kalerkantho

শুক্রবার । ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৩ ডিসেম্বর ২০২১। ২৭ রবিউস সানি ১৪৪৩

মিয়ানমার থেকে এসেছে ২৮০০ টন পেঁয়াজ

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

৯ অক্টোবর, ২০২১ ০৮:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মিয়ানমার থেকে এসেছে ২৮০০ টন পেঁয়াজ

ভারতে পেঁয়াজ উৎপাদনকারী দক্ষিণাঞ্চলে সাম্প্রতিক বন্যা ও অতিবৃষ্টিতে অনেক ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে সরবরাহে সংকট দেখা দেওয়ায় বাংলাদেশেও পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। সে ক্ষেত্রে বিকল্প উৎস হিসেবে আমদানিকারকরা এখন মিয়ানমারের দিকে ঝুঁকছেন। এর কারণ হলো মিয়ানমারের পেঁয়াজ এখনো ভারতীয় পেঁয়াজের চেয়ে কম দামে পাওয়া যাচ্ছে।

চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারের পাইকারদের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার সেখানে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৬৫ টাকায়, ভারতীয় পেঁয়াজ ৫৫ টাকায় এবং মিয়ানমারের পেঁয়াজ ৫০ টাকায়। এক সপ্তাহ আগে সব পেঁয়াজের দাম ১৫ টাকা করে কম ছিল।

টেকনাফ স্থলবন্দর সূত্রে জানা গেছে, ভারতে পেঁয়াজের দামে অস্থিরতা শুরুর পর থেকেই এই বন্দর দিয়ে মিয়ানমারের পেঁয়াজ আমদানি বাড়তে শুরু করে। গত ১০ দিনে দুই হাজার ৮০০ টন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে মিয়ানমার থেকে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ২০ সেপ্টেম্বরের আগে দু-এক দিন পর পর পেঁয়াজের বোট আসত টেকনাফ বন্দরে। এখন প্রতিদিন দু-তিনটি বোট আসছে পেঁয়াজ নিয়ে। তবে মিয়ানমারের পেঁয়াজের চাহিদা বাড়ায় দামও কিছুটা বেড়েছে। অবশ্য তা ভারতের চেয়ে কম। ২০ সেপ্টেম্বরের আগে টেকনাফ স্থলবন্দর পর্যন্ত মিয়ানমারের পেঁয়াজের দাম পড়ত ৩১ টাকা। গত বৃহস্পতিবার টেকনাফ পর্যন্ত দাম পড়ছে ৪০ টাকা। অর্থাৎ কেজিতে ৯ টাকা দাম বেড়েছে।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, এখন সরকারিভাবে পেঁয়াজ আনার সুযোগ নেই। মিয়ানমারে লকডাউন থাকায় বিভিন্ন কম্পানি, ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর সঙ্গে চুক্তিতে পেঁয়াজ আমদানি করছেন দেশের ব্যবসায়ীরা।

টেকনাফ দিয়ে পেঁয়াজ আমদানিকারক কায়েল স্টোরের কামরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ভারতে অস্থিরতা হলে দেশেও পেঁয়াজের বাজারে দামে অস্থিরতা হবে, এটা স্বাভাবিক। এর প্রভাব মিয়ানমারেও পড়েছে।

তিনি জানান, এখন মিয়ানমার থেকে আনা পেঁয়াজ টেকনাফ স্থলবন্দর পর্যন্ত পৌঁছতে ৪০ টাকা খরচ পড়ছে। এর সঙ্গে শুল্ক এবং চট্টগ্রাম পর্যন্ত পরিবহন খরচ যোগ করলে দাম পড়ে ৪৮ থেকে ৫০ টাকা। তবে আগে যারা কিনেছে, তাদের অত খরচ পড়বে না।

কাস্টমস সূত্র জানায়, গত ২০ সেপ্টেম্বরের পর থেকেই মূলত টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে মিয়ানমারের পেঁয়াজ আসতে শুরু করে। তবে সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে গত এক সপ্তাহে।

পেঁয়াজ আমদানিকারক জারিফ ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের মালিক মনজুর মোরশেদ বলছেন, ‘আদা, রসুন, পেঁয়াজ আমদানিকারকরা শুধু গত কোরবানির ঈদেই ২০০ কোটি টাকা লোকসান গুনেছেন। সেই ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার সুযোগ ছিল এই সময়ে। কিন্তু দুই কারণে আমরা ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারব না। একটি হচ্ছে, মিয়ানমারে চলমান লকডাউন, আরেকটি হলো মিয়ানমারের ব্যবসায়ীরা নিজেরাই দাম বাড়িয়েছেন।’

তিনি জানান, আগে টেকনাফের খুব কাছের মংডু থেকে পেঁয়াজ আমদানি করতেন। লকডাউনে মংডুর বদলে টংগু থেকে আমদানি করতে হচ্ছে। টংগু থেকে আকিয়াব বন্দরে পৌঁছতে দুই দিন, সেখান থেকে কাঠের বোটে টেকনাফ বন্দরে পৌঁছতে সময় লাগে পাঁচ দিন। এখন আগের চেয়ে দু-তিন দিন সময় বেশি লাগছে। শ্রমিকসংকটে খরচও বেশি পড়ছে। তবে মিয়ানমারে লকডাউন না থাকলে অনেক বেশি দ্রুত পেঁয়াজ চলে আসত। সরবরাহ সামাল দেওয়া যেত।

অ্যাগ্রো ফুড ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রেজাউল করিম কালের কণ্ঠকে বলেন, ভারতে পেঁয়াজের সরবরাহ সংকটে বিকল্প দেশ তুরস্ক, মিসর, পাকিস্তান থেকে অনেকেই পেঁয়াজ আমদানির খোঁজখবর নিচ্ছেন, কিন্তু সেই আমদানি নির্ভর করবে ভারতের সংকট কত দিন স্থায়ী থাকে তার ওপর। গতবার পেঁয়াজ আমদানি করে অনেক ব্যবসায়ীই পথে বসেছেন। ফলে তাঁরা এবার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেই আগাবেন।



সাতদিনের সেরা