kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৩০ নভেম্বর ২০২১। ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৩

অর্থ আত্মসাত করতে ‘অপহরণ’ নাটক, ৮ বছর পর ঠাঁই কারাগারে

দিনাজপুর প্রতিনিধি   

২৫ অক্টোবর, ২০২১ ২১:৩৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অর্থ আত্মসাত করতে ‘অপহরণ’ নাটক, ৮ বছর পর ঠাঁই কারাগারে

প্রতারণার মাধ্যমে জমি বিক্রির টাকা আত্মসাত করতে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট থেকে স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে চলে যান আইমুদ্দিন (৫৪) নামে এক ব্যক্তি। এরপর তার ছেলে অপহরণ মামলা দায়ের করেন জমি ক্রেতার বিরুদ্ধে। কিন্তু প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে প্রতিপক্ষও মামলা করেন। প্রতিপক্ষের মামলায় আইমুদ্দিনের ২ বছর কারাদণ্ড হয়। কিন্তু তাকে কারাবরণ করতে হয়নি যেহেতু তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

এ ঘটনাটি ২০১৩ সালের। অবশেষে ‘অপহরণ’ নাটকের ৮ বছর পর পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে আইমুদ্দিনকে। তাকে আদালতের মাধ্যমে পাঠিয়েছে জেলা কারাগারে।

আজ সোমবার দুপুরে দিনাজপুর আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। এর আগে রবিবার দিবাগত রাতে ঘোড়াঘাট থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) রাখিমুজ্জামান রানা এবং কনস্টেবল শরিফ অভিযান চালিয়ে মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার নয়াগাঁও এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। আইমুদ্দিন ঘোড়াঘাট উপজেলার রুপসী পাড়া (ভেকসি) গ্রামের মৃত কিসমতুল্লাহর ছেলে।

ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু হাসান কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ২০১৩ সালে আইমুদ্দিন তার প্রতিবেশী মৃত তাছের আলী প্রধানের ছেলে মোজাহার আলীর কাছে ৪২ শতক জমি বিক্রির জন্য চুক্তি করেন। চুক্তি অনুযায়ী মোজাহার আলী ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা আইমুদ্দিনকে দেন। তবে জমি রেজিস্ট্রি করতে গেলে মোজাহার আলী দেখতে পান কাগজে ৪২ শতকের পরিবর্তে ৩৬ শতক লেখা। এ নিয়ে দুপক্ষের মাঝে বাকবিতণ্ডা হয়। জমির মালিক আইমুদ্দিন কৌশলে তার জমি ছেলে-মেয়ের নামে লিখে দিয়ে আত্মগোপনে চলে যান। পরে তার ছেলে আব্দুল আজিজ মোজাহার আলীকে ফাঁসাতে আদালতে গিয়ে মোজাহার আলী ও তার দলবলের বিরুদ্ধে একটি অপহরণ মামলা করেন।

এ মামলায় জামিনে এসে মোজাহার আলী জমি ক্রয়ে জালিয়াতির অভিযোগ এনে আইমুদ্দিনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। বিচার চলাকালীন অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় আদালত আসামি আইমুদ্দিনকে ২ বছরের সাজা দেন। কিন্তু আইমুদ্দিন নিখোঁজ থাকায় তাকে কারাগারে পাঠানো যায়নি।

তিনি জানান, জিজ্ঞাসাবাদে আইমুদ্দিন স্বীকার করেছেন ২০১৩ সালে স্বেচ্ছায় আত্মগোপনের পর ঘোড়াঘাট থেকে পালিয়ে তিনি প্রথমে বগুড়া এবং পরে পাবনা জেলার সাঁথিয়া থানার কাশিনাথপুর এলাকায় দীর্ঘদিন অবস্থান করেন। সেখানে থাকাকালীন চর অঞ্চলের কিছু লোকের সাথে তার পরিচয় হয় এবং সেই সুবাদে তিনি মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর থানার বাকুটিয়া চরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। সেখান স্থানীয় এক নারীকে বিয়ে করে তিনি বসবাস করে আসছিলেন। 



সাতদিনের সেরা