kalerkantho

রবিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৮ নভেম্বর ২০২১। ২২ রবিউস সানি ১৪৪৩

আয়া নিয়োগে লাখ টাকা, সাজানো পরীক্ষাতেও খাতা গায়েব!

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি   

১৮ অক্টোবর, ২০২১ ১৯:১৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আয়া নিয়োগে লাখ টাকা, সাজানো পরীক্ষাতেও খাতা গায়েব!

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার মতিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে টাকার বিনিময়ে আয়া নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে সাজানোর পরীক্ষার আয়োজন ও এক প্রার্থীর পরীক্ষার খাতা গায়েবের ঘটনায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনে অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করছে শিক্ষা বিভাগ।

সোমবার (১৮ অক্টোবর) ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধার মেয়ে বিধবা জান্নাত বেগম জানিয়েছেন, আয়া পদে নিয়োগে তার কাছ থেকে ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করা হয়। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল আলম সাজানো নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন করেন। এতে কলেজছাত্রীসহ ৫ জন প্রার্থীকে পরীক্ষায়ও অংশগ্রহণ করানো হয়েছে। তিনি পরীক্ষায় অংশ নিলেও উদ্দেশ্যমূলকভাবে তার খাতা গায়েব করা হয়। পছন্দের প্রার্থী তানজিনা আক্তারের কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা নিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়। তানজিনা বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রফিক চৌধুরীর ভাগনি।

জান্নাত উপজেলার চরকালকিনি ইউনিয়নের প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মজিদ তালুকদারের মেয়ে। পাঁচ বছর আগে তার স্বামী মারা গেছেন। তিনি ছেলে-মেয়ে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ২৯ আগস্ট একটি পত্রিকায় আয়া, নিরাপত্তাকর্মী ও অফিস সহায়ক পদের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। বিষয়টি জেনে জান্নাত আয়া পদে আবেদন করেন। চাকরি পাইয়ে দিতে প্রধান শিক্ষক লোক মাধ্যমে জান্নাতের কাছে লাখ টাকা দাবি করেন। কিন্তু টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তিনজন কলেজছাত্রীসহ আয়া পদে ৫জনকে দিয়ে তিনি ২৫ সেপ্টেম্বর লক্ষ্মীপুরে সাজানো পরিক্ষার আয়োজন করে। একইদিন পরিক্ষার ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এতে জান্নাতের নিয়োগ পরীক্ষার খাতা গায়েব করে প্রধান শিক্ষক পছন্দের প্রার্থীকে আয়া পদে চাকরি দেন। এ ছাড়া নিরাপত্তাকর্মী ও অফিস সহায়ক পদেও টাকা লেনদেন হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে রবিবার জেলা প্রশাসক ও কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগও করেছেন জান্নাত।

কলেজছাত্রী মারজাহান বেগম বলেন, প্রধান শিক্ষক আমাদেরকে স্কুলে ডেকে আবেদনপত্রে স্বাক্ষর নেন। তখন তিনি বলেছেন জরুরী প্রয়োজনেই এ স্বাক্ষর লাগবে। পরে ২৫ সেপ্টেম্বর তিনি (শিক্ষক) আমাদেরকে লক্ষ্মীপুরে নিয়ে আয়াপদে পরীক্ষা অংশগ্রহণ করতে বলেন। আমরা ওই বিদ্যালয়ের ছাত্রী হওয়ায় তাঁর কথায় আমরা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছি।

আরেক কলেজ ছাত্রীর বাবা আবু তাহের বলেন, না জানিয়ে আমার এইচএসসি পাস মেয়েকে দিয়ে আয়া পদে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করানো হয়েছে। পকেটভারি করার জন্য শিক্ষক এ খামখেয়ালিপনা করেছেন। এটি তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে দুইজন শিক্ষক জানিয়েছেন, টাকার বিনিময়ে শিক্ষক নুরুল আলম তিনটি পদে বিদ্যালয়ে পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে। তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।

মতিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল আলম বলেন, নিয়ম অনুযায়ী তিনটি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারী নারী পরীক্ষায় পাশ করেনি। কলেজছাত্রীরা পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি সত্য নয়।

এ ব্যাপারে কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করার জন্য শিক্ষা বিভাগকে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



সাতদিনের সেরা