kalerkantho

শনিবার । ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৪ ডিসেম্বর ২০২১। ২৮ রবিউস সানি ১৪৪৩

তন্ত্র-মন্ত্র দিয়ে পাতারূপী সাপ টানার প্রতিযোগিতা, দর্শকদের উপচেপড়া ভিড়

হিলি প্রতিনিধি   

১৫ অক্টোবর, ২০২১ ১২:৩০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তন্ত্র-মন্ত্র দিয়ে পাতারূপী সাপ টানার প্রতিযোগিতা, দর্শকদের উপচেপড়া ভিড়

প্রথমবারের মতো সীমান্তবর্তী হিলিতে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী তন্ত্র-মন্ত্রের মধ্য দিয়ে পাতাখেলা প্রতিযোগিতা। গ্রাম বাংলার চমৎকার এই খেলা দেখতে উপচেপড়া ভিড় ছিল দর্শকদের। হারিয়ে যেতে বসা এ খেলা নিয়মিত আয়োজনের অনুরোধ তাদের। এদিকে সহযোগিতা পেলে প্রতিবছর এ ধরনের খেলা আয়োজনের কথা বলছেন আয়োজকরা। 

সীমান্তবর্তী হিলি-হাকিমপুর উপজেলার বোয়ালাদাড় ইউনিয়ন। স্থানীয় যুব সমাজের আয়োজনে বৃহস্পতিবার বিকেলে বোয়ালদাড় স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী সাপ দিয়ে পাতাখেলা। এসময় মাঠজুড়ে ছিলো দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়। সেই সাথে পুরো এলাকায় ছিলো উৎসবের আমেজ। বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ৫টি তান্ত্রিক দল তাদের তন্ত্রমন্ত্র দিয়ে পাতারূপী সাপকে মাঠের মাঝখান থেকে চারদিকে টানার প্রতিযোগিতা করে। প্রতিযোগিতায় যার পয়েন্ট বেশি হয় সেই তান্ত্রিক দলকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। বিজয়ী দলকে পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয় একটি খাসি। এমন খেলা দেখে বিমোহিত ও খুশি দর্শকরা। সবার দাবি, প্রতিবছর আয়োজন হোক এমন খেলার।

খেলা দেখতে আসা নাসিমা নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমি কখনও এই পাতাখেলা দেখিনি। আজকে প্রথম দেখলাম। আমার অনেক ভালো লাগলো। শুধু আমি না, আমার অনেক বান্ধবী এই পাতাখেলা দেখতে আসছে। আমি আয়োজকদের কাছে অনুরোধ করবো যেনো এই খেলাটি প্রতিবছর তারা আয়োজন করেন।

আফজাল নামের এক বৃদ্ধ বলেন, আমরা যখন যুবক ছিলাম প্রতিনিয়তই এ খেলাগুলো হতো। কালের বির্বতনে খেলাগুলো হারিয়ে গেছে। আসলে এগুলো আবারো ফিরে আনা দরকার। কারণ এগুলো মানুষকে বিনোদন দেয়। আজ অনেকদিন পর আবারো পাতাখেলা দেখতে পেরে আমি খুব খুশি।

খেলা দেখতে আসা আনোয়ারা বেগম নামের একজন বলেন, আমরা এই খেলা অনেক আগে দেখেছি মাঝখানে ছিলো না বিলুপ্তির পথে প্রায় আজকে আমাদের গ্রামের যুবকরা এ খেলার আয়োজন করেছে আমাদের দেখতে খুব ভালো লাগতিছে। তবে সবচেয়ে আনন্দের বিষয় আমরা আগের মানুষ দিয়ে পাতা খেলা দেখেছি আজকে প্রথম আমরা সাপ দিয়ে পাতাখেলা দেখলাম। খুব ভালো লাগলো।

খেলায় অংশগ্রহণকারী নাসিম নামের এক তান্ত্রিক সদস্য জানান, তান্ত্রিকদের মতে, প্রাচীনকাল থেকে গুণীকরা খেলত এই পাতাখেলা। আর এজন্য যে মন্ত্র প্রয়োজন তা অতি কঠিন। তবে খেলায় পুরস্কার পাবার আশায় নয়, মানুষকে বিনোদন দিতে এবং নিজেও আনন্দ উপভোগ করতে খেলায় অংশগ্রহণ করেছি।

খেলার আয়োজক কমিটির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন সাগর জানান, আমরা এলাকার মানুষকে আনন্দ দিতে এবং হারিয়ে যাওয়া গ্রাম বাংলার এই খেলাটি নতুন প্রজন্মকে জানান দিতেই আমাদের এই আয়োজন। খেলায় বিভিন্ন এলাকা থেকে ৫টি তান্ত্রিক দল অংশগ্রহণ করেছে এবং খেলাটিও বেশ জমজমাট হয়েছে। 

আশা করছি স্থানীয়ভাবে সহযোগিতা পেলে মানুষকে আনন্দ দিতে প্রতিবছর এ খেলার আয়োজন করবো ইনশাআল্লাহ। 



সাতদিনের সেরা