kalerkantho

রবিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৮ নভেম্বর ২০২১। ২২ রবিউস সানি ১৪৪৩

৬ মাস ধরে বিকল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পানির পাম্প!

হায়াতুজ্জামান মিরাজ, আমতলী (বরগুনা)   

১৮ অক্টোবর, ২০২১ ১৯:৪৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



৬ মাস ধরে বিকল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পানির পাম্প!

পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় বরগুনার আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পানি সরবরাহের মূল পাম্পটি গত ৬ মাস ধরে বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে। এতে হাসপাতালে ভর্তি রোগী, চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন। অপরদিকে হাসপাতালে করোনা টিকা ও ভ্যাকসিন নিতে আসা নারী পুরুষরাও পর্যাপ্ত পানির অভাবে বাথরুম এবং টয়লেট ব্যবহার করতে পারছেন না বলে একাধিক ভূক্তেভোগীদের অভিযোগ।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পানি সরবরাহের মূল পাম্পটি গত এপ্রিল মাসে বিকল হয়ে যায়। এরপর বেশ কিছুদিন হাসপাতালে পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রশাসক ডা. আবদুল মুনয়েম সাদ নিজ উদ্যোগে হাসপাতাল মসজিদের সামনের গভীর নলকূপ থেকে সংযোগ দিয়ে স্বল্প আকারে হাসপাতালে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করেন। যা প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য। বর্তমানে হাসপাতালে অর্ধ শতাধিক রোগী ভর্তি থাকলেও সামান্য পানিতে রোগী এবং তাদের সাথে থাকা স্বজনরা গোসল ও শৌচাগার করতে সমস্যা হচ্ছে।

অপরদিকে হাসপাতালের ৪টি আবাসিক কোয়ার্টারে থাকা চিকিৎসক, নার্সসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। পর্যাপ্ত পানির অভাবে তারা তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় ও সাংসারিক কাজকর্ম করতে পাছেন না।

আজ সোমবার দুপুরে সরেজমিন হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, পর্যাপ্ত পানি না থাকায় হাসপাতালের বাথরুম ও টয়লেটগুলো থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। যা বাতাসে ভর্তি রোগীদের ওয়ার্ডে ছড়িয়ে পড়ছে। করোনা টিকা নিতে আসা নারী ও পুরুষরা দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। এদের মধ্যে অনেকে হাসপাতালের টয়লেট ও বাথরুম ব্যবহার করতে গিয়ে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় আবার ফিরে আসছেন।

হাসপাতালে ভর্তি রোগী রাশেদা বেগম বলেন, পর্যাপ্ত পানি না থাকায় হাসপাতালের টয়লেট ও বাথরুমগুলো থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ না থাকায় আমি এবং তাদের সাথে থাকা স্বজনদের গোসল ও শৌচাগার করতে সমস্যা হচ্ছে।

অপর ভর্তি রোগী সাইফুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালের টয়লেট ও বাথরুমে সরবরাহ করা সামান্য পানিতে গোসল ও শৌচাগার করতে সমস্যা হচ্ছে। তাই প্রতিদিন বাহির থেকে বালতি ও বিভিন্ন পাত্রে করে পানি এনে জরুরি কাজে ব্যবহার করতে হচ্ছে।

করোনা টিকা নিতে আসা মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও রাবেয়া বেগম অভিযোগ করে বলেন, টিকা নিতে এসে অনেক সময় আমাদেরকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এ সময় অনেকের টয়লেট ও বাথরুমে যাওয়ার প্রয়োজন হয়। কিন্তু হাসপাতালের টয়লেট ও বাথরুমে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ না থাকায় দুর্গন্ধে তা ব্যবহার না করে ফিরে আসতে হয়।

হাসপাতালের কোয়ার্টারে বসবাসরত নার্স রেবা রাণী ও ইতি মৃধা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের পানির পাম্পটি অকেজো হয়ে পড়ে থাকায় তারা এখন নিয়মিত পর্যাপ্ত পানি পাচ্ছেন না। বিকল্প পন্থায় যে পানি সরবরাহ করা হয় তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ওই পানি দিয়ে আমাদের নিত্য প্রয়োজনীয় ও সাংসারিক কাজকর্ম করা সম্ভব হচ্ছে না। বাহির থেকে পানি এনে আমাদের সাংসারিক কাজকর্ম করতে হচ্ছে।

স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (পটুয়াখালী) উপ-সহকারী প্রকৌশলী দেবব্রত হালদার মুঠোফোনে বলেন, আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থাপিত পাম্পের পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় পুরানো পাম্প দিয়ে আর পানি উঠছে না। হাসপাতালে পানির সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানের জন্য ওখানে একটি নতুন পানির পাম্প স্থাপন করতে হবে।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবদুল মুনয়েম সাদ মুঠোফোনে বলেন, ৬ মাস ধরে পানির পাম্পটি বিকল হয়ে পড়ে থাকায় হাসপাতালে পানি সমস্যা প্রকট আকার ধারন করেছে। বিকল্প হিসেবে হাসপাতাল মসজিদের সামনের নলকূল থেকে সংযোগ দিয়ে স্বল্প আকারে হাসপাতালে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করেছি। তাও কখন বন্ধ হয়ে যায় তা এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না।

বরগুনা জেলা সিভিল সার্জন ডা. মারিয়া হাসান মুঠোফোনে বলেন, বিষয়টি স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে। আশাকরি দ্রুত তারা এ সমস্যাটির সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন।



সাতদিনের সেরা