kalerkantho

বুধবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ১ ডিসেম্বর ২০২১। ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

অবরোধে বেকার, জাল মেরামতে চলে সংসার

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি   

৬ অক্টোবর, ২০২১ ১৫:৩৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অবরোধে বেকার, জাল মেরামতে চলে সংসার

চলছে ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম। এ জন্য বঙ্গোপসাগরসহ নদ-নদী ও উন্মুক্ত জলাশয়ে ২২ দিন জাল ফেলা নিষিদ্ধ। ঘাটে অবস্থান করছে মাছ ধরা সব ট্রলার, নৌকা। মাছ ধরা বন্ধ মানে জেলেদের উপার্জনও বন্ধ। অবসর সময়টা শুয়ে-বসে কাটালে তো আর চুলোয় হাঁড়ি চড়বে না দরিদ্র জেলে পরিবারে। অন্য কোনো কাজও নেই তাদের হাতে। তাই দীর্ঘ সময় অলস না কাটিয়ে জাল মেরামতের কাজে নেমে পড়েছেন বেকার জেলেরা।

বুধবার (০৬ অক্টোবর) সকাল থেকে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার রাজৈর, খোন্তাকাটা, জিলবুনিয়াসহ বলেশ্বরপারের কয়েকটি এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, জেলেরা জাল মেরামতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তারা যে যার মহাজনদের ট্রলারের জালের পাশাপাশি বেশি উপার্জনের আশায় অন্য মহাজনের জালও মেরামত করছেন।

এফবি মায়ের দোয়া ট্রলারের মাঝি আলম তালুকদার বলেন, 'জাল-ট্রলারই আমাগো জীবন। এক দিন মাছ না ধরলে সংসার চলে না। ২২ দিন সাগরে যাইতে পারমু না। খামু কী? তাই মহাজনের জাল মেরামত কইরা সংসার চালাই।'

ট্রলার মালিক খোন্তাকাট গ্রামের মানিক তালুকদার জানান, তার ট্রলার অবরোধের দুই দিন আগে সাগর থেকে ঘাটে ফিরেছে। শেষ ট্রিপে এক লাখ টাকার মাছ বিক্রি করেছেন। লাভ হয়নি। তবে খরচ মিটিয়ে সমান সমান আছেন। অবরোধ শেষ হলে সাগরে যেতে হবে। এ জন্য জাল-ট্রলারে যেখানে যে সমস্যা তা মেরামত করে প্রস্তুত করে রাখছেন। জাল মেরামতের জন্য প্রতিদিন একেকজনকে ৫০০ টাকা করে দিতে হয়।

মৎস্য আড়তদার মো. হুমায়ুন কবির জানান, এ বছর ইলিশ কম পাওয়ায় শরণখোলার কোনো ব্যবসায়ী লাভের মুখ দেখেননি। মৌসুমও শেষ পর্যায়ে। অবরোধ শেষে আর দু-একটি ইলিশের ট্রিপ হতে পারে। তাতে লোকসান কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে কি না বলা যায় না। 

শরণখোলা ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মজিবর তালুকদার জানান, ২৫ আগস্ট তার নিজের ট্রলার এফবি আল্লাহর শান তলা ফেটে ১৬ জেলেসহ বঙ্গোপসাগরে ডুবে যায়। জেলেরা জীবিত উদ্ধার হলেও ট্রলারটি উদ্ধার করা যায়নি। এতে তার প্রায় ৫০ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। অথচ সরকার তাকে একটি টাকাও ক্ষতিপূরণ দেবে না।

শরণখোলা উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা এম এম পারভেজ বলেন, কোনো নিবন্ধিত জেলে মাছ ধরতে গিয়ে যদি মারা যান, তাহলে সেই পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়। তবে ট্রলার দুর্ঘটনার শিকার হলে সে ব্যাপারে কোনো সহায়তা দেওয়া হয় না। মৎস্যচাষিদের জন্য ব্যাংকঋণের ব্যবস্থা রয়েছে। কোনো ট্রলার মালিক ব্যাংকঋণের জন্য প্রত্যয়ন চাইলে আমরা দিয়ে দেব।



সাতদিনের সেরা