kalerkantho

সোমবার । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৯ নভেম্বর ২০২১। ২৩ রবিউস সানি ১৪৪৩

জন্মদিনে শেখ রাসেলের সঙ্গে সন্তানদের পরিচয় করিয়ে দিলেন ইউএনও

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি   

১৯ অক্টোবর, ২০২১ ০১:৪২ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



জন্মদিনে শেখ রাসেলের সঙ্গে সন্তানদের পরিচয় করিয়ে দিলেন ইউএনও

জন্মদিনে শেখ রাসেলের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের পর নিজের দুই সন্তানকে পরিচয় করিয়ে দিলেন সোনারগাঁ উপজেলার ইউএনও।

রবিবার সকালে নিজের দুই সন্তান আনাবিয়া (৫) ও আল ভিনাকে (৭) নিয়ে শেখ রাসেলের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করতে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম। এ সময় তিনি ছোট রাসেলের সঙ্গে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ঘটনার কথা উল্লেখ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। দুই সন্তান ছলছল চোখে তাকিয়ে থাকে রাসেলের ছবির দিকে। এই দৃশ্য উপস্থিত বাকিদের মনে দাগ কাটে।

তারাও যেন বলছিল সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কবিতার মতো করেই ‘যত নামহীন শিশু যেখানেই ঝরে যায় আমি ক্ষমা চাই, আমি সভ্যতার নামে ক্ষমা চাই।’ হত্যাকরীদের প্রতি ঘৃণা আর ক্ষমার পরস্পর বিরোধ নিয়ে আমি ফিরে তাকাই শেখ রাসেলের ছবির দিকে। শেখ রাসেলের ছবিগুলো যেন ‘চেয়ে থাকে নিষ্পলক, তার চোখে নেই রাগ কিংবা অভিমান।’

এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম বলেন, 'আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জানাতে হবে কত ত্যাগের বিনিময়ে বঙ্গবন্ধু এ দেশ স্বাধীন করেছেন। তাদের জানতে হবে ১৯৭৫ সালের নির্মম হত্যাকাণ্ডের ইতিহাস। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হত্যাকারীদের বুলেট যখন ১১ বছরের রাসেলের বুক বিদীর্ণ করে মেঝেতে আছড়ে পড়ে, তখন অসহিষ্ণুতা ও সংকীর্ণতার নিদারুণ প্রকাশ দেখা যায়। আমি আমার সন্তানদের এ কথাই বলতে চেয়েছি।'

আতিকুল ইসলাম বলেন, এই নির্মমতা শুধু বাঙালির ইতিহাসই নয়, মানবজাতির ইতিহাসে এ এক অন্তহীন আবেগের দিন, যেখানে জন্মদিনের আলোচনায় মৃত্যুর নৃশংসতা উপস্থিত হয়ে মনকে ক্ষতবিক্ষত করে। 'দীপ্ত জয়োল্লাস, অদম্য আত্মবিশ্বাস’ স্লোগানে বেদনা আর ভালোবাসায় আমরা শেখ রাসেলকে স্মরণ করছি।

শেখ রাসেলের শূন্যতা বাঙালির হৃদয়ে রক্তক্ষরণ তৈরি করছে বারংবার। শেখ রাসেলের জন্মদিনে আমাদের একটাই চাওয়া- সারা পৃথিবীই শিশুদের জন্য নিরাপদ হয়ে উঠুক। সৃষ্টিকর্তার কাছে শোকার্ত হৃদয়ে কবিগুরুর মতো জানতে ইচ্ছা হয়, ‘যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো, তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?’



সাতদিনের সেরা