kalerkantho

বুধবার । ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৮ ডিসেম্বর ২০২১। ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

ছেলেরা ব্যাংকার-ডাক্তার-ব্যবসায়ী, তবুও মায়ের খোঁজ নেন না কেউ!

ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি   

২০ অক্টোবর, ২০২১ ১৮:২৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ছেলেরা ব্যাংকার-ডাক্তার-ব্যবসায়ী, তবুও মায়ের খোঁজ নেন না কেউ!

শতবর্ষী বৃদ্ধা মরিয়ম বেগম।

মরিময় বেগমের বয়স এখন শতবর্ষ। এই বৃদ্ধার রয়েছে আট সন্তান। ছয় ছেলে ও দুই মেয়ে। ছেলেরা সবাই প্রতিষ্ঠিত। বড় ছেলে আক্তার হোসেন অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা। অন্য ছেলেদের মধ্যে আবদুল্লাহ বাকী ব্যবসায়ী, সাখাওয়াত হোসেন সাকি গার্মেন্ট ব্যবসায়ী, ছোট ছেলে ডাক্তার হুমায়ূন কবির শিশু বিশেষজ্ঞ (বিসিএস), জাহাঙ্গীর হোসেন ল্যান্ড ব্যবসায়ী এবং আলমগী হোসেন প্রবাসী। প্রবাসী আলমগীর ছাড়া পাঁচ ছেলে তাদের পরিবার নিয়ে থাকেন ঢাকায়।

এদিকে, দুই মেয়ে বিয়ে হয়ে গেছে। তাদের অবস্থাও মোটামুটি ভালো। কারো সংসারে অভাব অনটন নেই।

শুধু বৃদ্ধ মাকে ভরণ-পোষণ করতে যেন তাদের অভাবের শেষ নেই। প্রত্যেকের ঘরেই আছে শান্তির সুবাতাস। কিন্তু মায়ের অন্তর যন্ত্রনা আর অশান্তিতে ভরপুর। খেয়ে না খেয়ে বিনা চিকিৎসায় দিনাতিপাত করছেন আট সন্তানের জননী মরিয়ম বেগম। ক্ষুধার যন্ত্রণায় ছটফট করেন প্রতিনিয়ত। কোনো ছেলে কিংবা মেয়ের ঘরে আশ্রয় হয়নি শতবর্ষী মরিয়ম বেগমের।

মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) সকালে নিজ বাড়ি থেকে একা বের হন মরিয়ম। বয়সের ভারে ন্যুব্জ মরিয়ম পড়ে যান রাস্তার পাশেই। আহত হন তিনি। ছেলে-মেয়েরা খবর না রাখায় গ্রামবাসী তাকে দেখভালের দায়িত্ব দেন ভাইয়ের ছেলে আবদুল লতিফের কাছে। আবদুল লতিফ ওই বৃদ্ধার সেবা শুশ্রুষা ও চিকিৎসা করান। এ হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটেছে ধামরাইয়ের কুশুরা ইউনিয়নের নরসিংহপুর (রশিমপুর) গ্রামে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুর রফিক ও গ্রামবাসীরা জানান, মরিয়মের বাবা আসুর উদ্দিন সরকার ছিলেন মাইটা জমিদার। শত শত বিঘা জমি ছিল তার। মেয়ের নামে (মরিয়ম) ১৫ বিঘা জমি লিখে দিয়েছিলেন তার বাবা। একমাত্র মেয়েকে বিয়ে দিয়ে ঘরজামাই এনেছিলেন আবদুস সালামকে। মরিয়ম-সালামের দাম্পত্য জীবনে ছয় ছেলে দুই মেয়ের জন্ম। জমি বিক্রি করে প্রত্যেককে সুশিক্ষায় মানুষও করেছেন তারা। এখন তারা প্রত্যেকেই প্রতিষ্ঠিত। এক বিঘা জমি বিক্রি করে গত কয়েক বছর আগে ছেলে আলমগীরকে বিদেশ পাঠান মরিয়ম। এ নিয়ে অন্য ছেলেরা মায়ের প্রতি চরমভাবে ক্ষুব্ধ হন। এখন মাকে কেউ ভরণ পোষন করেন না। মায়ের কোন খোঁজ খবরও রাখেন না।

এ বিষয়ে বৃদ্ধার ছেলে ডাক্তার হুমায়ূন কবিরের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলে তার সহকারী রিসিভ করে বলেন, স্যার এখন কথা বলতে পারবেন না। তিনি রোগী দেখতেছেন ঢাকার সেন্ট্রাল হাসপাতালে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকী বলেন, মা-বাবাকে ভরণ পোষণ না করলে ছেলে সন্তানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 



সাতদিনের সেরা