kalerkantho

বুধবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ১ ডিসেম্বর ২০২১। ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

বরাদ্দের টাকা অধ্যক্ষের পেটে!

বেতাগী (বরগুনা) প্রতিনিধি   

১৬ অক্টোবর, ২০২১ ০০:১৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বরাদ্দের টাকা অধ্যক্ষের পেটে!

অধ্যক্ষ নূরুল আমিন

বরগুনার বেতাগী সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ নূরুল আমিনের বিরুদ্ধে সরকারি বিভিন্ন খাদে বরাদ্দের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত চার অর্থবছরে ইন্টারনেট, টেলিফোন, ফ্যাক্স, বিদ্যুৎ বিল, উৎসব, বিনোদন, ক্রীড়া, ভ্রমণ, বিজ্ঞানাগারের রাসায়নিক দ্রব্যাদি ও যন্ত্রপাতি, কম্পিউটার ক্রয় বাবদ ৮৪ লাখ টাকা নিজেই আত্মসাৎ করেছেন। 

জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বরগুনার বেতাগী সরকারি কলেজে গত ২০১৬ সালের ১১ জুলাই অধ্যক্ষ মো. নূরুল আমিন যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকে গত চার অর্থবছরে তিনি উন্নয়নের বিভিন্ন খাত থেকে ৮৪ লাখ টাকা নিজে হাতিয়ে নিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে কলেজের শিক্ষার্থী, ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ একাধিকবার বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে। শেষে গত ২০২১ সালের ১১ আগস্ট পটুয়াখালী সরকারি কলেজে অধ্যক্ষ পদে যোগদান করেন। 

উপজেলা হিসাবরক্ষক কর্মকর্তার কাছে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী জানা গেছে, গত ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে ডাক খাতে ৫০ হাজার টাকা, ইন্টারনেট, ফ্যাক্স, টেলেক্স ৩০ হাজার টাকা, টেলিফোন বিল ১০ হাজার, বিদ্যুৎ বিল ১ লাখ টাকার ব্যয়ের খাত খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। একই হিসেবে গত ২০১৮-২০১৯, ২০১৯-২০২০ এবং ২০২০-২০২১ অর্থবছরে ইন্টারনেট ১ লাখ টাকা, ডাক খাতে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ইন্টারনেট, ফ্যাক্স, টেলেক্স ৯০ হাজার টাকা, টেলিফোন বিল ৩০ হাজার টাকা এবং বিদ্যুৎ বিল ৩ লাখ টাকার হিসাব খুঁজে পাওয়া যায়নি। গ্রন্থাগারে ওই চার অর্থবছরে বইপত্র ও সাময়িকী ক্রয় বাবদ ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু এ অর্থবছরগুলোতে কোনো বইপত্র কেনা হয়নি। 

সহকারী গ্রন্থগারিক মোসা. মালতী আক্তার বলেন, 'গত চার অর্থবছরে কোনো বইপত্র কেনা হয়নি। এ বইপত্র ক্রয় বাবদ কোথাও আমার স্বাক্ষর নেই।'

পদার্থ, রসায়ন ও জীব বিজ্ঞান, ভূগোল, উচ্চতর গণিত, রাসায়নিক দ্রব্যাদি যন্ত্রপাতি ক্রয় বাবদ বরাদ্দ দেওয়া হয় ৬ লাখ টাকা। একই হিসেবে গত ২০১৮-২০১৯, ২০১৯-২০২০ এবং ২০২০-২০২১ অর্থবছরে বিজ্ঞানাগারে বরাদ্দ দেওয়া হয় ১২ লাখ টাকা। এ চার অর্থ বছরের বিজ্ঞানাগারে ব্যবহারিক পরীক্ষার কোনো রাসায়নিক দ্রব্যাদি কিছুই ক্রয় করা হয়নি। এসব বিষয়ের বিষয়ভিত্তিক সংশ্লিষ্ট প্রদর্শক শিক্ষকরাও কোনো মালামাল ক্রয় করেনি। এ বিষয় পদার্থ বিজ্ঞানের প্রদর্শক রোহিতোষ চন্দ্র দে বলেন, 'গত চার অর্থবছরে পদার্থ বিজ্ঞানের কোনো মালামাল ক্রয় করা হয়নি এবং বিজ্ঞানাগারে পুরোনো যন্ত্রপাতি দিয়ে ব্যবহারিক পরীক্ষা চালানো হয়েছে।' 

ক্রীড়া সরঞ্জামাদি ক্রয় বাবদ চার অর্থবছরে বরাদ্দ দেওয়া হয় ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। অথচ আদৌ কোনো  ক্রীড়া সামগ্রী ক্রয় করা হয়নি। এ বিষয় দ্বাদশ শ্রেণির রাকিব হোসেন বলেন, আমরা খেলাধূলার জন্য বল, ব্যাটের জন্য দাবি করলে এগুলো দেওয়া হতো না। রাকিব আরো জানান, শিক্ষার্থীরা দাবি করলে এসময় অধ্যক্ষ বলতেন তোমাদের নিজেদের অর্থায়নে ক্রীড়া সামগ্রী কিনতে হবে কোনো সরকারি বরাদ্দ নেই।' কম্পিউটারের যন্ত্রাংশ ক্রয় ও মেরামত বাবদ এসব অর্থবছরে ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। অথচ কোনো কম্পিউটার ক্রয় ও মেরামত কিছুই করা হয়নি। এছাড়া বিভিন্ন খাতে আরো ৩৪ লাখ টাকার হিসেবের কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে এসব বিষয় কলেজের কোনো শিক্ষক কথা বলতে রাজি হয়নি। একাধিক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, খুব শিগগিরই এসব দুর্নীতির বিষয় মন্ত্রণালয়ের একটি দল পরিদর্শনে আসবেন এবং তদন্ত করলে সব কিছুই সঠিক তথ্য উদঘাটন হবে।

উপজেলা হিসাবরক্ষক কর্মকর্তা মৃনাল কান্তি কর্মকার বলেন, তদন্ত করা আমাদের দায়িত্ব না। এটার একটা আলাদা শাখা রয়েছে। তবে সরকারি টাকা আত্মসাতের কোনো সুযোগ নেই।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ মো. নূরুল আমিনের সঙ্গে গত ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় ৭ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড এসব অনিয়মের বিষয় কথা হয়। তিনি বলেন, 'আমি চেষ্টা করেছি সঠিকভাবে ব্যয় করতে। কিন্তু বড় প্রতিষ্ঠান তো... চালাতে একটু-আধটু বরাদ্দ অন্যখাতে নিতে হয়।' 

এরপর গত দুই দিনে একাধিকবার ফোন দিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি।



সাতদিনের সেরা