kalerkantho

শনিবার । ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৭ নভেম্বর ২০২১। ২১ রবিউস সানি ১৪৪৩

কেজিতে বিক্রি হচ্ছে খড়!

হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

২০ অক্টোবর, ২০২১ ২১:৪৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কেজিতে বিক্রি হচ্ছে খড়!

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার নিম্নাঞ্চলে চলতি বন্যার পানিতে ডুবে নষ্ট হয়েছে বিস্তীর্ণ চারণভূমি। পশু খাদ্যের সংকটে পড়েছে পশু মালিকরা। খাদ্যের জোগান দিতে হিমশিম খেতে হয়েছে নিম্নাঞ্চলের কৃষকদের। অনেক কৃষকের মজুদ করা শুকনো খড় বন্যার পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে।

বর্তমানে বন্যার পানি না থাকলেও নিম্নাঞ্চলের কৃষকদের খড়ের মজুদ শেষ হয়ে যাওয়ায় বাজার থেকে ২৫ টাকা কেজিতে খড় কিনছেন খামারি ও সাধারণ কৃষকরা।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্যমতে, উপজেলায় মোট গবাদি পশুর খামার রয়েছে ১১৪টি। আর মোট গবাদি পশুর সংখ্যা এক লাখ ৪৪ হাজার। গেলো বোরা মৌসুমের শেষ দিকে আকস্মিক বন্যার কারণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় অনেক জায়গায় গো-খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, এ বছর উপজেলায় মোট ২৪ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের চাষ হয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় আগাম ধান কাটা শুরু হলেও নভেম্বর মাসের শেষের দিকে পুরোপুরি ভাবে ধান কাটা শুরু হবে। ফলে কৃষকদের এখনো প্রায় নতুন খড়ের জন্য দেড় মাস অপেক্ষা করতে হবে।

উপজেলার ধারা, নাগলা, ধুরাইল, শাকুয়াই, বিলডোরা সহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে অস্থায়ী খড়ের বাজার। সেখানে প্রতি কেজি বোরো ধানের খড় ২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা যায়। পাঁচ কেজি খড়ের আটি বিক্রি হচ্ছে ১২৫ টাকা দরে। বাজারে খড় আনার সাথে সাথেই সেগুলো বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।

ধারা বাজারে খড় কিনতে আসা গরুর খামারি নাজমুল ইসলাম বলেন, এবার বোরোর খড় শুকানোর সুযোগ পাইনি। বৃষ্টির পানিতে সব খড় নষ্ট হয়ে গেছে। যেটুকু সংগ্রহ করতে পেরেছিলাম তাও শেষ। আমন ধান ঘরে না ওঠা পর্যন্ত খড় কেনা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। গরু নিয়ে খুব বিপদে আছি। প্রতিদিন বাজার থেকে ২৫ টাকা কেজি দরে খড় কিনতে হচ্ছে।

বিলডোরা এলাকার আরেক খামারি কুদ্দুস মিয়া বলেন, এবার ফসল ঘরে তুলে শেষ করতে পারি নাই, বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে। গরুর ভুঁসি, ফিডের দাম অনেক বেশি। ফলে বাধ্য হয়ে বেশি দামে খড় কিনতে হচ্ছে। গরু নিয়ে মহা সমস্যায় আছি। বিক্রি করে দিলেও ভালো দাম এখন পাবো না।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শহিদুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, নিম্নাঞ্চলের অনেক কৃষক এবার আকস্মিক বন্যার কারণে বোরোর খড় শুকাতে পারেননি। সংরক্ষণ করা খড়ও শেষ হয়েছে। এ কারণে উপজেলার কিছু কিছু জায়গায় খড়ের সংকট দেখা দিতে পারে। তবে আমরা কৃষকদের খড়ের বিকল্প হিসেবে কচুড়িপানা খাওয়ানোর পরামর্শ দিচ্ছি।



সাতদিনের সেরা