kalerkantho

রবিবার । ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৫ ডিসেম্বর ২০২১। ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৩

৪ কিলোমিটারে ২৩টি গর্ত, গোটা সড়কই মরণফাঁদ

বেতাগী (বরগুনা) প্রতিনিধি   

১৯ অক্টোবর, ২০২১ ১১:১৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



৪ কিলোমিটারে ২৩টি গর্ত, গোটা সড়কই মরণফাঁদ

বেতাগী উপজেলার বাসন্ডা পুলের হাট থেকে হোসনাবাদের জলিসা বাজার পর্যন্ত ৪.৮৪ কিলোমিটার সড়কে এমন ছোট-বড় ২৩টি গর্ত রয়েছে

বরগুনার বেতাগী উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের ৪ কিলোমিটার আঞ্চলিক সড়কে ছোট-বড় মিলিয়ে ২৩টি গর্ত রয়েছে। পথচারীসহ রিকশা, সাইকেল, মোটরবাইক, অটো, মাহিন্দ্রা ও পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলের ক্ষেত্রে গোটা সড়কই একটা মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। এতে চরম দুভোর্গে পড়েছেন দুই উপজেলার ২০ হাজার মানুষ। 

উপজেলা প্রকৌশলী অফিস থেকে জানা গেছে, উপজেলার বাসন্ডা পুলের হাট থেকে হোসনাবাদ ইউনিয়নের জলিসা বাজারের রাসেল স্কয়ার পর্যন্ত ৪ দশমিক ৮৪ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক। সড়ক পুনঃসংস্কারের জন্য ২০২০-২০২১ অর্থবছরের স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০২০ সালের জুন মাসে দুই প্যাকেজে দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে বিধি মোতাবেক দরপত্রের প্রাক্কলন অনুযায়ী জলিসা বাজারের রাসেল স্কয়ার থেকে ২ দশমিক ৩২ কিলোমিটার কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয় বরগুনার ‘সোহেল ট্রেডাস’ নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে। এতে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৪৬ লাখ ৬০ হাজার ১৩১ টাকা। এর বাকি অংশ বাসন্ডা পুলের হাট পর্যন্ত ২ দশমিক ৫৭ কিলোমিটার কাজ পায় বরগুনার ‘রাজ্জাক এন্টারপ্রাইজ’ নামে আরেক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। অর্থবরাদ্দ দেওয়া হয় ৫৫ লাখ ৯১ হাজার ৭৮৯ টাকা। গত ৫ জানুয়ারি প্রথম প্যাকেজে সোহেল ট্রেডার্সের কাজ এবং গত ২ ফেব্রুয়ারি রাজ্জাক এন্টারপ্রাইজের  দ্বিতীয় প্যাকেজের কাজ শেষ হয়। 
  
সরেজমিনে দেখা গেছে, এ সড়কে ছোট-বড় ২৩টি গর্ত হয়েছে। কোনো কোনো স্থানে সড়ক ভেঙে রীতিমতো নালার মতো সৃষ্টি হয়েছে। মানুষ চলাচলের জন্য দেওয়া হয়েছে বাঁশ ও সুপারি গাছের সাঁকো। বর্তমানে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন জলিসা বাজারের ছোট-বড় শতাধিক ব্যবসায়ী। ব্যবসায়ীরা দ্বিগুণ অর্থ ব্যয় করে বিকল্প সড়ক ও নৌপথে পণ্য নিচ্ছেন। 

জলিসা বাজারের ষাটোর্ধ ব্যবসায়ী হিরন চৌকিদার জানান, এ সড়ক দিয়ে মালামাল আনা তো দূরের কথা, এখন মরণফাঁদ পরিলত হয়েছে। মোটরবাইকচালক সুমন জানান, এ সড়কের কাজ ভালো হয়নি, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বরাদ্দ অনুযায়ী কাজ করলে ৮ মাসের মধ্যে এতোগুলো গর্ত হতে পারে না। পুলের হাটের একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, সড়কে বেহাল দশায় বর্তমানে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারে না এবং ঠিকাদার দরপত্রের প্রাক্কলন অনুযায়ী কাজ করলে যানবাহন চলাচল করতে পারতো।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান রাজ্জাক এন্টারপ্রাইজের মো. জামাল হোসেন বলেন, রাস্তা করলে গর্ত হতে পারে। তবে দরপত্রের সিডিউল অনুযায়ী কাজ করা হয়েছে। কাজে কোনো অনিয়ম হয়নি।
  
হোসনাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান মো. খলিলুর রহমান খান বলেন, ওই সড়কের কাজ ভালো হয়নি, এটা নিশ্চিত। এখন পরিষদের এ ধরনের সড়ক সংস্কারের কোনো অর্থ বরাদ্দ নেই। আমার ব্যক্তিগত অর্থায়নে কয়েকটি গর্ত সংস্কার করেছি এবং বাকি গর্তগুলো শিগগিরই সংস্কার করা হবে।
 
উপজেলা প্রকৌশলী শিপলু কর্মকার বলেন, এ সড়কটি গ্রামীন উন্নয়নের ‘এ’ গ্রুপের সড়ক। সমস্যার বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। 
  
এ বিষয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সুহৃদ সালেহীন বলেন, ঠিকাদার যথাযথভাবে কাজ না করলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 



সাতদিনের সেরা