kalerkantho

সোমবার । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৯ নভেম্বর ২০২১। ২৩ রবিউস সানি ১৪৪৩

ঘরে দুই শিশুসহ মায়ের লাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১৬ অক্টোবর, ২০২১ ০৩:৪০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঘরে দুই শিশুসহ মায়ের লাশ

প্রতীকী ছবি

চট্টগ্রাম মহানগরীর পাঁচলাইশের মোহাম্মদপুর থেকে দুই শিশুসন্তানসহ মায়ের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ওই এলাকার এসএস টাওয়ারের চতুর্থ তলার ফ্ল্যাট থেকে গতকাল শুক্রবার সকালে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে একটি শিশুর মরদেহ বিছানায় পড়ে ছিল। অন্য শিশুটি মায়ের সঙ্গে ওড়নায় ঝুলন্ত ছিল।

নিহতরা হলো সুমিতা খাতুন (৩০), জান্নাত আরা মুন (৭) ও সান বাবু (৩)। এ ঘটনায় সুমিতার স্বামী সোহেল রানাকে আটক করেছে পুলিশ। এই দম্পতির বাড়ি সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ থানার পাঙ্গাশিয়া এলাকায়। ১০ বছর আগে তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তাঁরা চট্টগ্রামে বসবাস করছিলেন। সোহেল রানা নগরীর মুরাদপুর এলাকায় হারবাল ওষুধের ব্যবসা করতেন।

গতকাল সকাল ৭টার দিকে ওই ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে মরদেহগুলো উদ্ধার করে পুলিশ। সকাল ১০টার দিকে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ শেষে দুপুরে মা ও শিশু দুটির মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

সিআইডির পরিদর্শক শাহজাহান কামাল বলেন, ‘আমাদের প্রাথমিক ধারণা, দুই সন্তানসহ মাকে হত্যা করা হয়েছে। কারণ ফাঁসিতে ঝুলে থাকলে ঘাড় ভেঙে যাওয়ার কথা, কিন্তু সুমিতার ঘাড় ভাঙেনি। মৃত্যুর কারণ জানা যাবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর।’

পাঁচলাইশ থানার অফিসার ইনচার্জ জাহিদুল কবির কালের কণ্ঠকে বলেন, পুলিশ ওই বাসার দুটি দরজা ভেঙে শোবার ঘরে প্রবেশের পর ছেলে, মেয়ে ও মায়ের লাশ দেখতে পায়। এর মধ্যে মেয়ের লাশটি ছিল বিছানায় আর মায়ের সঙ্গে ঝুলন্ত ছিল ছেলের লাশ।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুই সন্তানকে হত্যার পর মা নিজে আত্মহত্যা করেছেন। কারণ বাসার দুটি দরজা পুলিশ ভেঙেছে। অন্য কোনো দরজা কিংবা জানালার গ্রিলও কাটা ছিল না।

তিনি আরো বলেন, ঘটনার কারণ জানতে সুমিতার স্বামী সোহেল রানাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা করবে পুলিশ।

ঘটনাস্থলে কথা হয় সোহেলের বড় বোন লিপির সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘সোহেল ও সুমিতার মধ্যে দাম্পত্য কলহ ছিল না। কেন সে সন্তানসহ নিজকে এভাবে শেষ করল তা বুঝতে পারছি না।’ 

ভবন মালিক সিরাজুল হক ভাড়াটিয়া দম্পতির বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

ভবনটির নিরাপত্তা প্রহরী ফোরকান বলেন, ‘রাত সাড়ে ১১টায় সোহেল রানা বাসায় প্রবেশ করতে না পেরে আমার কাছে এসে বাড়তি চাবি চেয়েছেন। পরে আমিসহ ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে দরজা খোলার চেষ্টা করি। কিন্তু ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় দরজা খুলতে পারিনি। পরে তিনি ফিরে যান এবং আমি ঘুমিয়ে পড়ি। সকালে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে।’

সোহেল রানা বাসায় প্রবেশ করতে না পেরে মধ্যরাতে পাঁচলাইশ থানায় যান সাধারণ ডায়েরি করতে। তিনি পুলিশকে জানান, তাঁর স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে কোথাও চলে গেছেন। কিন্তু পুলিশ সাধারণ ডায়েরি গ্রহণ করেনি। পাঁচলাইশ থানার অফিসার ইনচার্জ জাহিদুল কবির বলেন, মধ্যরাতে রানা থানায় আসার পর তাঁকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল আত্মীয়-স্বজনের বাসায় খোঁজ নিয়ে পরে সাধারণ ডায়েরি করতে।



সাতদিনের সেরা