kalerkantho

শনিবার । ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৪ ডিসেম্বর ২০২১। ২৮ রবিউস সানি ১৪৪৩

মাছ ধরা পড়লেও জেলেদের মুখে হাসি ফুটবে তো?

ফারুক আহম্মদ, চাঁদপুর   

২৫ অক্টোবর, ২০২১ ২০:১১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মাছ ধরা পড়লেও জেলেদের মুখে হাসি ফুটবে তো?

২২ দিন পর জেলেদের জাল পড়বে জলে। তার জন্য প্রস্তুত হাজার হাজার জেলে। কারণ, প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সংরক্ষণে বন্ধ ছিল নদীতে সব ধরণের মাছ ধরা। আগামীকাল মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনাসহ দেশের ছয়টি অভয়াশ্রমে শুরু হয়েছে মাছ ধরা।

চাঁদপুর সদরের হরিণাঘাটের জেলে বিল্লাল মিসৌরী (৩৫)। অন্যের নৌকায় কাজ করেন। নদীপাড়ে ঘাটের কাছেই জাল-নৌকা নিয়ে অন্যদের সঙ্গে প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। তার চোখে এবং মুখে কিছুটা হাসির ঝিলিক। যেমনটা নদীতে জালে আটকা পড়া রূপালি ইলিশের মতো। তাই কুচকুচে কালো রঙের জেলে বিল্লল মিসৌরীর হাসির সঙ্গে ইলিশ মাছের কিছুটা আংশিক মিল খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা। জানালেন, ঘরে  স্ত্রী, সন্তান আর বৃদ্ধা মাকে নিয়ে ৬ সদস্যের সংসার। ২২ দিনের জন্য সরকারের দেওয়া ২০ কেজি চাল পেয়েছেন ঠিকই। কিন্তু তাতে এক সপ্তাহ পার করতে পেয়েছেন। তারপরও অন্যের ধারদেনা বাকি দিনগুলো চলেছে। তাই এখন যদি নদীতে মাছ মিলে। তাহলে বিগত দিনের কষ্ট দূর হবে। এসব কথা বলেই নদীর দিকে চোখ পড়ে জেলে বিল্লালের।

চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনায় মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। শুধু এমন একজন বিল্লাল মিসৌরী-ই নন। হাজার হাজার জেলে আছেন। যারা সরকারি নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলেই দলবেঁধে জাল-নৌকা নিয়ে নদীতে নেমে পড়বেন। তবে এখন যদি কাঙ্খিত ইলিশ ধরা না পড়ে। তাহলে তাদের কপালে দুঃশ্চিন্তার ভাঁজ পড়বে। কারণ, অনেক জেলেই দায় দেনায় অভাবগ্রস্ত। ফলে বিগত দিনের ক্ষতি পুষিয়ে উঠা তাদের জন্য কষ্ট হয়ে দাঁড়াবে।

এদিকে, শুধু জেলে নয়, চাঁদপুরে ইলিশসহ অন্যান্য মাছ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত দুই হাজার মানুষ। জেলা শহরের বড় স্টেশনসহ নদীপাড়ে শতাধিক মাছের পাইকারের আড়ত রয়েছে। ব্যবসার প্রয়োজনে এই মাছের সঙ্গে তাদেরও নিবিড় সম্পর্ক। তাছাড়া আর্থিক বিষয় তো রয়েছেই। তাই মাছ ব্যবসায়ীরাও আড়তের সরবরাহ নিয়ে এখন মুখিয়ে আছেন।

ইলিশ গবেষক ও মৎস্যবিজ্ঞানী ড. আনিছুর রহমান জানান, এবার সময় মতো ইলিশ ডিম ছেড়েছে। এই আশ্বিন ও কার্তিক মাস মিলিয়ে দুটি ভরা পূর্ণিমায় সাগর ছেড়ে নদীর মিঠা পানিতে ডিম ছাড়ছে সক্ষম হয়েছে। তিনি আরো জানান, এবারে এখন পর্যন্ত ৬০ ভাগ মা ইলিশ ডিম প্রজনন করেছে। ড. আনিছুর রহমান জানান, এসব ডিম এবং পরবর্তীতে জাটকা সংরক্ষণ করা গেলে আগামীতে ইলিশের উৎপাদন বিগত বছরের রেকর্ড ছাড়িয়েছে যাবে।

নৌ পুলিশ, চাঁদপুর অঞ্চলের প্রধান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জানান, গত ২২ দিনে নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী এমন সাড়ে ছয় শ জেলেকে আটক করা হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে মৎস্য সংরক্ষণ আইনে নিয়মিত মামলা রুজু হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ত্রিশ কোটি মিটার জাল, মাছ ধরার চার শতাধিক নৌকা এবং ছয় শ কেজি ইলিশ জব্দ করেছে নৌ পুলিশ।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা গোলাম মেহেদী হাসান জানান, জেলা টাস্কফোর্সের আলাদা অভিযানে ২১৮ জেলেকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এক কোটি ১০ লাখ মিটার জাল, ১২ শ কেজি ইলিশ এবং মাছ ধরার শতাধিক নৌকা জব্দ করা হয়েছে। এসময় অভিযানে নৌবাহিনী এবং কোস্টগার্ড এবং নৌপুলিশ তাদের সহায়তার কথা জানান, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা।

চাঁদপুর জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ জানান, এবারে সরকারি তালিকায় থাকা ৪৪ হাজার ৩৫ জেলেকে মাথাপিছু শুধু ২০ কেজি হারে চাল দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অতিদরিদ্র অথচ কর্মক্ষম এমন জেলেদের যুব উন্নয়ন অধিদফরের মাধ্যমে বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পরে সহজ শর্তে ব্যাং থেকে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।  



সাতদিনের সেরা