমবেশি প্রায় অভিন্ন। তিনি দাবি করেন, এ বছর প্রজনন মৌসুমে নিষেধাজ্ঞা সময়কাল নির্ধারণ সঠিক হয়নি। কারণ, অবরোধের শুরুতে ধরা ১০ ভাগ ইলিশের পেটে ডিম দেখা যায়নি।

একই কথা বলেছেন ট্রলার মালিক মাসুম মিয়া। তার কথায়, আরো সময় বৃদ্ধি করা হলে মা ইলিশ বেশি ডিম দিতে পারত। তিনি আরো বলেন, ইলিশ মৌসুমের জ্যৈষ্ঠ থেকে আশ্বিন পর্যন্ত পাঁচ মাসের মধ্যে ৬৫ দিন ও ২২ দিনের অবরোধ ছিল। এখানেই প্রায় তিন মাস গেছে। বাকি দুই মাসে একাধিকবার লঘুচাপ, নিম্নচাপ ও সাইক্লোনের জন্য সাগরগমনে বাধা। স্বাভাবিকভাবেই এ বছর আমাদের বিনিয়োগ উঠবে ন। ১৫-১৭ জন শ্রমিক নিয়ে সাগরে ট্রলার পাঠিয়ে খরচের ৩০ শতাংশ টাকাও হাতে পাইনি। জেলে শ্রমিকদের 'শূন্যভাগী' বলা হয়। কারণ তাদের বিনিয়োগ টাকা নয়, শারীরিক শ্রম। বিক্রি করা মাছের একটা অংশ তাদের মধ্যে ভাগ হয়।

বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী এ প্রতিনিধিকে বলেন, ভরা মৌসুমে বারবার সাগর থেকে প্রায় শূন্য হাতে ফেরায় মালিকদের হাত শূন্য। এ ছাড়া বাকিতে জ্বালানি এবং সাগরে জেলেদের খাবারের চাল-ডাল কিনতে না পারায় জেলেদের সাগরে পাঠানো যাচ্ছে না। অনেক চেষ্টা করেও অনেকে দাদন সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ, অ্যাকোয়াকালচার অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের সহকারী  অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী কালের কণ্ঠ'র কাছে দাবি করেন, এ বছর সরকারের ইলিশ প্রজননকালের অবরোধের ফলে মাছের সন্তোষজনক বংশবৃদ্ধি হবে। তবে প্রজননকালীন নিষেধাজ্ঞা আরো প্রলম্বিত হওয়া উচিত কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বোঝা যাবে অবরোধ-উত্তর প্রথম সপ্তাহে শিকার করা মাছের পেটে ডিমের পরিমাণ কেমন তা দেখে। মাছে ডিমের পরিমাণ ৬০ ভাগের বেশি হলে অবরোধের সময় নির্ধারণে বিজ্ঞানসম্মত চিন্তা করতে হবে। তবে অনুমান করা যাচ্ছে, জেলেরা মৌসুম শেষ বিধায় দুশ্চিন্তা করলেও শীত মৌসুমে পর্যাপ্ত মাছ ধরা পড়তে পারে। ইলিশের মৌসুম শেষ হলেও ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইলিশের প্রাচুর্য থাকতে পারে।



সাতদিনের সেরা