kalerkantho

শনিবার । ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৭ নভেম্বর ২০২১। ২১ রবিউস সানি ১৪৪৩

কোম্পানীগঞ্জে বিএনপি'র আহ্বায়ক কমিটির বিরুদ্ধে ঝাড়ুমিছিল

দুই উপজেলা ও পৌর বিএনপির ৪টি আহ্বায়ক কমিটি গঠন

সামসুল হাসান মীরন, নোয়াখালী   

৯ অক্টোবর, ২০২১ ১৭:০৪ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



কোম্পানীগঞ্জে বিএনপি'র আহ্বায়ক কমিটির বিরুদ্ধে ঝাড়ুমিছিল

দীর্ঘ ১২ বছর নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাট উপজেলা এবং দুটি পৌরসভার বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে নোয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি এজেডএম গোলাম হায়দার বিএসসি এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুর রহমান এ ৪টি কমিটি অনুমোদন করেন। কমিটি ঘোষণার পর অন্যান্য কমিটি নিয়ে কোনো বিরোধ দেখা না গেলেও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা কমিটির বিরুদ্ধে তা বাতিলে দাবিতে আজ শনিবার বসুরহাট বাজারে তৃনমূলের কিছু বিক্ষুদ্ধ কর্মীদের ঝাড়ু মিছিল করতে দেখা গেছে।

নোয়াখালী জেলা বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক ওমর ফারুখ টপি কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাট উপজেলার এবং পৌর সভার ৪টি অনুমোদনের কথা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, দলীয় কার্যক্রম চাঙ্গা করতে জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ও বসুরহাট পৌরসভা এবং কবিরহাট উপজেলা ও পৌরসভার ৪টি আহ্বায়ক কমিটি জেলা কমিটি শুক্রবার রাতে অনুমোদন দিয়েছে। এদের মধ্যে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় নুরুল আলম শিকদারকে আহ্বায়ক এবং মাহমুদুর রহমান রিপনকে সদস্য সচিব এবং আনসার উল্যাহ, মো. জাহাঙ্গির আলম, আবদুর মতিন তোতা, অধ্যাপক কামাল উদ্দিন এবং আনিসুল এমএ কে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ৪৮ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি এবং বসুরহাট পৌরসভায় আবদুল মতিন লিটনকে আহ্বায়ক, আবদুল্লাহ আল মামুনকে সদস্য সচিব এবং শওকত হোসেন সগির, ওমর ফারুক, ছালাউদ্দিন, নজরুল ইসলাম টুকু, মাইনউদ্দিন মিন্টু, জহির উদ্দিন বাবর এবং জসিম উদ্দিন আলমগীরকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ৪০ সদস্যের উপজেলা কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

অপরদিকে কবিরহাট উপজেলায় কামরুল হুদা চৌধুরী লিটনকে আহ্বায়ক, মো. কামাল হোসেনকে সদস্য সচিব এবং মো. নুরউল্যাহ সাহাবউদ্দিন, মো. আবু বাহার, আরাফাত রহমান হাসান, মো. অজি উল্যাহ, আহসান উল্যাহ বিএসসি এবং মাহবুব মোর্শেদ দিদারকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ৪৯ সদস্যের কমিটি এবং কবিরহাট পৌরসভায় মোস্তাফিজুর রহমান মঞ্জুকে আহ্বায়ক, বেলায়েত হোসেনকে সদস্য সচিব এবং মাহফুজুর রহমান, জসিম উদ্দিন কমিশনার, রেদওয়নের রহমান শামিম, আবুল কাশেম এবং দেলোয়ার হোসেনকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ৩৬ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

কমিটি গঠনের বিষয়ে জেলা কমিটি বিশেষ নির্দেশনা দেয় তা হলো তাদের অধীন কমিটিগুলো আহ্বায়ক, সদস্য সচিব এবয় ১ম যুগ্ম আহ্বায়কের যৌথ সাক্ষরে অনুমোদিত হবে। আহবায়ক কমিটি ঘোষিত হবার পরপরই তাদের অধীন আগের কমিটি সমুহ বাতিল হবে। আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার ৯০ দিনের মধ্যে কাউন্সিলের মাধ্যমে নুতন কমিটি গঠন করতে হবে। 

এদিকে, এ কমিটি ঘোষণার পর কোম্পানীগঞ্জে বিএনপির কমিটির বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল,আহ্বায়ককে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, নোয়াখালী জেলা বিএনপির বিরুদ্ধে টাকা খেয়ে পকেট কমিটি দেওয়ার অভিযোগে সদ্য ঘোষিত কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটিকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করে বাতিলের দাবিতে ঝাড়ু মিছিল করেন উপজেলা বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। একই সময়ে উপজেলা বিএনপির নবনির্বাচিত আহ্বায়ক নুরুল আলম সিকদার ও যুগ্ম আহ্বায়ক আহছান উল্যাহকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। 

আজ শনিবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার বসুরহাট পৌরসভা এলাকার বসুরহাট বাজারে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী এ কর্মসূচি পালন করেন। এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় কমিটি ঘোষণার সাথে সাথে বিএনপির প্রবীণ নেতা কাজী একরাম নতুন কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

জানতে চাইলে বিএনপি নেতা কাজী একরাম জানান, এ কমিটিতে পদায়নের ক্ষেত্রে সিনিয়র জুনিয়র মানা হয়নি। এতে করে এ কমিটি থেকে পদত্যাগের সংখ্যাও আরো বাড়তে পারে। নতুন ঘোষিত উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আলম সিকদারের বিরুদ্ধে সরকার দলের সাথে আঁতাত করে রাজনীতি করার অভিযোগ রয়েছে। তাই তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। এমনকি তিনি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়কের যোগ্য নন। তিনি আরো বলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য প্রয়াত ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ঘোষিত উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বসুরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র ত্যাগী নেতা কামাল উদ্দিন চৌধুরীকে এ কমিটিতে যথাযথ স্থানে রাখা হয়নি। যা রাজনীতি শিষ্টাচার বহির্ভূত।

ঘোষিত কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিলে অংশ গ্রহণকারী একাধিক বিএনপি নেতাকর্মী অভিযোগ করেন, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা জামায়েতের এক নেতার থেকে জেলা বিএনপির নেতারা টাকা খেয়ে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির দুই নম্বর সদস্য করেছেন। তার এক অনুসারীকে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক করেছেন। এছাড়া ৪৮টি পদের ৪০টি পদ দেওয়া হয়েছে ওই জামায়াত নেতার অনুসারীদের। যারা প্রকৃত বিএনপি করে তাদেরকে পদবঞ্চিত করা হয়েছে।  

এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আলম সিকদার বলেন, কমিটি তো আমি করিনি। কেই মুখে মুখে পদত্যাগের কথা বললে এটার কোনো মূল্য নেই। লিখিত পেলে এ বিষয়ে আমরা পরে কথা বলব।

নোয়াখালী জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুর রহমান টাকা খেয়ে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি দেওয়ার অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন, দলের সকলের সাথে আলাপ আলোচনা করে এ কমিটি দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রয়াত ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ ছিলেন নোয়াখালী কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাট এলাকার সাবেক সংসদ সদস্য। মূলত তারই দিকনির্দেশনায় এখানে কমিটি গঠন করা হতো। তার মৃত্যুর আগে এখানে তিনি একটি কমিটি দিলেও জেলা কমিটি তা অনুমোদন করেনি। এর আগে ২০০৯ সালে সর্বশেষ কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ও বসুরহাট পৌর কমিটি হয় এবং ২০১০ সালে কবিরহাট উপজেলা ও পৌরসভার কমিটি গঠিত হয়। 



সাতদিনের সেরা