kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২ ডিসেম্বর ২০২১। ২৬ রবিউস সানি ১৪৪৩

বালুমহাল-জায়গার বিরোধে প্রতিপক্ষের হামলা

বাঁশখালীতে চাচা-ভাতিজা খুন, থানায় এক আসামির বিষপান

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি    

২১ অক্টোবর, ২০২১ ১৪:০৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাঁশখালীতে চাচা-ভাতিজা খুন, থানায় এক আসামির বিষপান

ভাতিজা আব্দুল খালেককে (বামে) এবং চাচা সোলতান মাহমুদ টিপু

বালুমহাল ও জায়গার বিরোধকে কেন্দ্র করে গত বুধবার (২০ অক্টোবর) বেলা ২টায় বাঁশখালী প্রধান সড়কের মনছুরিয়া বাজার এলাকায় চাচা-ভাতিজা খুন হয়েছেন। পুলিশ আসামি গ্রেপ্তারের পর থানার ভেতরে এক আসামির বিষপানের ঘটনাও ঘটেছে। সন্ত্রাসীরা বাজারের মধ্যে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাত ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে চাচা সোলতান মাহমুদ টিপু (৩৮) ও ভাতিজা আব্দুল খালেককে (৩৫) হত্যা করে। ওই ঘটনায় মো. কামাল উদ্দিন (৫০), মনজুর (৪৫) ও বাহাদুর (২৭)-সহ ৩ জন গুরুতর আহত হন। গ্রেপ্তারের পর রাসেল নামের এক ওই যুবক বিষপান করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাপপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে নিহত আব্দুল খালেকের মা বাদী হয়ে গত বুধবার রাতেই ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ৬ জনকে অজ্ঞাত দেখিয়ে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ এজাহারনামীয় ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এদের মধ্যে আহত বাহাদুর, মনজুর এবং বিষপান করা মো. রাসেল যথাক্রমে হত্যা মামলার ১, ২ ও ৪ নম্বর আসামি হিসেবে পুলিশি হেফাজতে চিকিৎসাধীন আছেন। হতাহত প্রত্যেকের বাড়ি বাঁশখালী পৌরসভার দক্ষিণ জলদী গ্রামের রঙ্গিয়াঘোনা এলাকায়। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আব্দুল খালেক ও সোলতান মাহমুদ টিপু হত্যার ঘটনায় এজাহারনামীয় আসামি শীলকূপের মো. ছিদ্দিককে গ্রেপ্তার করলে তার পুত্র মো. রাসেল থানায় এসে থানার ভেতরে পুলিশের সামনে বিষপান করেন। বিষপানের কারণ হিসেবে চিৎকার করে বলতে থাকেন, আমার বাবা হত্যার সাথে জড়িত নয়, পুলিশ অন্যায়ভাবে আমার বাবাকে ধরেছে, তাই বিষপান করে আত্মহত্যা করবো। এসব বলেই তিনি সঙ্গে করে নিয়ে আসা বিষ মুখে ঢেলে দেন। মো. রাসেল বিষপান করার সাথে সাথে পুলিশ তাকে বাঁশখালী হাসপাতালে ভর্তি করায়। ওখান থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়। নিহতের মা বাদী হয়ে মো. রাসেলকে এজাহারে ৪ নম্বর আসামি করেছেন।

নিহত আব্দুল খালেক বঙ্গবন্ধু শিশু-কিশোর মেলা সংগঠনের বাঁশখালী উপজেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি রাজনীতির পাশাপাশি একটি ওষুধ কম্পানির এমআর হিসেবে চাকরি করতেন এবং স্থানীয় একটি বালুমহাল ব্যবসায় জড়িত ছিলেন। তার নিহত চাচা সোলমাহমুদও ছাত্র রাজনীতি করতেন। তাদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে বাঁশখালী ইকোপার্ক সংলগ্ন শীলকূপ আশিঘর পাড়া এলাকার একটি বালুমহাল ও পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে স্থানীয় কিছু যুবক এবং কাছিম আলীর ছেলেদের সাথে বিরোধ চলে আসছিল। গত একমাস ধরে কয়েক দফা মারামারির ঘটনাও ঘটেছে। সর্বশেষ গত বুধবার দুপুর ১২টায় কাছিম আলীর ছেলেদের সাথে তাদের পাড়া রঙ্গিয়াঘোনা এলাকায় হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এর দুই ঘণ্টা পর বাড়ির পাশে মনছুরিয়া বাজার এলাকায় আব্দুল খালেক ও তার চাচা সোলতান মাহমুদ টিপু গেলে ওঁৎ পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা তাদের প্রকাশ্যে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত ও হাতুড়িপেটা করতে থাকে। ওইসময় বাজারে অনেক লোকজন ছিল। এ ঘটনায় অন্যান্যরাও আহত হন।

বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামাল উদ্দিন বলেন, জায়গার বিরোধকে কেন্দ্র করে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। নিহত আব্দুল খালেকের মা বাদী হয়ে ১০ জনকে আসামি করে মামলা দিয়েছেন। হত্যার মূল হোতাসহ এজাহারনামীয় ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিষপান করা আসামি মো. রাসেলকে পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।



সাতদিনের সেরা