kalerkantho

শনিবার । ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৭ নভেম্বর ২০২১। ২১ রবিউস সানি ১৪৪৩

অযত্ন-অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে আড়াইশ বছরের পুরনো সলপের শিবমন্দির

আতাউর রহমান রাজু, উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি    

২২ অক্টোবর, ২০২১ ১৬:২৬ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



অযত্ন-অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে আড়াইশ বছরের পুরনো সলপের শিবমন্দির

আড়াইশ বছরের প্রাচীন সলপ শিবমন্দির নষ্ট হয়ে যাচ্ছে অযত্ন আর অবহেলায়। খুলে পড়ছে এর দেয়ালের ইট-চুন-সুরকি। উল্লাপাড়া উপজেলা সদর থেকে আট কিলোমিটার দূরের সলপ গ্রামের এই আকর্ষণীয় মন্দিরকে পরগাছা প্রায় গ্রাস করে ফেলেছে। কাছে না গেলে এর অস্তিত্ব এখন চোখে পড়ে না। মন্দিরে কষ্টিপাথরের বিরাট আকারের মূল্যবান শিবমূর্তি চুরি হয়ে যাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে এখানে পূজা-অর্চনাও বন্ধ রয়েছে। অবিলম্বে সংস্কার করা না হলে খুব শিগগিরই এটি ধ্বংস হয়ে যাবে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

নাটোরের মহারানী ভবানীর পৃষ্ঠপোষকতায় সলপের ঐতিহ্যবাহী সান্যাল জমিদার পরিবার ১১৮০ বঙ্গাব্দে সলপ জয়কালী মন্দির প্রতিষ্ঠার সময় কালী মন্দিরের পাশে বহু কারুকার্যখচিত শিবমন্দিরটি স্থাপন করেন। বছরের বিভিন্ন সময়ে এখানে মহাধুমধামে পূজা-অর্চনা ও উৎসব হতো। কলকাতাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে ধর্মানুরাগী নারী-পুরুষ এসব উৎসবে যোগ দিতেন। এ মন্দির চত্বরের বসন্তমেলায় পূর্ব বাংলার বিভিন্ন স্থান থেকে জনসমাগম ঘটত। রানী ভবানী ও সান্যাল পরিবার ইতিহাসের অংশ হওয়ায় এ মন্দিরটিরও ভিন্নমাত্রিক গুরুত্ব রয়েছে। 

সলপ জয়কালী মন্দিরের সেবাইত কৃষ্ণা সান্যাল জানান, ষাটের দশকের গোড়ার দিকে জমিদাররা ভারতে চলে গেলে মন্দিরের দেখাশোনার দায়িত্ব পান জমিদারদের বংশধর সলপের দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর। তখন মাঝেমধ্যে পূজা-অর্চনা হলেও ১৯৮৬ সালে তার মৃত্যুর পর এটি অরক্ষিত হয়ে পড়ে। ওই বছরই চুরি হয় মন্দিরের মূল্যবান শিবমূর্তি। এরপর এখানে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা বন্ধই হয়ে যায়।

সলপ গ্রামের বাসিন্দা সুদেব রাজবংশী জানান, গ্রামে এখন ২০-২৫টি দরিদ্র হিন্দু পরিবারের বসতি আছে। যাদের পক্ষ থেকে মন্দিরটি সংস্কার ও শিবমূর্তি পুনঃস্থাপন করা সম্ভব নয়। ধর্ম মন্ত্রণালয়ে এটি সংস্কারের জন্য কয়েক দফা আবেদন জানালেও কোনো কাজ হয়নি। ফলে হারিয়ে যাওয়ার পথে কালের সাক্ষী সলপের শিবমন্দির।



সাতদিনের সেরা