kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৩০ নভেম্বর ২০২১। ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৩

তিস্তার তাণ্ডবে হাজারও পরিবার পানিবন্দি

অনলাইন ডেস্ক   

২১ অক্টোবর, ২০২১ ১৬:৫৯ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



তিস্তার তাণ্ডবে হাজারও পরিবার পানিবন্দি

কয়েক দিনের ভারি বর্ষণসহ ভারত থেকে নেমে আসা ঢলে তিস্তা নদীতে অস্বাভাবিক হারে পানি বৃদ্ধির ফলে লালমনিরহাটের পাটগ্রামের দহগ্রাম ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বন্যায় দহগ্রাম-আঙ্গরপোতার নদীতীরবর্তী কয়েকটি এলাকায় তাণ্ডব চালিয়েছে তিস্তার ঢল। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত রাত ১০টার পর থেকে হঠাৎ তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে। পরদিন বুধবার (২০ অক্টোবর) বিকেল পর্যন্ত চলে এ বৃদ্ধি। এতে প্রায় সাড়ে তিন শ বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বুধবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে বন্যা কবলিত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দহগ্রাম ইউনিয়নের তিস্তা চরাঞ্চলসহ ১ নং ওয়ার্ডের কলোনিপাড়া, সর্দারপাড়া, ৪নং ওয়ার্ডের মহিমপাড়া, বড়বাড়ি, ৮নং ওয়ার্ডের সৈয়দপাড়া, মুন্সিপাড়া, ক্লিনিক পাড়া ৯নং ওয়ার্ডের কাতিপাড়া, কদুআমতলা এলাকায় বন্যা চরম আকার ধারণ করেছে। এখানকার কয়েক হাজার মানুষ মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। পানিবন্দি গ্রামের শিশু, বৃদ্ধ ও গৃহপালিত পশু নিয়ে অর্থাহারে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন অনেকে। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে আমন ধান, চা-বাগান, ভুট্টা, সবজি ক্ষেত। পানিতে ভেসে গেছে মাছ।

এদিকে বন্যাকবলিত এলাকা ঘুরে দেখেছেন পাটগ্রাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রুহুল আমীন বাবুল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুর রহমান, উপজেলা প্রকৌশলী মাহবুব-উল আলম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) উত্তম কুমার নন্দী।

দহগ্রাম ইউনিয়নে বন্যাকবলিত এলাকায় শুকনো খাবার বিতরণ করেন দহগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন প্রধান ও দহগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান।

দহগ্রাম ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের কাতিপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোছা. আছমিরা বেগম (৪৫) ও মনি বেগম (৩২) বলেন, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে বন্যার পানি ঘরে উঠেছে। দুই দিন থেকে রান্না করতে পারছি না। বাহির থেকে খাবার এনে খেতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে দহগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন প্রধান বলেন, বন্যায় প্রায় দুই হাজার পরিবার পানিবন্দি। কয়েক হাজার বিঘা ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক পুকুরের মাছ পানিতে ভেসে গেছে। আমার বয়সে এ রকম বন্যা দেখিনি। আমার পক্ষ থেকে পানিবন্দি মানুষদের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।



সাতদিনের সেরা