kalerkantho

বুধবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ১ ডিসেম্বর ২০২১। ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

কুলাউড়ায় ইউপি চেয়ারম্যান নজরুলের বিরুদ্ধে নেতাকর্মীদের লিখিত অভিযোগ

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি    

১৬ অক্টোবর, ২০২১ ১২:০৯ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



কুলাউড়ায় ইউপি চেয়ারম্যান নজরুলের বিরুদ্ধে নেতাকর্মীদের লিখিত অভিযোগ

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার ভাটেরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, আওয়ামী লীগ দলীয় চেয়ারম্যান সৈয়দ একেএম নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দলবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলেছেন নিজ দলের নেতাকর্মীরা। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ এনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি/সম্পাদক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়। ভাটেরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজি মো. ফিরোজ মিয়া তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক বদরুল আলম সিদ্দিকী নানু স্বাক্ষরিত অভিযোগে দলের আরো ৫৮ জন সদস্য স্বাক্ষর করেন। 

লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সৈয়দ একেএম নজরুল ইসলাম আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেও পাঁচটি বছরে দলীয় কোনো কর্মসূচি বা একটিও সভা-সমাবেশে অংশগ্রহণ করেননি। শুধু তাই নয়, এ পাঁচটি বছর সরকারের দেয়া ভিজিএফ, ভি.জি.ডি, বয়স্ক ভাতা, বিধবাভাতা, সোলার, টিউবওয়েলসহ বিভিন্ন সরকারি সুযোগ থেকে দলের হতদরিদ্র অসহায় নেতাকর্মীরা বঞ্চিত ছিলেন। তিনি জামাত-বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত লোকদের নিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন। ভাটেরা ইউনিয়ন অফিস যেন জামাত-বিএনপির কার্যালয়ে পরিণত হয়েছে। এছাড়া তিনি বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচন, জেলা পরিষদ নির্বাচন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করেছেন। এমনকি ভাটেরা ইউনিয়নে বিভিন্ন সময় ত্রাণ বিতরণে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শফিকুর রহমান আফার, ইউনিয়ন জামাতের সভাপতি আব্দুল করিম ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হক খোকনকে নিয়ে ত্রাণ বিতরণ করেন। চেয়ারম্যানের অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগে স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দরা প্রতিবাদ কর্মসূচিও করেন। 

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আরো অভিযোগ করেন, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে এমপি হওয়া সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদের গুণগানে মুগ্ধ হয়ে নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ইউনিয়ন পরিষদে একটি অনুষ্ঠানে বলেন, মতিন মিয়ার (সাবেক এমপি মো. আব্দুল মতিন) এমপিগিরি শেষ হয়েছে, সুলতান মনসুরের শুরু হয়েছে। উন্নয়ন অতীতে যা হয়েছে তার চারগুণ হবে আমরা আশা রাখি। সুলতান মনসুর (১৯৯৬-২০০১) কুলাউড়াবাসীর জন্য ৫৭০ কোটি টাকার উন্নয়ন করেছিলেন। আমরা তার এই উন্নয়নকে ধরে রাখতে পারিনি যেকোনো কারণে। ১৮ বছর সুলতান মনসুর রাজনীতি থেকে দূরে ছিলেন। যার কারণে কুলাউড়াবাসী উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। 

ভাটেরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বদরুল আলম সিদ্দিকী নানু বলেন, চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কর্মী নন। নৌকা পেয়ে গত নির্বাচনে তিনি চেয়ারম্যান হয়ে ব্যক্তিস্বার্থের জন্য দলকে ব্যবহার করে অনেক ফায়দা লুটেছেন। চেয়ারম্যান হয়ে তিনি এখন আর আওয়ামী লীগকে চিনেন না, আওয়ামী লীগকে প্রতিপক্ষ মনে করেন। ইউনিয়ন অফিসে জামাত-বিএনপির নেতাদের নিয়ে তিনি সরকারি অনুদানসহ বিভিন্ন ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চালিয়েছেন। ভাটেরার সকল অসহায় মানুষ সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেতো এটা ঠিক, কিন্তু তিনি দলীয় চেয়ারম্যান হলেও দলের অসহায় দরিদ্র লোক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল। এ ধরনের ব্যক্তিকে আমরা কখনো দলীয়ভাবে সমর্থন করতে পারি না। তার সকল বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ অসন্তুষ্ট। যেহেতু তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্যও নন তাই দলীয় স্বার্থে উপজেলা বা ইউনিয়ন কমিটির কোনো পদবিতে তাকে না রাখা এবং আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন না দেয়ার জন্য উপজেলা আ’লীগের নেতৃবৃন্দদের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি।  

অভিযোগ বিষয়ে ভাটেরা ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ একেএম নজরুল ইসলাম বলেন, যারা এই অভিযোগ করেছেন তারা কেউ প্রকৃত আওয়ামী লীগের নন। বিভিন্ন দল থেকে তারা অনুপ্রবেশ করেছেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির পছন্দের বিএনপি-জামাতপন্থীদের নিয়ে ভাটেরা আওয়ামী লীগের কমিটি করা হয়েছে। বিএনপি-জামাত লোকদের নিয়ে কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পরিষদের ত্রাণ বিতরণ আলাদাভাবে করা হয়েছে। করোনাকালীন ইউনিয়নে যেসকল ব্যক্তি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান ত্রাণ ও বস্ত্র বিতরণের আয়োজন করেছে তখন চেয়ারম্যান হিসেবে আমাকে দাওয়াত দেয়ার কারণে আমি তাদের অনুষ্ঠানে গিয়েছি। তিনি আরো বলেন, আমার পরিবার মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির। ছাত্রলীগ দিয়ে রাজনীতি শুরু করেছি। এখন পর্যন্ত দলের একজন কর্মী হয়ে কাজ করছি। নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি মহল আমার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। 

এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম রেণু বলেন, লিখিত একটি অভিযোগ পেয়েছি। সে আমাদের দলের কেউ নয়। উপজেলা বা ইউনিয়ন কমিটির কোনো পদবিতেও সে নেই।  কেউ যদি থাকে আশ্রয় দিয়ে থাকে তাহলে সেটা আমি জানি না। দলীয় ইউপি চেয়ারম্যান নজরুলের বিরুদ্ধে স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের করা অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইউনিয়ন কমিটির মতামতকে গুরুত্ব দেয়া হবে। 



সাতদিনের সেরা