kalerkantho

রবিবার । ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৫ ডিসেম্বর ২০২১। ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৩

পদ্ম ফুলে রঙিন বিল

আব্দুল লতিফ রঞ্জু, চাটমোহর (পাবনা)   

১০ অক্টোবর, ২০২১ ১৩:৫৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পদ্ম ফুলে রঙিন বিল

প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রামের একপাশে কলমীগাড়া বিল। তার চারপাশে ধান ক্ষেত। মাঝের বেশকিছু অংশ জুড়ে পদ্ম ফুলের সমারোহ। সবুজ পাতার মাঝে মাথা নুইয়ে দাঁড়িয়ে আছে সাদা-গোলাপী রঙের একেকটি পদ্ম। শেষ বিকেলে যেন মোহনীয় আবেশ তৈরি হয় বিলে। আর এই সময়ে পদ্ম প্রেমে মুগ্ধতা ছড়ায় প্রকৃতিপ্রেমীদের মাঝে।

পাবনার চাটমোহর উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের সুঁইগ্রামে অবস্থিত কলমীগাড়া বিল। উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে সবুজে ঘেরা গ্রামে প্রথমে পিচঢালা, পরে মেঠোপথ পেরিয়ে পৌঁছাতে হয় প্রত্যন্ত গ্রামের  বিলটিতে। যেন গোবরে ফুটেছে পদ্ম ফুল। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত এই দুটি সময়ে পদ্ম ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ্য হয়ে উঠে। পদ্ম ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এলাকাবাসীর পাশাপাশি প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসছেন এ বিলের পাড়ে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের শেষপ্রান্তে কলমীগাড়া বিল। একটি বাড়ির মাঝখান দিয়ে বিলের পাড়ে ধানক্ষেতের কিনারে পৌঁছে দেখা গেল ডিঙি নৌকায় মাছ শিকারে ব্যস্ত স্থানীয় কৃষক হারুন আলী। তার ডিঙি নৌকায় বিলের মাঝখানে গেলে হৃদয় হারিয়ে যায় ভালোলাগার অন্য জগতে। চারপাশে ফুটে আছে অনেকগুলো পদ্ম ফুল। কোনোটি আবার অভিমানে নিজেকে গুটিয়ে রেখেছে। হাত দিয়ে ছুঁয়ে দেখতে শরীরে শিহরণ খেলে যায়। বিলের চারপাশে সবুজ ধানক্ষেত আর মাঝখানে সাদা-গোলাপী রঙের পদ্ম ফুল তৈরি করেছে অন্যরকম সৌন্দর্য। সূর্যাস্তের সাথে পদ্মফুলের রঙ, রুপ তৈরি করে মোহনী আবেশ।

তবে কিছু সমস্যাও রয়েছে পদ্ম ফুলের সৌন্দর্যের মাঝে। বিলে যাতায়াতের তেমন ব্যবস্থা নেই। ডিঙি নৌকায় দু’জনের বেশি ওঠা যায় না। আর প্রকৃতিগতভাবে বেড়ে উঠা পদ্মবিলের মাঝে মাঝে কচুরিপানা ও অন্যান্য আগাছা রয়েছে। যেগুলো পরিকিল্পতভাবে নিরসন করা গেলে সৌন্দর্য আরো উপভোগ্য হবে।

সুঁইগ্রামের বাসিন্দা আতাউর রহমান স্বপন বলেন, কলমীগাড়া বিলে সাধারণত বর্ষা মৌসুমে পদ্ম ফুল ফোটা শুরু হয়। শরৎকালে বেশি ফুল ফোটে। এখানে কেউ পদ্ম ফুলের চাষ করে না। বছরের পর বছর ধরে প্রাকৃতিকভাবে এ বিলে পদ্ম ফুল ফুটে আসছে। বিলের নিচু এলাকার কিছু জমি চাষাবাদের আওতায় আসায় পদ্ম বিলের পরিধি অতীতের চেয়ে এখন অনেক কমে গেছে।

পদ্ম ফুল দেখতে আসা জাবের আল শিহাব, হুমায়ুন সজীব বলেন, গ্রাম বাংলায় পদ্ম ফুল বেশ পরিচিত। খোঁজ পেয়ে দেখতে এসেছি। বিলে পদ্ম ফুল দেখে মুগ্ধ হলাম। তবে বিলটিকে পরিকল্পিতভাবে সাজানো গেলে দর্শনার্থী আরো বাড়বে।

স্থানীয় বাসিন্দা আবেদ আলী (৫০) পাঁচ বছর ধরে বছরের ছয় মাস কলমীগাড়া বিলের পদ্ম ফুল, পদ্ম চাক ও পদ্ম পাতা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তিনি জানান, সকালে বাড়ির পাশের বিল থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা পদ্ম ফুল, পদ্ম চাক ও পদ্ম পাতা তোলেন তিনি। দশটি পদ্ম ফুলের এক আঁটি ১৫ টাকায়, ছয়টি পদ্ম চাক ১০ টাকায় এবং প্রতিটি পদ্ম পাতা ৬ টাকায় বিক্রি করেন তিনি।

চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. রুহুল কুদ্দুস ডলার বলেন, পদ্ম ফুল কেবল সৌন্দর্যের আধারই নয়, এ উদ্ভিদটি ভেষজগুন সমৃদ্ধও। এর ডাটা সবজি হিসেবে খাওয়া যায়। মানুষের শরীরের ক্যালসিয়াম ঘাটতি পূরণে, চুলকানী ও রক্ত আমাশয় নিরাময়ে এ জলজ উদ্ভিদ ও ফুল বেশ উপকারী।



সাতদিনের সেরা