kalerkantho

বুধবার । ১১ কার্তিক ১৪২৮। ২৭ অক্টোবর ২০২১। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

মেয়ের সন্তান চুরি করে বিক্রি করেন মা!

গ্রেপ্তার ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

৬ অক্টোবর, ২০২১ ১৫:২২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মেয়ের সন্তান চুরি করে বিক্রি করেন মা!

বোনের বিয়ে হয়েছে বেশ কয়েক বছর আগে। কিন্তু কোলজুড়ে আসেনি সন্তান। বোন মনোয়ারাকে একটি সন্তান কিনে মাতৃত্বের স্বাদ দিতে চেয়েছিলেন ভাই মোহাম্মদ হারুন। দীর্ঘদিন খোঁজ করে পেয়ে যান দরিদ্র গৃহবধূ তানিয়ার সন্ধান। তানিয়া গর্ভাবস্থায় স্বামীর সংসার থেকে থেকে বিতাড়িত হন। স্বামীর বাড়ি থেকে ফিরে আসেন বাবার বাড়িতে। গর্ভাবস্থায় মেয়ে ফিরে আসায় চিকিৎসা ব্যয় নির্বাহ করতে হিমশিম খাচ্ছিলেন তানিয়ার মা রাবেয়া খাতুন। পরে তিনি সন্ধান পান হারুনের। দুজনের মধ্যে মৌখিক চুক্তি হয় তানিয়ার সন্তান বিক্রি করে দেওয়া হবে। দাম নির্ধারণের পর তানিয়ার চিকিৎসাসহ আনুসাঙ্গিক ব্যয়ের জন্য হারুনের কাছ থেকে গ্রহণ করেন ৫৭ হাজার টাকা।

তানিয়ার মা রাবেয়া খাতুনের বাড়ি রাঙামাটি জেলার কাউখালী উপজেলার মেডিক্যাল সদর এলাকায়। আর হারুনের বাড়ি চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায়। দুজনের এমন মৌখিক চুক্তি ও অর্থ লেনদেনের পর অপেক্ষায় থাকেন তানিয়ার সন্তান প্রসবের।

এরই মধ্যে গত ২ অক্টোবর তানিয়া ছেলে সন্তান জন্ম দেন। নবজাতক অসুস্থ হওয়ায় ভর্তি করা হয় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে। এখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তানিয়ার মা রাবেয়া খাতুন নবজাতক নাতিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রেখে তানিয়াকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল মঙ্গলবার সকালে নবজাতককে হাসপাতাল থেকে চুরি করে নিয়ে হস্তান্তর করা হয় হারুন ও মনোয়ারা বেগমের হাতে।

ওই দিন বিকেলেই তানিয়া হাসপাতালে ফিরে এসে তার সন্তানের খোঁজ করলে মা রাবেয়া বেগম অসংলগ্ন তথ্য দেন তানিয়াকে। নবজাতক চুরি হয়েছে এমন তথ্য জানানোর পর তানিয়া পাঁচলাইশ থানায় গিয়ে একটি মামলা করেন। সেই মামলায় পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে নবজাতককে উদ্ধার ও তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।

পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল কবির কালের কণ্ঠকে বলেন, মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ১০ (২) ধারায় মামলা রুজুর পর পুলিশ নবজাতক উদ্ধার অভিযান শুরু করে। এই সময় তানিয়ার মাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি নবজাতক বিক্রির তথ্য দিয়ে বলেন, গর্ভাবস্থায় তানিয়া স্বামীর বাড়ি থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর চিকিৎসা ব্যয় নির্বাহের প্রয়োজনে হারুনের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে ৫৭ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। হারুন তার নিঃসন্তান বোনের জন্য নবজাতক ক্রয় করেছিলেন।

এরপর পুলিশ মামলা দায়েরের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মনোয়ারা বেগমের বাসায় অভিযান চালিয়ে নবজাতককে উদ্ধার করে তানিয়ার কোলে ফিরিয়ে দেয়। এই মামলায় তানিয়ার মা রাবেয়া খাতুন, নিঃসন্তান নারী মনোয়ারা বেগম ও তার ভাই মোহাম্মদ হারুনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।



সাতদিনের সেরা