kalerkantho

রবিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৮ নভেম্বর ২০২১। ২২ রবিউস সানি ১৪৪৩

৩৬টি কাজের তিনটি’র লটারি আগেভাগেই শেষ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলজিইডিতে ‘তেলেসমাতি’ কারবার

বিশ্বজিৎ পাল বাবু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া   

১৮ অক্টোবর, ২০২১ ২৩:১৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলজিইডিতে ‘তেলেসমাতি’ কারবার

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় মোট ৩৬টি কাজ। নির্ধারিত সময়ের আগে লটারি দেওয়া হয় তিনটি’র। এতে বাধে হট্টগোল। অভিযোগ উঠে, পছন্দের লোককে কাজ পাইয়ে দিতে এমন কাণ্ড। এ অবস্থায় ওই তিনটি বাদ দেওয়ার কথা বলে আরেকটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত লটারি দেওয়া হয় ৩৪টি কাজের। সেই হিসেবে কাজের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ৩৭টি।

এমন তেলেসমাতি কারবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি)। এ নিয়ে রবিবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রকৌশলীর সঙ্গে ঠিকাদারদের বাদানুবাদ হয়। তবে সোমবার বিকেল নাগাদ এ নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। লটারি নিয়ে ‘ঘাপলার’ অভিযোগ উঠা তিনটি কাজের প্রাক্কলিত মূল্য প্রায় তিন কোটি ত্রিশ লাখ টাকা।

খোঁজ নিয়ে ও একাধিক ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এলজিইডির অধীনে বিভিন্ন সড়ক সংস্কারের জন্য ৩৬টি দরপত্র আহবান করা হয়। গত ১৪ অক্টোবর এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ১৭ অক্টোবর রবিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় এসব কাজের লটারি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়। সংশ্লিষ্ট দরদাতাদেরকে ওই সময়ে এলজিইডি’র সম্মেলন কক্ষে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়।

তবে দুপুরের মধ্যেই ঠিকাদাররা জানতে পারেন, তিনটি কাজের লটারি হয়ে গেছে। এর মধ্যে এম এস আসলাম এন্টারপ্রাইজ এক কোটি পাঁচ লাখ টাকা ব্যয়ের রামরাইল ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কাছাইট বাজার পর্যন্ত সড়ক মেরামত, এম এস জুবায়ের এন্টারপ্রাইজ চুরানব্বই লাখ টাকা ব্যয়ে চিনাইর থেকে ঘাটিয়ারা পর্যন্ত মোল্লা মার্কেট পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ কাজ, এম এস কে এম এন্টারপ্রাইজ এক কোটি ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে গজারিয়া থেকে মাছিহাতা ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ কাজ পায়। বেলা দেড়টার দিকেই দেখা যায়, তাদেরকে ইংরেজিতে ‘দরপত্র জয়ী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। কালের কণ্ঠের এ প্রতিবেদকের কাছে এ সংক্রান্ত সংক্ষিপ্ত বর্ণনার কপি রয়েছে।

যদিও ওই সময়ে কোনো ঠিকাদার উপস্থিত ছিলেন না। বিষয়টি জানতে পেরে ঠিকারাদাররা মৌখিক প্রতিবাদ শুরু করেন। বিকেলে নির্ধারিত সময়ে গিয়ে ঠিকাদারার এ নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানালে সংশ্লিষ্টরা কোনো ধরনের সদুত্তর দিতে পারেননি। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ সময় নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে ঠিকাদারদের বাকবিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে নির্বাহী প্রকৌশলী ওই তিনটি কাজের লটারি জটিলতার কারণে বাতিল হয় বলে বিজ্ঞপ্তি দেন। তবে শেষ পর্যন্ত ওই তিনটি কাজের লটারি হয়নি।

এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শিরাজুল ইসলাম এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো উত্তর দিতে পারেননি। সোমবার বিকেলে কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘অনেক ঠিকাদার আছে যারা বর্তমান পদ্ধতির লটারি সম্পর্কে বুঝেন না। লটারি করা কিংবা এটা বাতিলের ক্ষমতা আমার নেই। কেন্দ্র থেকেই এটা হয়। নতুন করে লটারি করার যে কাগজ সেটিতে কোনো স্মারক নম্বর নেই।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, ‘মূলত ১৪ অক্টোবর লটারি করার কথা ছিল। কুমিল্লার ঘটনাসহ নেট সমস্যায় সেটি পিছিয়ে ১৭ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টায় করা হয়। সঠিক সময়ে ১০-১৫ জনের উপস্থিতিতে কয়েকটি কাজের লটারি করা হয়। বিকেলে দেখি অফিসে অনেক ঠিকাদার এসে হাজির। কেন তারা এতজন এলো সেটাও বুঝতে পারছি না।’



সাতদিনের সেরা