kalerkantho

সোমবার । ৯ কার্তিক ১৪২৮। ২৫ অক্টোবর ২০২১। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

অপহরণ ফিল্মি স্টাইলে!

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

১২ অক্টোবর, ২০২১ ০২:২০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অপহরণ ফিল্মি স্টাইলে!

কাঁধে ব্যাগ, পরনে বোরকা-রাস্তার কিনার ঘেঁষে চলতে থাকা মেয়েটির পথরোধ করে এসে দাঁড়ায় সাদা রঙের একটি প্রাইভেট কার। এদিক-ওদিক তাকিয়ে চলা মেয়েটিকে পেছন দিক থেকে কোলে করে নিয়ে গাড়িটিতে তোলা হয়। ঘটনাটি দিনদুপুরে।

এটি সিনেমার দৃশ্যের বর্ণনা নয়, বাস্তব চিত্র। ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরায় বন্দি হয় এ দৃশ্য। ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। অনেকটা সিনেমার দৃশ্যের মতোই এটা-সেটা ঘটার পর ওই মেয়েটি আবার ফিরে এসেছে। ঘটনার প্রধান অভিযুক্তের বড় ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে মূল হোতা এখনো পলাতক রয়েছে।

এদিকে এ ঘটনায় অপহরণের অভিযোগ এনে ওই ছাত্রীর মা সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, এসএসসি পরীক্ষার্থী তার মেয়ে প্রাইভেট পড়াসহ স্কুলে যাওয়া-আসার পথে এক বখাটে কুপ্রস্তাব দেয়। এতে রাজি না হওয়ায় অপহরণ করা হয়। 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাহিদ হোসেন জানান, মামলা দায়েরের আগেই রবিবার রাতে অপহরণের সঙ্গে জড়িত কাউসার মিয়াকে (৩২) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যিনি মামলার তিন নম্বর আসামি। 

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, অপহরণের শিকার ওই স্কুলছাত্রী ও অপহরণের সঙ্গে জড়িতরা সদর উপজেলার মৈন্দ গ্রামের বাসিন্দা। স্কুলছাত্রীটির পরিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার মধ্যপাড়ায় বসবাস করে। মৈন্দ গ্রামের ধন মিয়ার ছেলে জসিম উদ্দিন (২৫) ওই ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করতেন। কয়েক দিন আগে জসিম ওই মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে সে সাড়া দেয়নি। বিষয়টি জসিমের পরিবারকে জানালেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

গত শনিবার দুপুরে ওই ছাত্রী তার বাসা থেকে বের হওয়ার পর এক যুবক তার পিছু নেয় এবং একপর্যায়ে তার গতিরোধ করে প্রাইভেটকারে তুলে অপহরণ করে নিয়ে যায়। ঘটনাটি পাশের বাসার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে ধরা পড়ে।

অপহরণের শিকার ওই মেয়েটি জানায়, কিছুদূর যাওয়ার পর পুলিশ দেখে গাড়ি ঘুরিয়ে নেয় অপহরণকারীরা। এরপর চা বাগানসহ বিভিন্ন এলাকায় নেওয়া হয়। মূল অভিযুক্তের আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে গেলে সেখানকার লোকজন আপত্তি করে। বিষয়টি জানাজানি হলে একপর্যায়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করে  সে বাড়িতে চলে আসে।   

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী মাসুদ ইবনে আনোয়ার জানান, মামলা দায়ের হওয়ার আগেই ঘটনা জানতে পেরে পুলিশ অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান শুরু করে। রবিবার রাতে মামলার প্রধান আসামি জসিমের বড় ভাই কাউসার মিয়াকে আটক করে পুলিশ।

সোমবার সকালে ভিকটিমের মা থানায় মামলা দায়েরের পর কাউসারকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। অভিযুক্ত অন্যদেরকে ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



সাতদিনের সেরা