kalerkantho

রবিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৮ নভেম্বর ২০২১। ২২ রবিউস সানি ১৪৪৩

সচল যুবলীগে অচল ব্রাহ্মণবাড়িয়া!

বিশ্বজিৎ পাল বাবু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া   

২৪ অক্টোবর, ২০২১ ০০:১৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সচল যুবলীগে অচল ব্রাহ্মণবাড়িয়া!

কমিটির বয়স প্রায় দেড় যুগ অর্থাৎ কমিটি তরুণের ঘরে পা রেখেছে। আর কমিটিতে যেসব যুবদের রাখা হয় তাদের অনেকে বয়স এখন ৬০ বছরের ঘরে অর্থাৎ বৃদ্ধের তালিকায়। কেউ কেউ প্রয়াত হয়েছেন। প্রবাসে আছেন, জেল খাটছেন, পুরো দস্তুর ব্যবসায়ী হয়ে গেছেন- এমন মানুষের সংখ্যাও কম নয়।

সেই যুবলীগে হঠাৎ করেই সতেজতা। শনিবারের (২৩ অক্টোবর) বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে যেন প্রাণ ফিরেছে যুবলীগে। মূলত যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতি এ সভাকে প্রাণবন্ত করে তুলে। হাতি, ঘোড়ায় শোডাউন হয়। মোটরসাইকেলের মহড়া ছিল চোখে পড়ার মতো। 
তবে যুবলীগের এ সভাকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরসহ, কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের আশুগঞ্জ থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘাটুরা পর্যন্ত অনেকটাই অচল হয়ে পড়ে। 
যুবলীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের হাজার হাজার সমর্থক শোডাউন বের করলে এ ধরনের অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। দুর্ভোগ পোহান চলাচলকারী সাধারণ মানুষ। এদিকে বর্ধিত সভার প্রধান অতিথি যুবলীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাঈম সাংবাদিকদেরকে বলেন, ‘মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, নৈরাজ্যবাদীদের ঠাঁই হবে না কমিটিতে। কোথাও অর্থের বিনিময়ে কমিটি দেওয়া হবে না সেই নিশ্চয়তা দিচ্ছি। যে ব্যক্তির দলের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে গেছেন কমিটি গঠনে তাকেই মূল্যায়ন করা হবে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা যুবলীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয় ২০০৪ সালের ২৮ জুন। প্রায় এক বছর পর ২০০৫ সালের ১৮ জুন ৭১ সদস্যবিশিষ্ট যুবলীগের তিন বছর মেয়াদি কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওই কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. মাহবুবুল আলম খোকন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হলে অ্যাডভোকেট মো. শাহনূর ইসলামকে সভাপতি করা হয়। তবে একাধিক নেতার মৃত্যু, কেউ কেউ প্রবাসে চলে যাওয়া, সাজা হয়ে জেলে থাকা, অনেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ায় যুবলীগের কার্যক্রমে কিছুটা স্থবিরতা দেখা দেয়। এ অবস্থায় বেশ কয়েকটি উপজেলা কমিটিরও মেয়াদ শেষ হয়ে যায়।

এদিকে দীর্ঘদিন পর কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে যুবলীগের বর্ধিত সভাটাকে বেশ ‘কার্যকরি’ হিসেবেই ধরে নিয়েছেন স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। যে কারণে তাদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দেয়। গত দু’দিন ধরেই সাজ সাজ রব বিরাজ করে জেলা শহরে। ভিন্ন মাত্রা যোগ পায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি মো. হাসান সারোয়ারের আনা হাতি প্রচারণার কাজে ব্যবহার হলে।

এদিকে কেন্দ্রীয় নেতাদের স্বাগত জানাতে ও প্রচারণার জন্য শনিবার সকাল থেকে যুবলীগের হাজার হাজার নেতা-কর্মী মাঠে নামলে শহর এক প্রকার অচল হয়ে পড়ে। হাজারের ওপর মোটরসাইকেলের মহড়া চোখে পড়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর শহর থেকে শুরু করে আশুগঞ্জ পর্যন্ত। এতে ঢাকা-সিলেট ও কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের তীব্র যানজট দেখা দেয়। নেতা-কর্মীরা দুপুর ১টার দিকে কাউতলী থেকে কুমারশীল মোড় পর্যন্ত অবস্থান নিলে যান চলাচলে ব্যাঘাত ঘটে। কোথাও কোথাও নেতা-কর্মীরাও যানবাহন আটকে বিকল্প পথে চলতে দেন। বেলা ২টার দিকে ভিআইপি মুভমেন্ট আছে উল্লেখ করে টিএ রোড এলাকায় পুলিশও যানবাহন আটকে রাখেন।   

সন্ধ্যা ৭টায় এ রিপোর্ট লেখার সময় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বর্ধিত সভা চলছিল। সভায় উপস্থিত থাকা আখাউড়া উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক মো. আব্দুল মমিন বাবলু জানান, উপজেলা পর্যায়ের নেতারা তাদের বক্তব্যে দ্রুত সম্মেলন দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।



সাতদিনের সেরা