kalerkantho

শনিবার । ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৭ নভেম্বর ২০২১। ২১ রবিউস সানি ১৪৪৩

ছিনতাইয়ের অভিযোগে বন থেকে আটক হলেন 'টারজান'

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১৯ অক্টোবর, ২০২১ ১৩:৫৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ছিনতাইয়ের অভিযোগে বন থেকে আটক হলেন 'টারজান'

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন সামাজিক বন থেকে স্থানীয় এক কথিত ছিনতাইকারীকে আটক করা হয়েছে। সোমবার বিকেলে কুমিল্লা সামাজিক বনায়ন নার্সারি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ছিনতাই করার চেষ্টাকালে তাকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আটক করে। পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

আটক হওয়া ছিনতাইকারী স্থানীয়দের কাছে 'টারজান' নামে পরিচিত। তার নাম মো. ইকবাল। তিনি কুমিল্লার কোটবাড়ী অঞ্চলের সালমানপুরের বাসিন্দা।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসীর বরাত থেকে জানা যায়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের সামাজিক বনে মুন্সীগঞ্জের বাহরাইনপ্রবাসী রাসেল দেওয়ান তার এক মেয়ে বন্ধুকে নিয়ে ঘুরতে যান। বনের ভেতর আড্ডা দেওয়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থী সাকিব ও তার বন্ধু আজহারসহ আরো কয়েকজন তাদের সঙ্গে তর্কে জড়ান এবং তাদের কাছে থাকা ফোন ও মানিব্যাগ হাতিয়ে নেন। এ সময় দূরে দাঁড়িয়ে থাকা ইকবাল ওরফে টারজান এবং তার সহযোগী মিজান, আলাউদ্দিনসহ অন্যরা বিষয়টি দেখতে পান। তারা এসে সাকিব ও তার বন্ধুদের ওপর হামলা চালান এবং সাকিবের মোবাইল, আজহারের মানিব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে তাদের মারধর করেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে গেলে তাদের ওপর টারজান ও তার সহযোগীরা চড়াও হন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের উত্তমমধ্যম দিয়ে ইকবাল ও আলাউদ্দিনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে নিয়ে যান।

মূল ঘটনা খুঁজতে গিয়ে জানা যায়, মূলত আজহার মেয়েটির বাল্যবন্ধু। মেয়েটার সঙ্গে আজহার ও তার সহযোগীদের সঙ্গে আগে থেকেই যোগাযোগ ছিল। তাদের পরিকল্পনা ছিল, মেয়েটি প্রবাসী রাসেল দেওয়ানকে সামাজিক বনে ঘুরতে নিয়ে আসবে। পরে তার থেকে মোবাইল ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হবে।

মেয়েটির অভিযোগ, রাসেল দেওয়ানের সঙ্গে তার দীর্ঘ চার বছরের সম্পর্ক। তবে সম্প্রতি তাদের সম্পর্কে টানাপড়েন শুরু হয়েছে। রাসেল বিভিন্নভাবে তাকে ব্ল্যাকমেইল করে আসছিলেন।

এ বিষয়ে বাহরাইনপ্রবাসী রাসেল জানান, ওই মেয়ের সঙ্গে আমার ৫-৬ বছরের সম্পর্ক। আমাদের উভয়ের পরিবার বিষয়টি জানে। কিন্তু কেন এমন হলো সেটি বুঝতে পারছি না।

অভিযুক্ত আজহার ওই ছাত্রীর বিষয়ে জানান, সে আমার বাল্যবন্ধু। তার প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করার কথা বলে আমাকে এখানে নিয়ে আসে। ঘটনাটি এত দূর গড়াবে বুঝতে পারিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের দাবি, সামাজিক বনসহ বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিভিন্ন স্থানে ইকবাল ওরফে টারজান ও তার সহযোগীরা প্রতিনিয়ত ছিনতাই করে।

ইকবাল বলেন, কয়েকজন মিলে একজন ছেলে ও মেয়েকে মারতেছে দেখে আমি, নয়ন ও মিজান তাদের বাঁচাতে ছুটে যাই। আমরা তাদের বাধা দিই। আমি কারো মোবাইল নিইনি।

এ প্রসঙ্গে কোটবাড়ী ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীরা একজন ছিনতাইকারীকে আটক করেছে শুনে আমি সেখানে যাই। আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আগেও অভিযোগ ছিল। আমরা তাকে থানায় সোপর্দ করেছি।



সাতদিনের সেরা