kalerkantho

শনিবার । ৭ কার্তিক ১৪২৮। ২৩ অক্টোবর ২০২১। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

কুলাউড়ায় হেলাপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের সংস্কারকাজে অনিয়ম-দুর্নীতি

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি    

১৪ অক্টোবর, ২০২১ ১৫:৫৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কুলাউড়ায় হেলাপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের সংস্কারকাজে অনিয়ম-দুর্নীতি

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের হেলাপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের ভবনের পুনঃসংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। ফলে সংস্কারকাজ শেষে মাস যেতে না যেতেই আবারও ক্লিনিকটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ক্লিনিকের দায়িত্বরত প্রোভাইডার তাহমিনা ওয়াহিদ বিষয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে অবহিত করেন। এদিকে কাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে ক্লিনিক পরিচালনা কমিটির নেতারা ও স্থানীয় লোকজন ক্লিনিকের সংস্কারকাজ বন্ধ করে দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এলাকাবাসীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক গ্রামীণ পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কুলাউড়ার ব্রাহ্মণবাজারের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হেলাপুর গ্রামে দুই কক্ষ, একটি স্টোর ও ওয়েটিংরুম এবং এক টয়লেট বিশিষ্ট কমিউনিটি ক্লিনিক ভবনটি নির্মাণ করা হয় ২০০০ সালে। এরপর ক্লিনিকটি অনেক জরাজীর্ণ হয়ে পড়লে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম অবস্থার সৃষ্টি হয়। নতুন করে ক্লিনিকটি পুনঃসংস্কারের জন্য চলতি বছর সাড়ে চার লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পান মো. জাহাঙ্গীর আলমের মালিকানাধীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স শাওন এন্টারপ্রাইজ। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রায় দুই মাস আগে কাজ শুরু করে। কাজের মধ্যে রয়েছে ক্লিনিকের ভবনের রং করা, ইলেকট্রিক, স্যানিটারি, ফ্লোর টাইলস, বাথরুম টাইলস, দরজা-জানালা মেরামত, ভবনের ছাদে নেট, ফেডেন স্টোনসহ পুরো ক্লিনিককে ব্যবহারের উপযোগী করার জন্য পুনঃসংস্কার করা। 

সরেজমিনে হেলাপুর কমিউনিটি ক্লিনিকে গেলে দেখা যায়, ক্লিনিকের ভেতরে দেয়াল ও মেঝেতে অনেক টাইলস উঠে গেছে। এ সময় প্রায় এক ঘণ্টা ক্লিনিকে অবস্থান করলেও ঠিকাদারের কোনো লোকজনকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় লোকজন ও ক্লিনিকের সভাপতি, দায়িত্বরত প্রোভাইডার বলেন, ভবনের ফলছাদে যে পরিমাণ ফিটনেস দেওয়ার কথা, তা পরিমাণমতো দেওয়া হয়নি। ঠিকমতো ভবনের রং করা হয়নি। পুরনো ভবনের রং করা দেয়াল থেকে রং না ছাড়িয়ে কোনো ধরনের কিপিং ছাড়া যৎসামান্য সিমেন্ট ও বালুর পরিমাণ বেশি দিয়ে টাইলস লাগানো হয়। এক মাসের মাথায় সেই টাইলস দেয়াল থেকে খসে পড়ে। এ ছাড়া ক্লিনিকের মেঝেতে সিমেন্টের পরিমাণ কম দিয়ে বালুর পরিমাণ বেশি দিয়ে টাইলস বসানো হয়েছে। 
এদিকে ক্লিনিকের সংস্কারকাজের অনিয়মের খবর পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সরেজমনে ক্লিনিকটি পরিদর্শন করে কাজের অনিয়মের সত্যতা পেয়ে কিছুদিন কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দেন। পরবর্তী সময়ে আবার কাজ শুরু হলে গত ৯ অক্টোবর আবার কাজের অনিয়মের খবর পেয়ে স্বাস্থ্য পরিদর্শক মো. আব্দুল আউয়াল সরেজমিনে ক্লিনিক পরিদর্শন করে অনিয়মের সত্যতা পেয়ে কাজের মান নিয়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। তিনি দেখতে পান, ক্লিনিকের ফ্লোরে সিমেন্ট না দিয়ে বালুর ওপর টাইলস বসিয়েছেন ঠিকাদারের লোকজন। 

স্থানীয় ইউপি সদস্য ও কমিউনিটি ক্লিনিকের সভাপতি মো. ফজলুর রহমান বলেন, ক্লিনিকের সংস্কারকাজের মান খুবই খারাপ। কোনো ধরনের সিমেন্ট না দিয়ে শুধু বালু দিয়ে টাইলস লাগানোর কারণে তা উঠে গেছে। এ কারণে স্থানীয় লোকজন কাজ বন্ধ করে দেন।  

কাজে অনিয়মের বিষয়টি অস্বীকার করে ঠিকাদার মো. জাহাঙ্গীর আলম আজ বুধবার বিকেলে মুঠোফোনে এই প্রতিবেদককে বলেন, আমি সঠিকভাবে কাজ করেছি। কেউ যদি ইচ্ছা করে টাইলস তুলে নেয়, তাহলে আমি কী করব? কাজের জন্য আমার এক বছরের সিকিউরিটি জমা আছে। অনিয়ম হলে স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ সেটি দেখবে। কোনো অনিয়ম হলে আমি অবশ্যই তা মেরামত করে দেব। 

মৌলভীবাজার জেলা স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মনিরুল হক বুধবার বিকেলে মুঠোফোনে এই প্রতিবেদককে বলেন, কাজ বন্ধের বিষয়টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আমাদের জানিয়েছে। আগামী সপ্তাহে সরেজমিনে ক্লিনিকটি পরিদর্শন করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমান সরকার পুরনো কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে আধুনিকায়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। এই কাজে কোনো অনিয়ম হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।  

এ বিষয়ে কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফেরদৌস আক্তার বুধবার বিকেলে মুঠোফোনে এই প্রতিবেদককে বলেন, হেলাপুর কমিউনিটি ক্লিনিক পুনঃসংস্কারকাজে ঠিকাদার কর্তৃক অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছি। আমিসহ স্বাস্থ্য পরিদর্শক সরেজমিন পরিদর্শন করে কাজের অনিয়মের সত্যতা পেয়েছি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজটি সঠিকভাবে করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করছে না। বিষয়টি জেলা সিভিল সার্জনকে জানিয়েছি। 



সাতদিনের সেরা