kalerkantho

রবিবার । ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৫ ডিসেম্বর ২০২১। ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৩

নান্দাইলে ডিলারদের নানা ছুতোয় টিসিবি'র পণ্য পাচ্ছেন না ভোক্তারা

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

২১ অক্টোবর, ২০২১ ১৬:১৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নান্দাইলে ডিলারদের নানা ছুতোয় টিসিবি'র পণ্য পাচ্ছেন না ভোক্তারা

প্রতীকী ছবি

বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম আকাশচুম্বি হওয়ায় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠে গেছে। তারা চেয়ে থাকেন টিসিবির দেওয়া স্বল্পমূল্যের পণ্যের দিকে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ময়মনসিংহের নান্দাইলে সরকার নির্ধারিত তালিকাভুক্ত ডিলাররা নানা ছুতোয় উত্তোলন করছেন না পণ্য। ফলে একরকম বাধ্য হয়েই অধিক মূল্যের পণ্য বাজার থেকে কিনতে হচ্ছে স্বল্প আয়ের মানুষদের। সরকার নির্ধারিত স্বল্পমূল্যে পণ্য কেনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। 

স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলাটিতে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এর তালিকাভুক্ত ডিলারের সংখ্যা ৭। এগুলো হচ্ছে- ভাই ভাই ট্রেডার্স, মেসার্স মোত্তাকিন ভুইয়া, সাদিদ এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স আব্দুল লতিফ, বৈশাখি, দ্রুব এন্টারপ্রাইজ ও সৌরভ এন্টারপ্রাইজ। ময়মনসিংহ টিসিবি'র কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিমাসে ধারাবাহিকভাবে ৭ জন ডিলারকে ৩শ কেজি ডাল, ৩শ কেজি চিনি, ৩শ থেকে ৪শ লিটার তেল ও ১২ কেজি পেঁয়াজ দেওয়া হয়ে থাকে। এর মধ্যে প্রতিলিটার তেলের বোতল ১০০ টাকা, প্রতিকেজি চিনি ও ডাল ৫৫ টাকা ও পেঁয়াজ ৩০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়। কিন্তু বর্তমান বাজারে প্রতিলিটার তেল ১৬০ টাকা, চিনি ৮০ টাকা, ডাল ১২০ টাকা ও পেঁয়াজ ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ অবস্থায় বাজার স্থিতিশীল রাখতে টিসিবির পণ্য খোলাবাজারে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কিন্তু বর্তমান সময়ে ডিলাররা অজ্ঞাত কারণে পণ্য তুলছেন না। নানা অজুহাতের মধ্যে তারা সময়ক্ষেপণ করছেন। 

ময়মনসিংহ টিসিবি'র উর্ধ্বতন কার্যনির্বাহী মো. বজলুর রশীদ কালের কণ্ঠকে বলেন, আমি তিন ডিলারকে মালামাল উত্তোলনের জন্য ফোন দিয়েছি। তাদের মধ্যে বৈশাখির মালিক প্রশান্ত কুমার বাচ্চু ফোন ধরে বলেছেন, তিনি হাসপাতালে। দ্রুব এন্টারপ্রাইজের মালিক বলেছেন, তিনি মালামাল উত্তোলন করতে পারবেন না এবং সৌরভ এন্টারপ্রাইজের মালিক আবু ইয়াহিয়া মোহাম্মদ সুমনকে বেশ কয়েকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। 

এ ব্যাপারে ডিলার প্রশান্ত কুমার বাচ্চু বলেন, আমার কিডনির সমস্যা, তাই বিশ্রামে আছি। অপর ডিলার আব্দুল লতিফ বলেন, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচনে আমি একজন প্রার্থী। তাই নির্বাচনের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছি। এখন মালামাল উত্তোলন করা যাবে না। আরেক ডিলার মোত্তাকিন ভুইয়া বলেন, পচা পেঁয়াজ কিনতে ক্রেতারা বাধ্য নিয়ম থাকায় পণ্য নিয়ে ঝামেলায় পড়তে হয়। তাছাড়া অন্যান্য পণ্য পরিমাণে কম দেওয়া হয়। তাই উত্তোলন করছি না।

কয়েকজন ক্রেতা জানান, যখন বাজারের সাথে টিসিবির পণ্যের দাম সমান বা কিছু বেশি থাকে তখন প্রতি সপ্তাহেই টিসিবির পণ্য বিক্রি করতে দেখা গেছে। এখন বাজারের পণ্যের সাথে টিসিবি'র পণ্যের অনেক তফাৎ। তাই টিসিবি'র মালামাল পাওয়া যাচ্ছে না। এটা এক ধরনের শুভঙ্করের ফাঁকি।

এ ব্যাপারে টিসিবি'র উর্ধ্বতন কার্যনির্বাহী মো. বজলুর রশীদ জানান, আজ-কালের মধ্যে মালামাল না নিলে প্রত্যেক ডিলারকে শোকজ করা হবে। প্রয়োজনে বাতিল করে নতুন ডিলার নেওয়া হবে।



সাতদিনের সেরা