kalerkantho

সোমবার । ৯ কার্তিক ১৪২৮। ২৫ অক্টোবর ২০২১। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

পঁচন ধরা পা কাটতে চাওয়া বৃদ্ধের পাশে আকরাম

অনলাইন ডেস্ক   

৮ অক্টোবর, ২০২১ ১৯:৫৬ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



পঁচন ধরা পা কাটতে চাওয়া বৃদ্ধের পাশে আকরাম

ষাটোর্ধ্ব আব্দুল মজিদের পায়ের তলায় পঁচন ধরেছে। কিলবিল করছে পোকা। স্ত্রী কটন দিয়ে একটু পর পর ক্ষত থেকে সেগুলো বের করে স্বামীকে খানিকটা স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করছে। গাজীপুরের শ্রীপুর বাগমারা গ্রামের এই বৃদ্ধ দুর্গন্ধ আর ব্যথায় কাতরাচ্ছেন প্রায় তিন বছর হলো।

যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে সারাক্ষণ আহাজারি করেন, চান ডাক্তারের দেওয়া পরামর্শ অনুযায়ী নিজের পা কাটতে। অর্থাভাবে তাও সম্ভব হচ্ছে না। অসহায় এই ব্যক্তির খবর শুনে তার পাশে দাঁড়ালেন আমেরিকাফেরত ব্যবসায়ী আকরাম হোসেন। 

শুক্রবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে তার বাড়িতে গিয়ে চিকিৎসার পুরো দায়িত্ব নেন। দেন নগদ অর্থ। তাৎক্ষণিক ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বলে রবিবার (১০ অক্টোবর) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার বিষয়েও ব্যবস্থা করেন।

সহযোগিতা ও চিকিৎসার আশ্বাসে আব্দুল মজিদের স্ত্রী তারা বিবি ঠোঁট কামড়ে কেঁদে ফেলেন। তিনি বলেন, 'আমাদের পাশে কেউ দাঁড়াইবো এটা তো কোনোদিন চিন্তা করি নাই। আল্লাহ আপনাগো ভালা করবো।'

অসুস্থ মজিদ চেয়ারের বসে ফিসফিস করে বলেন, 'ভাইগো দয়া করে তাড়াতাড়ি আমারে হাসপাতালে পাডান। আমারে বাঁচান। পাওডা কাইটা আমি যে কয়দিন বাঁইচতে পারি।'

প্রতিবেশী ও স্বজনরা জানান, গাজীপুরের কোনাবাড়ির তুসুকা পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন তিনি। সেখানে জিন্সের প্যান্ট তৈরি হতো। রাসায়নিক মিশ্রিত পানিতে কাজ করতেন মজিদ। পায়ের সারাক্ষণ রাসায়নিক পদার্থ লেগে থাকতো। এক সময় পা থেকে চামড়া উঠতে শুরু করে। তিনি কিছুটা যন্ত্রণাবোধ করেন। এরপর বাধ্য হয়ে চাকরি ছেড়ে চলে আসেন। পরে পায়ে পঁচন ধরা শুরু হয়।

মজিদের স্ত্রী বলেন, তাদের সংসারে ১৪ বছর বয়সী ছেলে পড়াশোনা বন্ধ করে দোকানে কাজ নিয়েছে। দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। তারা অবশ্য খোঁজ রাখার সময় পায় না।

আকরাম হোসেন বাঁদশা বলেন, পায়ের অবস্থা খুবই খারাপ। দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন। একাধিক ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলেছি। রবিবার ইনশাল্লাহ তাকে ডাক্তারের পরামর্শে চিকিৎসা শুরু করবো। আমার সামান্য আয় থেকে মানবিক কাজে সহযোগিতা করতে চেষ্টা করতেছি।



সাতদিনের সেরা