kalerkantho

শনিবার । ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৪ ডিসেম্বর ২০২১। ২৮ রবিউস সানি ১৪৪৩

নীলফামারীতে তিস্তার পানি কমলেও দুর্ভোগে দিশেহারা ৫ সহস্রাধিক পরিবার

নীলফামারী প্রতিনিধি    

২১ অক্টোবর, ২০২১ ১২:৩৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নীলফামারীতে তিস্তার পানি কমলেও দুর্ভোগে দিশেহারা ৫ সহস্রাধিক পরিবার

নীলফামারীতে তিস্তার আগ্রাসন কিছুটা কমেছে, বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় ডালিয়ায় তিস্তা ব্যরাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ৪০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। নদীর পানি কমলেও দুর্ভোগ কমেনি বানভাসি মানুষের। বাঁধসহ বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেওয়া মানুষের মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।

ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খাঁন জানান, বাড়িঘর ছেড়ে বিভিন্ন স্থানে আশ্রিত মানুষের মাঝে খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে। পর্যাপ্ত ত্রাণ বরাদ্দের প্রয়োজন জরুরি হয়ে পড়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, উজানের ঢলে তিস্তায় অকাল বন্যার সৃষ্টি হয়। গতকাল বুধবার দুপুরে ডালিয়ায় তিস্তা ব্যারাজে নদীর পানি বিপৎসীমার ৭০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। ধারণক্ষমতার বাইরে পানি প্রবাহ হওয়ায় ফ্লাটবাইপাস স্বাভাবিক গতিতে খুলে ১০০ মিটার দিয়ে পানি প্রবাহিত হতে থাকে। এতে করে ডালিয়া ব্যারাজ পয়েন্ট থেকে লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা ও পাটগ্রামের যোগাযোগ বন্ধ হয়। আজ বৃহস্পতিবার পানি কমে সকাল ৬টায় ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ৩০ সেন্টিমিটার এবং সকাল ৯টায় ৪০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

সূত্রমতে, বন্যায় ব্যারাজের উজানে ডিমলা উপজেলার পশ্চিমছাতনাই ইউনিয়নে নদীর প্রবেশপথ কালিগঞ্জ এলাকায় টি-বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে। এসময় পানিবন্দি হয়ে পড়ে পূর্বছাতনাই ও পশ্চিমছাতনাই ইউনিয়নের অন্তত তিন হাজার পরিবার। এসব পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে সহায়-সম্বল নিয়ে বাঁধসহ উঁচুস্থানে আশ্রয়গ্রহণ করেছে। পানির তোড়ে বিধ্বস্ত হয়েছে টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের দক্ষিণখড়িবাড়ী গ্রামের স্বপনবাঁধ। এছাড়া ব্যারাজের ভাটিতে ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নে দুটি স্পারবাঁধ ভেঙে অন্তত দুই সহস্রাধিক পরিবারের বাড়িঘর পানিতে নিমজ্জিত হয়। ঢলের পানিতে খালিশাচাপনী ইউনিয়নের বাইশপুকুর গ্রাম নিমজ্জিত হয়ে পানিবন্দি হয়েছে সহস্রাধিক পরিবার। ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী ও গয়াবাড়ি ইউনিয়ন এবং জলঢাকা উপজেলার ডাউয়াবাড়ী, শৌলমারী, কৈমারী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়ে ৫ হাজারেরও বেশি পরিবার বন্যাকবলিত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। 

টেপাখড়িবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মো. ময়নুল হক জানান, ইউনিয়নের টাপুর চর, পূর্বখড়িবাড়ি, পাগলির বাজার, বাংলাবাজারসহ বিভিন্ন গ্রামের ২ সহস্রাধিক পরিবার বন্যাকবলিত হয়েছে। পানির তোড়ে টাপুরচরে স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত বাঁধটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বৃহস্পতিবার পানি কমলেও বাড়িতে ফিরতে পারেনি বিভিন্ন স্থানের আশ্রিত মানুষজন। এসব মানুষের মাঝে খাদ্যসহ বিশুদ্ধ পানীয় জলের সংকট দেখা দিয়েছে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসফাউদদৌলা বলেন, আজকে সকাল থেকে ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ব্যারাজের সব কটি (৪৪) গেট খুলে রেখে সতর্কাবস্থায় রয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। সৃষ্ট বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি নিরুপনের কাজ চলছে।

এদিকে, নীলফামারীর জেলা প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান চৌধুরী  এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের উত্তরাঞ্চল রংপুরের প্রধান প্রকৌশলী জ্যোতি প্রসাদ ঘোষ গতকাল বুধবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শন শেষে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উত্তরাঞ্চল রংপুরের প্রধান প্রকৌশলী জ্যোতি প্রসাদ ঘোষ আনুমানিক ৫০ কোটি টাকা ক্ষয়ক্ষতির কথা জানান।

জেলা প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান চৌধুরী জানান, বন্যাকবলিতদের জন্য ৪০ মেট্রিকটন চাল এবং ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।



সাতদিনের সেরা